পাকিস্তানে আবারও বেড়েছে সাপ্তাহিক মূল্যস্ফীতি। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২১ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে স্বল্পমেয়াদি মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়া, জ্বালানির উচ্চ ব্যয় এবং খাদ্যপণ্যের বাজার অস্থির থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে।
দেশটির সংবেদনশীল মূল্যসূচক অনুযায়ী, টানা ৪১ সপ্তাহ ধরে মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে। যদিও আগের তুলনায় বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে, তবুও বাজার পরিস্থিতি এখনো ভোক্তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।
জ্বালানি ও বিদ্যুতের দামে বড় ধাক্কা
সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে জ্বালানি খাতে। পেট্রোলের দাম বেড়েছে ৬২ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৬০ দশমিক ৯০ শতাংশ। বিদ্যুতের বিল বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। একই সঙ্গে তরল গ্যাসের দামও ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে প্রায় সব ধরনের পণ্যের বাজারে।

খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা
খাদ্যপণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ, টমেটো, আলু, গরুর মাংস, খাসির মাংস ও গুঁড়া দুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজের দাম বছরে ৬৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে।
এ ছাড়া আটা ও গমের ময়দার দাম প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে।
তবে কিছু পণ্যে স্বস্তিও মিলেছে। ডাল, চিনি ও ডিমের দাম আগের তুলনায় কমেছে। আলুর দামও বছরে ৪২ শতাংশের বেশি কমেছে বলে জানানো হয়েছে।
সপ্তাহভিত্তিক দামে ওঠানামা
গত এক সপ্তাহে টমেটোর দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি পেঁয়াজ, আটা, আলু, রান্না করা ডাল, চা এবং ভোজ্যতেলের দামও বেড়েছে।

অন্যদিকে মুরগির মাংসের দাম কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। বিদ্যুতের নির্দিষ্ট চার্জ, রসুন, পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের দামেও সামান্য হ্রাস দেখা গেছে।
অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ
অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকলে তা ভোক্তা ব্যয়, সঞ্চয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে খাদ্য ও জ্বালানি খাতে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় সংকট তৈরি করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















