ভারতের মণিপুরে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ছয় নাগা যুবককে অপহরণের অভিযোগের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাপ বাড়ার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে জিম্মি সংকট ও অবরোধ পরিস্থিতি রাজ্যের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
অপহরণ তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থা
শনিবার ইম্ফলে ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নাগা যুবকদের অপহরণের ঘটনাটি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। বৈঠকে উপমুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
নাগা কাউন্সিলের নেতারা অভিযোগ করেন, কাংপোকপি জেলার কনসাখুল গ্রামের ছয় নাগা বাসিন্দাকে অপহরণ করা হয়েছে। তাদের দ্রুত উদ্ধারে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা দাবি করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ১৪ মে থেকেই নিখোঁজদের খুঁজতে অভিযান চলছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
জিম্মি সংকটে দুই সম্প্রদায়
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। তিন গির্জা নেতাকে হত্যার ঘটনার পর দুই পক্ষ একে অপরের সম্প্রদায়ের বহু মানুষকে আটক করে রাখার অভিযোগ ওঠে।
নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যস্থতায় পরে উভয় পক্ষের ১৪ জন করে মোট ২৮ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে এখনও কয়েকজনকে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী উভয় সম্প্রদায়ের নেতাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে জিম্মিদের মুক্ত করতে সহযোগিতা চেয়েছেন।
কুকি সংগঠনের অবরোধ অব্যাহত
এদিকে কুকি সম্প্রদায়ের শীর্ষ সংগঠন তাদের চলমান অবরোধ আরও ৪৮ ঘণ্টা বাড়িয়েছে। সংগঠনটির দাবি, নাগাদের হাতে আটক ১৪ কুকি সদস্যকে মুক্ত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থীও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে, কিছু কুকি গ্রাম এখনও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং সেসব এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
আটকে পড়া ক্যাডেটদের সরিয়ে নিল বিমান বাহিনী
রাজ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণে জাতীয় ক্যাডেট কোরের ১৩২ জন সদস্যও বিপাকে পড়েন। তারা আঞ্চলিক উড়োজাহাজ প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিতে ইম্ফলে এসেছিলেন। কিন্তু মহাসড়ক অবরোধের কারণে নির্ধারিত সময়ে ফিরতে পারেননি।
পরে ভারতীয় বিমান বাহিনীর সহায়তায় তিনটি সামরিক উড়োজাহাজ ব্যবহার করে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭২ জনকে গৌহাটি এবং ৬০ জনকে যোরহাটে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মণিপুরে দীর্ঘদিনের জাতিগত উত্তেজনা এখন আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্যোগ ও নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















