পাকিস্তানের অস্থির বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটায় যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। রোববারের এই হামলায় ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণের পর এলাকাজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্ক তৈরি হয়।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনটি কোয়েটা শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় রেললাইনের পাশে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলটি এমন একটি এলাকা যেখানে সাধারণত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রাস্তার পাশে থাকা একাধিক গাড়ি ভেঙে যায়।
হাসপাতালে জরুরি অবস্থা
কোয়েটার বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ৩০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিস্ফোরণের পর শহরের হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
বেলুচিস্তান সরকারের কর্মকর্তা বাবর ইউসুফজাই জানান, বিস্ফোরণের কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হামলার পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

সন্দেহের তীর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দিকে
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, এর পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) জড়িত থাকতে পারে। অতীতে একই ধরনের হামলার দায় নিয়েছিল সংগঠনটি।
খনিজ ও জ্বালানি সম্পদসমৃদ্ধ বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতায় অস্থির। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এসব গোষ্ঠী প্রায়ই নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি স্থাপনা এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
সরকারের কঠোর অবস্থান
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, নিরীহ মানুষের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
পাকিস্তান সরকার দাবি করে আসছে যে বেলুচিস্তানের বিদ্রোহ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালেও বেলুচিস্তানের একটি রেলস্টেশনে আত্মঘাতী হামলায় সেনাসদস্যসহ অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন।
কোয়েটার সর্বশেষ এই বিস্ফোরণ আবারও প্রমাণ করল, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই প্রদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও ভঙ্গুর এবং সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















