০২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
রুপির স্থিতিশীলতায় ‘যা প্রয়োজন তাই করবে’ আরবিআই, বললেন গভর্নর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ইঙ্গিত, ‘চুক্তি না হলে অন্য পথ’ হুঁশিয়ারি রুবিওর ভারতে তাপপ্রবাহে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র, চাহিদা ছাড়াল ২৭০ গিগাওয়াট জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান, র‍্যাব ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় আটক ২০–২৫ যুবসমাজের কণ্ঠরোধ করে ভবিষ্যৎ রক্ষা করা যায় না ট্রাম্প-ভীতির আমেরিকা এবং এক নারীর অস্বস্তিকর সাহস চিকিৎসাব্যবস্থা যখন শোনে না, রোগীরা তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে যায় তারকা হোটেলের বিলাসবহুল স্যুটে এনসিপির সাক্ষাৎকার, ক্ষোভ তৃণমূল নেতাকর্মীদের হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, দুই মাসে ৫২৮ শিশুর মৃত্যু সিলেটে হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫

ট্রাম্প-ভীতির আমেরিকা এবং এক নারীর অস্বস্তিকর সাহস

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে আমেরিকার রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাঁর ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা ভাষার বাইরে আরও একটি বিষয় ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে—ভয়। এই ভয় কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নয়; এটি সাংস্কৃতিক পরিসর, গণমাধ্যম, বিনোদন শিল্প এবং ব্যক্তিগত সাহসের ওপরও দীর্ঘ ছায়া ফেলছে। আর সেই বাস্তবতার মাঝখানে ই. জিন ক্যারলের গল্প এখন কেবল একজন নারীর অভিযোগের ইতিহাস নয়, বরং ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সামাজিক মূল্য কতটা গভীর হতে পারে, তারও একটি প্রতীক।

আইভি মিরোপলের লেখাটি মূলত এই ভয়ের আবহ এবং তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিরোধের অভিজ্ঞতা নিয়ে। একজন তথ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে তিনি দেখেছেন, কীভাবে ট্রাম্পকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চাপ মানুষের আচরণ বদলে দেয়। কেউ প্রকাশ্যে সমর্থন জানাতে দ্বিধায় ভোগেন, কেউ পিছু হটেন, আবার কেউ কেবল ঝুঁকি এড়ানোর জন্য নীরব থাকেন।

ই. জিন ক্যারল বহু বছর ধরে আমেরিকার পরিচিত সাংবাদিক ও পরামর্শদাতা কলামিস্ট ছিলেন। নিউইয়র্কের মিডিয়া ও সংস্কৃতির জগতে তাঁর পরিচিতি ছিল প্রবল। কিন্তু ২০১৯ সালে তিনি যখন প্রকাশ্যে জানান যে বহু বছর আগে ট্রাম্প তাঁকে যৌনভাবে আক্রমণ করেছিলেন, তখন তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দ্রুত জাতীয় রাজনৈতিক সংঘর্ষের কেন্দ্রে পরিণত হয়। অভিযোগ প্রকাশের পর ট্রাম্প সরাসরি তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ঘটনাটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই।

Who is E Jean Carroll? The advice columnist, author and TV talkshow host  taking on Donald Trump

এই লড়াইয়ের তাৎপর্য শুধু আদালতের রায়ে সীমাবদ্ধ নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমেরিকার মতো একটি গণতান্ত্রিক সমাজে একজন নারীকে নিজের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে কী পরিমাণ সামাজিক ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা চালানো মানে শুধু একজন সাবেক বা বর্তমান প্রেসিডেন্টকে চ্যালেঞ্জ করা নয়; এর অর্থ এমন এক ক্ষমতার কাঠামোর মুখোমুখি হওয়া, যেখানে ব্যক্তিগত আক্রমণ, জনসমক্ষে অপমান এবং সমর্থকদের সংগঠিত প্রতিক্রিয়া একসঙ্গে কাজ করে।

ক্যারলকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রের পরিচালক আইভি মিরোপলের অভিজ্ঞতাও এই বাস্তবতাকে নতুনভাবে তুলে ধরে। একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণ সাধারণত সাংস্কৃতিক পরিসরের কাজ। কিন্তু এখানে সেটিও ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ভয়ের পরীক্ষাগারে পরিণত হয়। কেউ নাম সরিয়ে নেন, কেউ দূরে সরে যান, কেউ প্রকাশ্যে যুক্ত থাকতে অনিচ্ছুক হয়ে ওঠেন। এমনকি একটি চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতার পরও পরিবেশক খুঁজে না পাওয়ার অভিজ্ঞতা প্রশ্ন তোলে—সমস্যা কি কেবল বাজারের, নাকি রাজনৈতিক চাপের অদৃশ্য উপস্থিতিও এখানে কাজ করছে?

আমেরিকার সাম্প্রতিক বাস্তবতায় এই প্রশ্ন অস্বস্তিকর হলেও অযৌক্তিক নয়। কারণ ট্রাম্প-যুগে সমালোচনার মূল্য বেড়েছে। গণমাধ্যম, টেলিভিশন উপস্থাপক, কৌতুকশিল্পী কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রায়ই সংগঠিত আক্রমণের মুখে পড়েছেন। সমালোচককে শুধু ভুল বলা হয় না; তাঁকে অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত বা “রাষ্ট্রবিরোধী” হিসেবে চিত্রিত করার প্রবণতাও তৈরি হয়েছে। এতে একটি বৃহৎ সামাজিক সংকেত ছড়িয়ে পড়ে—বিরোধিতা করলে ব্যক্তিগত মূল্য দিতে হবে।

এই ভয়ের সংস্কৃতি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয় তখনই, যখন সরাসরি সেন্সরশিপের দরকার পড়ে না। মানুষ নিজেই দূরে সরে যায়, নিজেকে গুটিয়ে নেয়, ঝুঁকি এড়াতে চায়। কোনো প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা দেয় না, কিন্তু সবাই বুঝে যায় কোন বিষয় স্পর্শ করা নিরাপদ, আর কোনটি নয়। গণতন্ত্রের জন্য এ এক সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর সংকট। কারণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেবল আইনের প্রশ্ন নয়; এটি সামাজিক সাহসেরও প্রশ্ন।

E. Jean Carroll: From Advice Columnist to Symbol of Accountability | The  Swamp

তবু ই. জিন ক্যারলের গল্প পুরোপুরি হতাশার নয়। কারণ এই ঘটনায় আরেকটি বাস্তবতাও সামনে এসেছে—সংহতির শক্তি। #মিটু আন্দোলনের পর বহু নারী নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার সাহস পেয়েছিলেন। সেই সম্মিলিত অভিজ্ঞতা আবার ক্যারলকেও এগিয়ে যেতে শক্তি দেয়। পরে তাঁর অবস্থান অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। এই ধারাবাহিকতা দেখায়, ভয় যেমন ছড়ায়, সাহসও তেমন সংক্রামক হতে পারে।

এখানে মূল বিষয় ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে কেমন মানুষ, সেটি নয়। বরং প্রশ্ন হলো, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে এমন এক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে কি না, যেখানে মানুষ সত্য বলা বা সমালোচনা করার আগে নিজের নিরাপত্তা, পেশা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে হিসাব কষতে বাধ্য হয়। যদি সেটিই বাস্তবতা হয়ে ওঠে, তাহলে সমস্যাটি আর ব্যক্তিগত নয়; সেটি প্রাতিষ্ঠানিক।

গণতন্ত্রের শক্তি কেবল নির্বাচনে নয়, বরং সেই সমাজে কত মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারে, তার ওপরও নির্ভর করে। আর সেই দিক থেকে ই. জিন ক্যারলের অভিজ্ঞতা আমেরিকার জন্য একটি সতর্কবার্তা। কারণ ভয় যখন সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়, তখন নীরবতা আর নিরপেক্ষতা এক জিনিস থাকে না। কখনও কখনও নীরবতাও ক্ষমতার পক্ষে কাজ করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রুপির স্থিতিশীলতায় ‘যা প্রয়োজন তাই করবে’ আরবিআই, বললেন গভর্নর

ট্রাম্প-ভীতির আমেরিকা এবং এক নারীর অস্বস্তিকর সাহস

০১:৫৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে আমেরিকার রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাঁর ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা ভাষার বাইরে আরও একটি বিষয় ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে—ভয়। এই ভয় কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নয়; এটি সাংস্কৃতিক পরিসর, গণমাধ্যম, বিনোদন শিল্প এবং ব্যক্তিগত সাহসের ওপরও দীর্ঘ ছায়া ফেলছে। আর সেই বাস্তবতার মাঝখানে ই. জিন ক্যারলের গল্প এখন কেবল একজন নারীর অভিযোগের ইতিহাস নয়, বরং ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সামাজিক মূল্য কতটা গভীর হতে পারে, তারও একটি প্রতীক।

আইভি মিরোপলের লেখাটি মূলত এই ভয়ের আবহ এবং তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিরোধের অভিজ্ঞতা নিয়ে। একজন তথ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে তিনি দেখেছেন, কীভাবে ট্রাম্পকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চাপ মানুষের আচরণ বদলে দেয়। কেউ প্রকাশ্যে সমর্থন জানাতে দ্বিধায় ভোগেন, কেউ পিছু হটেন, আবার কেউ কেবল ঝুঁকি এড়ানোর জন্য নীরব থাকেন।

ই. জিন ক্যারল বহু বছর ধরে আমেরিকার পরিচিত সাংবাদিক ও পরামর্শদাতা কলামিস্ট ছিলেন। নিউইয়র্কের মিডিয়া ও সংস্কৃতির জগতে তাঁর পরিচিতি ছিল প্রবল। কিন্তু ২০১৯ সালে তিনি যখন প্রকাশ্যে জানান যে বহু বছর আগে ট্রাম্প তাঁকে যৌনভাবে আক্রমণ করেছিলেন, তখন তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দ্রুত জাতীয় রাজনৈতিক সংঘর্ষের কেন্দ্রে পরিণত হয়। অভিযোগ প্রকাশের পর ট্রাম্প সরাসরি তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ঘটনাটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই।

Who is E Jean Carroll? The advice columnist, author and TV talkshow host  taking on Donald Trump

এই লড়াইয়ের তাৎপর্য শুধু আদালতের রায়ে সীমাবদ্ধ নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমেরিকার মতো একটি গণতান্ত্রিক সমাজে একজন নারীকে নিজের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে কী পরিমাণ সামাজিক ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা চালানো মানে শুধু একজন সাবেক বা বর্তমান প্রেসিডেন্টকে চ্যালেঞ্জ করা নয়; এর অর্থ এমন এক ক্ষমতার কাঠামোর মুখোমুখি হওয়া, যেখানে ব্যক্তিগত আক্রমণ, জনসমক্ষে অপমান এবং সমর্থকদের সংগঠিত প্রতিক্রিয়া একসঙ্গে কাজ করে।

ক্যারলকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রের পরিচালক আইভি মিরোপলের অভিজ্ঞতাও এই বাস্তবতাকে নতুনভাবে তুলে ধরে। একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণ সাধারণত সাংস্কৃতিক পরিসরের কাজ। কিন্তু এখানে সেটিও ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ভয়ের পরীক্ষাগারে পরিণত হয়। কেউ নাম সরিয়ে নেন, কেউ দূরে সরে যান, কেউ প্রকাশ্যে যুক্ত থাকতে অনিচ্ছুক হয়ে ওঠেন। এমনকি একটি চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতার পরও পরিবেশক খুঁজে না পাওয়ার অভিজ্ঞতা প্রশ্ন তোলে—সমস্যা কি কেবল বাজারের, নাকি রাজনৈতিক চাপের অদৃশ্য উপস্থিতিও এখানে কাজ করছে?

আমেরিকার সাম্প্রতিক বাস্তবতায় এই প্রশ্ন অস্বস্তিকর হলেও অযৌক্তিক নয়। কারণ ট্রাম্প-যুগে সমালোচনার মূল্য বেড়েছে। গণমাধ্যম, টেলিভিশন উপস্থাপক, কৌতুকশিল্পী কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রায়ই সংগঠিত আক্রমণের মুখে পড়েছেন। সমালোচককে শুধু ভুল বলা হয় না; তাঁকে অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত বা “রাষ্ট্রবিরোধী” হিসেবে চিত্রিত করার প্রবণতাও তৈরি হয়েছে। এতে একটি বৃহৎ সামাজিক সংকেত ছড়িয়ে পড়ে—বিরোধিতা করলে ব্যক্তিগত মূল্য দিতে হবে।

এই ভয়ের সংস্কৃতি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয় তখনই, যখন সরাসরি সেন্সরশিপের দরকার পড়ে না। মানুষ নিজেই দূরে সরে যায়, নিজেকে গুটিয়ে নেয়, ঝুঁকি এড়াতে চায়। কোনো প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা দেয় না, কিন্তু সবাই বুঝে যায় কোন বিষয় স্পর্শ করা নিরাপদ, আর কোনটি নয়। গণতন্ত্রের জন্য এ এক সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর সংকট। কারণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেবল আইনের প্রশ্ন নয়; এটি সামাজিক সাহসেরও প্রশ্ন।

E. Jean Carroll: From Advice Columnist to Symbol of Accountability | The  Swamp

তবু ই. জিন ক্যারলের গল্প পুরোপুরি হতাশার নয়। কারণ এই ঘটনায় আরেকটি বাস্তবতাও সামনে এসেছে—সংহতির শক্তি। #মিটু আন্দোলনের পর বহু নারী নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার সাহস পেয়েছিলেন। সেই সম্মিলিত অভিজ্ঞতা আবার ক্যারলকেও এগিয়ে যেতে শক্তি দেয়। পরে তাঁর অবস্থান অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। এই ধারাবাহিকতা দেখায়, ভয় যেমন ছড়ায়, সাহসও তেমন সংক্রামক হতে পারে।

এখানে মূল বিষয় ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে কেমন মানুষ, সেটি নয়। বরং প্রশ্ন হলো, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে এমন এক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে কি না, যেখানে মানুষ সত্য বলা বা সমালোচনা করার আগে নিজের নিরাপত্তা, পেশা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে হিসাব কষতে বাধ্য হয়। যদি সেটিই বাস্তবতা হয়ে ওঠে, তাহলে সমস্যাটি আর ব্যক্তিগত নয়; সেটি প্রাতিষ্ঠানিক।

গণতন্ত্রের শক্তি কেবল নির্বাচনে নয়, বরং সেই সমাজে কত মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারে, তার ওপরও নির্ভর করে। আর সেই দিক থেকে ই. জিন ক্যারলের অভিজ্ঞতা আমেরিকার জন্য একটি সতর্কবার্তা। কারণ ভয় যখন সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়, তখন নীরবতা আর নিরপেক্ষতা এক জিনিস থাকে না। কখনও কখনও নীরবতাও ক্ষমতার পক্ষে কাজ করে।