০২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
রুপির স্থিতিশীলতায় ‘যা প্রয়োজন তাই করবে’ আরবিআই, বললেন গভর্নর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ইঙ্গিত, ‘চুক্তি না হলে অন্য পথ’ হুঁশিয়ারি রুবিওর ভারতে তাপপ্রবাহে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র, চাহিদা ছাড়াল ২৭০ গিগাওয়াট জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান, র‍্যাব ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় আটক ২০–২৫ যুবসমাজের কণ্ঠরোধ করে ভবিষ্যৎ রক্ষা করা যায় না ট্রাম্প-ভীতির আমেরিকা এবং এক নারীর অস্বস্তিকর সাহস চিকিৎসাব্যবস্থা যখন শোনে না, রোগীরা তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে যায় তারকা হোটেলের বিলাসবহুল স্যুটে এনসিপির সাক্ষাৎকার, ক্ষোভ তৃণমূল নেতাকর্মীদের হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, দুই মাসে ৫২৮ শিশুর মৃত্যু সিলেটে হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫

চিকিৎসাব্যবস্থা যখন শোনে না, রোগীরা তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে যায়

একসময় মনে করা হতো, চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে অমূল্য অংশটি হলো মানুষের স্পর্শ—একজন চিকিৎসকের ধৈর্য, সহানুভূতি, আশ্বাস আর মনোযোগ। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, সেই মানবিক সম্পর্ককে কখনও প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবতা এখন এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে বহু রোগী চিকিৎসকের চেয়ে বেশি স্বস্তি পাচ্ছেন একটি চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলে। প্রশ্ন হচ্ছে, এর কারণ কী?

সমস্যার শুরু প্রযুক্তি দিয়ে নয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভেতরের শূন্যতা দিয়ে। আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ক্রমেই দক্ষতা, গতি আর উৎপাদনশীলতার দিকে ঝুঁকেছে। রোগীকে বোঝা বা তার জীবনযাত্রার বাস্তবতা নিয়ে কথা বলার সময় চিকিৎসকদের হাতে কমে এসেছে। পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে কয়েকটি সাধারণ পরামর্শ লেখা, তারপর পরবর্তী রোগীর দিকে এগিয়ে যাওয়া—এটাই যেন এখন স্বাভাবিক নিয়ম।

কিন্তু রোগীরা শুধু তথ্য চান না। তারা চান ব্যাখ্যা, পুনরায় আশ্বাস, ব্যক্তিগত বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যায় এমন পরামর্শ এবং এমন কাউকে, যে বিরক্ত না হয়ে একই প্রশ্ন বারবার শুনবে।

এই জায়গাতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অপ্রত্যাশিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

From Diagnosis To Treatment: 10 Ways AI Is Transforming Healthcare |  Bernard Marr

অনেকেই এখন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্ন নিয়ে চ্যাটবটের কাছে যাচ্ছেন। কেউ খাদ্যাভ্যাস নিয়ে জানতে চাইছেন, কেউ রক্তপরীক্ষার ফল বুঝতে চাইছেন, কেউ জানতে চাইছেন তাদের উদ্বেগ স্বাভাবিক কি না। বিস্ময়কর বিষয় হলো, মানুষ প্রায়ই সেখানে এমন এক ধরনের মনোযোগ পাচ্ছেন, যা বাস্তব চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনুপস্থিত।

চ্যাটবট কখনও ক্লান্ত হয় না। বিরক্ত হয় না। প্রশ্নকে “অপ্রয়োজনীয়” মনে করে না। ব্যবহারকারীর জীবনযাত্রা, সীমাবদ্ধতা কিংবা মানসিক অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারে। আর এই ধারাবাহিক সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাই মানুষকে তার দিকে টানছে।

অবশ্যই এখানে বিপদের জায়গাও আছে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভুল করতে পারে, ভুল তথ্য দিতে পারে, এমনকি বিপজ্জনক পরামর্শও দিতে পারে। তাই এটিকে চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে দেখা বিপজ্জনক। রোগ নির্ণয়, জটিল সিদ্ধান্ত বা জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে মানুষের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার বিকল্প এখনো নেই।

তবে আরেকটি সত্য অস্বীকার করার উপায়ও নেই—অনেক রোগী আজ এমন কিছু খুঁজছেন, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থা তাদের ধারাবাহিকভাবে দিতে পারছে না। সেটি হলো মনোযোগ।

A new study found AI's medical diagnoses were better than human doctors —  but there's a catch | Vox

বর্তমান চিকিৎসাব্যবস্থায় চিকিৎসকদের ওপর চাপ এত বেশি যে দীর্ঘ সময় নিয়ে কথা বলা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। কয়েক মিনিটের সাক্ষাতে একজন মানুষের ভয়, অনিশ্চয়তা বা দৈনন্দিন বাস্তবতা বোঝা কঠিন। ফলে রোগীরা হাসপাতাল বা চেম্বার থেকে বেরিয়ে এসে আবার উত্তর খুঁজতে থাকেন—ইন্টারনেটে, ভিডিওতে, কিংবা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে।

এই পরিবর্তনকে শুধু আতঙ্কের চোখে দেখলে হবে না। বরং বুঝতে হবে, রোগীরা কেন সেখানে যাচ্ছে।

সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে বড় শক্তি তার জ্ঞানভাণ্ডার নয়, বরং তার প্রতিক্রিয়ার ধরন। মানুষ যখন উদ্বিগ্ন থাকে, তখন সে কেবল তথ্য নয়, সম্পর্কও খোঁজে। একজন রোগী হয়তো একই প্রশ্ন বারবার করছেন, কারণ তিনি উত্তর জানেন না তা নয়; বরং তিনি আশ্বাস চান। বাস্তব চিকিৎসাব্যবস্থায় সেই ধৈর্য ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে।

এখানেই চিকিৎসকদের জন্য বড় শিক্ষা রয়েছে। ভবিষ্যতের চিকিৎসা কেবল রোগ শনাক্ত করার দক্ষতা দিয়ে বিচার হবে না; রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের গুণগত মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ যদি একটি যন্ত্র একজন মানুষকে বেশি “শোনা হয়েছে” বলে অনুভব করাতে পারে, তাহলে সেটি চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য অস্বস্তিকর হলেও গুরুত্বপূর্ণ একটি সতর্কবার্তা।

Why your AI doctor doesn't follow HIPAA: The hidden risks of medical  chatbots | CyberScoop

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে হয়তো পুরোপুরি বিশ্বাস করা যাবে না। কিন্তু রোগীরা কেন সেটির দিকে ঝুঁকছেন, সেই কারণগুলো উপেক্ষা করাও সম্ভব নয়। চিকিৎসাব্যবস্থা যদি মানুষের সময়, মনোযোগ ও সহানুভূতির চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এমন জায়গায় যাবে, যেখানে অন্তত তাদের কথা শোনা হয় বলে মনে হয়।

আজকের বাস্তবতায় প্রশ্নটি আর এই নয় যে মানুষ স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করবে কি না। তারা ইতোমধ্যেই করছে। আসল প্রশ্ন হলো, চিকিৎসাব্যবস্থা কীভাবে এই বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবে—এবং একই সঙ্গে মানবিক চিকিৎসার মূল্য কীভাবে পুনরুদ্ধার করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রুপির স্থিতিশীলতায় ‘যা প্রয়োজন তাই করবে’ আরবিআই, বললেন গভর্নর

চিকিৎসাব্যবস্থা যখন শোনে না, রোগীরা তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে যায়

০১:২৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

একসময় মনে করা হতো, চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে অমূল্য অংশটি হলো মানুষের স্পর্শ—একজন চিকিৎসকের ধৈর্য, সহানুভূতি, আশ্বাস আর মনোযোগ। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, সেই মানবিক সম্পর্ককে কখনও প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবতা এখন এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে বহু রোগী চিকিৎসকের চেয়ে বেশি স্বস্তি পাচ্ছেন একটি চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলে। প্রশ্ন হচ্ছে, এর কারণ কী?

সমস্যার শুরু প্রযুক্তি দিয়ে নয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভেতরের শূন্যতা দিয়ে। আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ক্রমেই দক্ষতা, গতি আর উৎপাদনশীলতার দিকে ঝুঁকেছে। রোগীকে বোঝা বা তার জীবনযাত্রার বাস্তবতা নিয়ে কথা বলার সময় চিকিৎসকদের হাতে কমে এসেছে। পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে কয়েকটি সাধারণ পরামর্শ লেখা, তারপর পরবর্তী রোগীর দিকে এগিয়ে যাওয়া—এটাই যেন এখন স্বাভাবিক নিয়ম।

কিন্তু রোগীরা শুধু তথ্য চান না। তারা চান ব্যাখ্যা, পুনরায় আশ্বাস, ব্যক্তিগত বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যায় এমন পরামর্শ এবং এমন কাউকে, যে বিরক্ত না হয়ে একই প্রশ্ন বারবার শুনবে।

এই জায়গাতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অপ্রত্যাশিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

From Diagnosis To Treatment: 10 Ways AI Is Transforming Healthcare |  Bernard Marr

অনেকেই এখন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্ন নিয়ে চ্যাটবটের কাছে যাচ্ছেন। কেউ খাদ্যাভ্যাস নিয়ে জানতে চাইছেন, কেউ রক্তপরীক্ষার ফল বুঝতে চাইছেন, কেউ জানতে চাইছেন তাদের উদ্বেগ স্বাভাবিক কি না। বিস্ময়কর বিষয় হলো, মানুষ প্রায়ই সেখানে এমন এক ধরনের মনোযোগ পাচ্ছেন, যা বাস্তব চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনুপস্থিত।

চ্যাটবট কখনও ক্লান্ত হয় না। বিরক্ত হয় না। প্রশ্নকে “অপ্রয়োজনীয়” মনে করে না। ব্যবহারকারীর জীবনযাত্রা, সীমাবদ্ধতা কিংবা মানসিক অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারে। আর এই ধারাবাহিক সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাই মানুষকে তার দিকে টানছে।

অবশ্যই এখানে বিপদের জায়গাও আছে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভুল করতে পারে, ভুল তথ্য দিতে পারে, এমনকি বিপজ্জনক পরামর্শও দিতে পারে। তাই এটিকে চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে দেখা বিপজ্জনক। রোগ নির্ণয়, জটিল সিদ্ধান্ত বা জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে মানুষের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার বিকল্প এখনো নেই।

তবে আরেকটি সত্য অস্বীকার করার উপায়ও নেই—অনেক রোগী আজ এমন কিছু খুঁজছেন, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থা তাদের ধারাবাহিকভাবে দিতে পারছে না। সেটি হলো মনোযোগ।

A new study found AI's medical diagnoses were better than human doctors —  but there's a catch | Vox

বর্তমান চিকিৎসাব্যবস্থায় চিকিৎসকদের ওপর চাপ এত বেশি যে দীর্ঘ সময় নিয়ে কথা বলা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। কয়েক মিনিটের সাক্ষাতে একজন মানুষের ভয়, অনিশ্চয়তা বা দৈনন্দিন বাস্তবতা বোঝা কঠিন। ফলে রোগীরা হাসপাতাল বা চেম্বার থেকে বেরিয়ে এসে আবার উত্তর খুঁজতে থাকেন—ইন্টারনেটে, ভিডিওতে, কিংবা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে।

এই পরিবর্তনকে শুধু আতঙ্কের চোখে দেখলে হবে না। বরং বুঝতে হবে, রোগীরা কেন সেখানে যাচ্ছে।

সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে বড় শক্তি তার জ্ঞানভাণ্ডার নয়, বরং তার প্রতিক্রিয়ার ধরন। মানুষ যখন উদ্বিগ্ন থাকে, তখন সে কেবল তথ্য নয়, সম্পর্কও খোঁজে। একজন রোগী হয়তো একই প্রশ্ন বারবার করছেন, কারণ তিনি উত্তর জানেন না তা নয়; বরং তিনি আশ্বাস চান। বাস্তব চিকিৎসাব্যবস্থায় সেই ধৈর্য ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে।

এখানেই চিকিৎসকদের জন্য বড় শিক্ষা রয়েছে। ভবিষ্যতের চিকিৎসা কেবল রোগ শনাক্ত করার দক্ষতা দিয়ে বিচার হবে না; রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের গুণগত মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ যদি একটি যন্ত্র একজন মানুষকে বেশি “শোনা হয়েছে” বলে অনুভব করাতে পারে, তাহলে সেটি চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য অস্বস্তিকর হলেও গুরুত্বপূর্ণ একটি সতর্কবার্তা।

Why your AI doctor doesn't follow HIPAA: The hidden risks of medical  chatbots | CyberScoop

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে হয়তো পুরোপুরি বিশ্বাস করা যাবে না। কিন্তু রোগীরা কেন সেটির দিকে ঝুঁকছেন, সেই কারণগুলো উপেক্ষা করাও সম্ভব নয়। চিকিৎসাব্যবস্থা যদি মানুষের সময়, মনোযোগ ও সহানুভূতির চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এমন জায়গায় যাবে, যেখানে অন্তত তাদের কথা শোনা হয় বলে মনে হয়।

আজকের বাস্তবতায় প্রশ্নটি আর এই নয় যে মানুষ স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করবে কি না। তারা ইতোমধ্যেই করছে। আসল প্রশ্ন হলো, চিকিৎসাব্যবস্থা কীভাবে এই বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবে—এবং একই সঙ্গে মানবিক চিকিৎসার মূল্য কীভাবে পুনরুদ্ধার করবে।