০৩:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
ভাঙা হৃদয়ের আগুনে গড়া শাকিরা: প্রেম, বেদনা আর বিশ্বমঞ্চের উন্মাতাল রাণীর প্রত্যাবর্তন সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, বিভাগজুড়ে আতঙ্ক রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঈদের পরপরই শুরু হতে পারে-আইনমন্ত্রী ফোনে ডুবে থাকা তরুণদের নিয়ে ব্রিটেনের উদ্বেগ, ‘কর্মহীন প্রজন্ম’ অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি মোনালিসা কীভাবে ‘ভরাট গড়ন’-এর প্রতি সম্মান শেখাতে পারে পশ্চিমকে বাঁচাতে পারে নতুন বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা স্পেসএক্সের ছায়ায় শেয়ারবাজার: কেন কিছু প্রতিষ্ঠান টিকে যাবে, বেশিরভাগ হারিয়ে যাবে এ টেল অফ টু ভিজিট পরকীয়ার জেরে সাতক্ষীরায় গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ‘মব’ উসকে দেওয়ার অভিযোগ ছাত্রদলের

পাকিস্তানে তুলা সংকট তীব্র, আমদানিতে ব্যয় হতে পারে ১২০ কোটি ডলার

পাকিস্তানে তুলা উৎপাদন ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ায় চলতি বছরে দেশটিকে ১০০ থেকে ১২০ কোটি ডলারের তুলা আমদানি করতে হতে পারে। চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন উৎপাদনের কারণে দেশটির বস্ত্রশিল্প ও কৃষি অর্থনীতি নতুন করে চাপে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুলা খাত পুনরুজ্জীবনে সরকারের পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন পাকিস্তানের খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রী রানা তানভীর হুসেইন।

সম্প্রতি পাকিস্তান বিজনেস ফোরামের একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আসন্ন বাজেটকে কেন্দ্র করে কৃষি ও তুলা খাতের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির প্রধান সংগঠক আহমদ জাওয়াদ।

তুলা খাতকে বাঁচাতে সরকারের আশ্বাস

Pakistan faces shortfall in cotton production

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, কৃষি ও তুলা পাকিস্তানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সরকার কৃষক ও জিনিং মিল মালিকদের সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর ও কৃষকবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি জানান, তুলা আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে বাস্তবসম্মত যেকোনো প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় টেকসই কৃষি উন্নয়ন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কর বৈষম্যে ক্ষতির মুখে কৃষক

পাকিস্তান বিজনেস ফোরামের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তুলাবীজ ও তেলজাত পণ্যের ওপর আরোপিত সাধারণ বিক্রয় কর প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির নেতারা বলেন, বর্তমান কর কাঠামো কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে তুলা চাষকে নিরুৎসাহিত করছে।

আহমদ জাওয়াদ বলেন, দেশের তুলা অর্থনীতি এখন বড় ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছে। দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে কৃষকদের আস্থা আরও কমে যাবে এবং উৎপাদন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

Pakistan becomes largest importer of US cotton - Business - DAWN.COM

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জিনিং কারখানা

পাকিস্তান বিজনেস ফোরামের পাঞ্জাব শাখার চেয়ারম্যান মালিক তালাত সোহেল জানান, দেশজুড়ে প্রায় অর্ধেক তুলা জিনিং কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় শিল্প খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তিনি বলেন, তুলাবীজ ও তেলজাত পণ্যের ওপর কর তুলে দিলে কৃষকরা প্রতি মণে অন্তত ৬০০ রুপি অতিরিক্ত সুবিধা পেতে পারেন। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে।

তার মতে, চলতি বছরে পাকিস্তানকে ৭০ থেকে ৭৫ লাখ বেল তুলা আমদানি করতে হতে পারে। অথচ দেশীয় উৎপাদন ৫০ থেকে ৫৫ লাখ বেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

পাকিস্তানের কৃষি ও বস্ত্রশিল্পের জন্য এই সংকট বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নীতিগত পরিবর্তন ও কৃষকদের প্রণোদনা না বাড়ালে আগামী বছরগুলোতে সংকট আরও গভীর হতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙা হৃদয়ের আগুনে গড়া শাকিরা: প্রেম, বেদনা আর বিশ্বমঞ্চের উন্মাতাল রাণীর প্রত্যাবর্তন

পাকিস্তানে তুলা সংকট তীব্র, আমদানিতে ব্যয় হতে পারে ১২০ কোটি ডলার

০১:২৯:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

পাকিস্তানে তুলা উৎপাদন ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ায় চলতি বছরে দেশটিকে ১০০ থেকে ১২০ কোটি ডলারের তুলা আমদানি করতে হতে পারে। চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন উৎপাদনের কারণে দেশটির বস্ত্রশিল্প ও কৃষি অর্থনীতি নতুন করে চাপে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুলা খাত পুনরুজ্জীবনে সরকারের পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন পাকিস্তানের খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রী রানা তানভীর হুসেইন।

সম্প্রতি পাকিস্তান বিজনেস ফোরামের একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আসন্ন বাজেটকে কেন্দ্র করে কৃষি ও তুলা খাতের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির প্রধান সংগঠক আহমদ জাওয়াদ।

তুলা খাতকে বাঁচাতে সরকারের আশ্বাস

Pakistan faces shortfall in cotton production

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, কৃষি ও তুলা পাকিস্তানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সরকার কৃষক ও জিনিং মিল মালিকদের সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর ও কৃষকবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি জানান, তুলা আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে বাস্তবসম্মত যেকোনো প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় টেকসই কৃষি উন্নয়ন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কর বৈষম্যে ক্ষতির মুখে কৃষক

পাকিস্তান বিজনেস ফোরামের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তুলাবীজ ও তেলজাত পণ্যের ওপর আরোপিত সাধারণ বিক্রয় কর প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির নেতারা বলেন, বর্তমান কর কাঠামো কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে তুলা চাষকে নিরুৎসাহিত করছে।

আহমদ জাওয়াদ বলেন, দেশের তুলা অর্থনীতি এখন বড় ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছে। দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে কৃষকদের আস্থা আরও কমে যাবে এবং উৎপাদন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

Pakistan becomes largest importer of US cotton - Business - DAWN.COM

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জিনিং কারখানা

পাকিস্তান বিজনেস ফোরামের পাঞ্জাব শাখার চেয়ারম্যান মালিক তালাত সোহেল জানান, দেশজুড়ে প্রায় অর্ধেক তুলা জিনিং কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় শিল্প খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তিনি বলেন, তুলাবীজ ও তেলজাত পণ্যের ওপর কর তুলে দিলে কৃষকরা প্রতি মণে অন্তত ৬০০ রুপি অতিরিক্ত সুবিধা পেতে পারেন। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে।

তার মতে, চলতি বছরে পাকিস্তানকে ৭০ থেকে ৭৫ লাখ বেল তুলা আমদানি করতে হতে পারে। অথচ দেশীয় উৎপাদন ৫০ থেকে ৫৫ লাখ বেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

পাকিস্তানের কৃষি ও বস্ত্রশিল্পের জন্য এই সংকট বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নীতিগত পরিবর্তন ও কৃষকদের প্রণোদনা না বাড়ালে আগামী বছরগুলোতে সংকট আরও গভীর হতে পারে।