ট্রাম্পের বেইজিং সফর শেষ হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় ভ্লাদিমির পুতিন চীনে পৌঁছান। শি জিনপিংয়ের জন্য এটি ছিল এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি বৃহৎ শক্তির সঙ্গে শীর্ষ কূটনীতির বিরল সুযোগ। কিন্তু পুতিনের অভ্যর্থনা ট্রাম্পের তুলনায় তাৎপর্যপূর্ণভাবে কম জাঁকজমকপূর্ণ ছিল। মিলিটারি গার্ড অব অনার, একুশ বার তোপধ্বনি এবং শিশুদের উচ্চকণ্ঠ স্বাগত থাকলেও ট্রাম্পকে যেভাবে স্বর্গের মন্দির ও ঝংনানহাই নেতৃত্বের আবাসে ব্যক্তিগতভাবে ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছিল, পুতিনের ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। দুই নেতার মধ্যে আগের মতো ভোদকা পান বা আইস হকি উপভোগের মতো ব্যক্তিগত উষ্ণতার প্রদর্শনীও ছিল না।

আমেরিকার বিরুদ্ধে দীর্ঘ যৌথ বিবৃতি
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের সম্পর্ক বেশ গভীর দেখানো হয়েছে। দুই নেতা একটি দীর্ঘ যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন, যেখানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার নিন্দা করা হয়েছে। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অপহরণের ঘটনার সমালোচনা রয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করা হয়েছে এবং আমেরিকার “গোল্ডেন ডোম” ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সমালোচনা করা হয়েছে। দুই নেতাই বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে এবং আমেরিকার আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
পাইপলাইন চুক্তিতে অগ্রগতি সীমিত
পুতিন চেয়েছিলেন চীনের সঙ্গে একটি নতুন গ্যাস পাইপলাইন চুক্তি সই হোক, কিন্তু সেটি সম্পূর্ণরূপে সফল হয়নি। রাশিয়া চীনের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী এবং দুই দেশের বেশিরভাগ বাণিজ্য রুবেল ও ইউয়ানে হয়, ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সীমিত। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই নেতার সম্পর্ক এখন অনেকটা সমকক্ষের বদলে পৃষ্ঠপোষক ও নির্ভরশীলের মতো হয়ে উঠেছে, যেখানে চীনই বড় ভূমিকায় রয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















