ভারতের বিহার রাজ্যকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে শিগগিরই নতুন ‘এআই নীতি’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতের উন্নয়ন ও অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।
শনিবার ‘বিহার এআই সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যোগাযোগ প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে এআই মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। তরুণদের নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিহারকে একটি আধুনিক প্রযুক্তিকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
এআই ঘিরে বড় পরিকল্পনা
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিহারকে প্রযুক্তিনির্ভর রাজ্যে পরিণত করতে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, এআই ব্যবহার করে রাজ্যকে ভারতের অন্যতম উন্নত অঞ্চলে রূপান্তর করা সম্ভব।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে প্রায় ১২০ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। এর ফলে দেশে এক ধরনের যোগাযোগ বিপ্লব তৈরি হয়েছে। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।

তরুণদের প্রতি আহ্বান
সম্রাট চৌধুরী তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুন চিন্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিহারকে এআই খাতে শক্তিশালী অবস্থানে নেওয়া সম্ভব। এজন্য সরকার নীতিগত সহায়তা ও অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
অবকাঠামো উন্নয়নেও জোর
প্রযুক্তির পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও বড় ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রায় ৩০ হাজার কোটি রুপি ব্যয়ে ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্প রাজ্যের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা
আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিতব্য মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে বিনামূল্যে বাসসেবা চালু করা হবে। এছাড়া পুরো প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রস্তুত রাখা হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















