০৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
শেখ হাসিনা ফিরলে বিমানবন্দর থেকেই ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে: এনসিপির নাহিদ ইসলামের বক্তব্য গ্যাস সংকট তীব্র: শিল্প উৎপাদন ব্যাহত, রপ্তানি ঝুঁকিতে, দুর্ভোগে নগরজীবন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ঠেকাতে ভারতের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতায় ইতিবাচক বাংলাদেশ, সব সিদ্ধান্ত হবে জাতীয় স্বার্থে পাবনার যমুনায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দুই স্কুলছাত্র, চলছে যৌথ উদ্ধার অভিযান বারবার শহর বদলানোর জীবন: গভীর শিকড় নয়, বিস্তৃত অভিজ্ঞতাই তার পরিচয় জেন জেড: পরিচয়ের নয়, মানসিকতার নতুন রাজনৈতিক শক্তি ভারতে জ্বালানি ব্যবহারে বড় উল্লম্ফন, এলপিজি চাহিদায় পতন পজিতানোর চেয়েও মুগ্ধকর ইতালির ছোট্ট শহর মিনোরি, যেখানে মিলবে আসল আমালফি উপকূলের স্বাদ স্পেসএক্সের বিনিয়োগকারী প্রশ্নমঞ্চ ভরে গেছে ক্রিপ্টো, মিম আর ‘অ্যাস্টেরয়েড’ নিয়ে আলোচনায়

ইউরোজোনের শিল্পখাতে গতি কমেছে, মূল্যস্ফীতির নতুন চাপের শঙ্কা

মে মাসে ইউরোজোনের উৎপাদনশিল্পে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পণ্যের চাহিদা স্থবির হয়ে পড়া, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধঘন পরিস্থিতির কারণে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি শিল্পখাতকে নতুন চাপে ফেলেছে। এর ফলে আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উৎপাদন বাড়লেও গতি কমেছে

সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ইউরোজোনের উৎপাদনশিল্প সূচক মে মাসে ৫১.৬-এ নেমে এসেছে, যা এপ্রিলের ৫২.২ থেকে কম। যদিও সূচক ৫০-এর ওপরে থাকায় খাতটি এখনও প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে, তবে প্রবৃদ্ধির গতি স্পষ্টভাবে শ্লথ হয়েছে।

টানা চার মাস ধরে সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলেও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি ব্যয় এবং সরবরাহ সংকটের কারণে চাপ অনুভব করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত অস্থিরতা সরবরাহব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

নতুন অর্ডারে স্থবিরতা

এপ্রিল মাসে চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে নতুন অর্ডার বৃদ্ধি পেলেও মে মাসে সেই ধারা থেমে গেছে। নতুন অর্ডার কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি আদেশও কমেছে, যা সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্য এবং অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিবেশ ক্রেতাদের ব্যয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। ফলে উৎপাদকদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

কর্মসংস্থানে দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা

কারখানার উৎপাদন বাড়লেও তার গতি জানুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। উৎপাদন সূচক চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে শিল্পখাতে কর্মসংস্থান টানা তিন বছর ধরে কমছে। আগামী এক বছরের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও আশাবাদী থাকলেও সেই আস্থা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় কম।

German manufacturing dips in September on fall in new orders, PMI shows |  Reuters

ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে

জ্বালানি এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে বেড়েছে। বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে পণ্যের বিক্রয়মূল্যও সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দ্রুততম হারে বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হবে। তবে উচ্চমূল্যের কারণে চাহিদা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও সমানভাবে বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য কঠিন সময়

সরবরাহব্যবস্থার বিলম্বও আরও তীব্র হয়েছে, যা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকদের সামনে কঠিন ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে দুর্বল চাহিদার মধ্যে অতিরিক্ত কঠোর নীতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে চলতি মাসে এবং বছরের মধ্যে আরও অন্তত একবার সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

ইউরোজোনের অর্থনীতি এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনা ফিরলে বিমানবন্দর থেকেই ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে: এনসিপির নাহিদ ইসলামের বক্তব্য

ইউরোজোনের শিল্পখাতে গতি কমেছে, মূল্যস্ফীতির নতুন চাপের শঙ্কা

০৮:৩৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

মে মাসে ইউরোজোনের উৎপাদনশিল্পে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পণ্যের চাহিদা স্থবির হয়ে পড়া, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধঘন পরিস্থিতির কারণে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি শিল্পখাতকে নতুন চাপে ফেলেছে। এর ফলে আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উৎপাদন বাড়লেও গতি কমেছে

সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ইউরোজোনের উৎপাদনশিল্প সূচক মে মাসে ৫১.৬-এ নেমে এসেছে, যা এপ্রিলের ৫২.২ থেকে কম। যদিও সূচক ৫০-এর ওপরে থাকায় খাতটি এখনও প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে, তবে প্রবৃদ্ধির গতি স্পষ্টভাবে শ্লথ হয়েছে।

টানা চার মাস ধরে সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলেও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি ব্যয় এবং সরবরাহ সংকটের কারণে চাপ অনুভব করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত অস্থিরতা সরবরাহব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

নতুন অর্ডারে স্থবিরতা

এপ্রিল মাসে চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে নতুন অর্ডার বৃদ্ধি পেলেও মে মাসে সেই ধারা থেমে গেছে। নতুন অর্ডার কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি আদেশও কমেছে, যা সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্য এবং অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিবেশ ক্রেতাদের ব্যয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। ফলে উৎপাদকদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

কর্মসংস্থানে দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা

কারখানার উৎপাদন বাড়লেও তার গতি জানুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। উৎপাদন সূচক চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে শিল্পখাতে কর্মসংস্থান টানা তিন বছর ধরে কমছে। আগামী এক বছরের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও আশাবাদী থাকলেও সেই আস্থা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় কম।

German manufacturing dips in September on fall in new orders, PMI shows |  Reuters

ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে

জ্বালানি এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে বেড়েছে। বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে পণ্যের বিক্রয়মূল্যও সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দ্রুততম হারে বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হবে। তবে উচ্চমূল্যের কারণে চাহিদা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও সমানভাবে বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য কঠিন সময়

সরবরাহব্যবস্থার বিলম্বও আরও তীব্র হয়েছে, যা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকদের সামনে কঠিন ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে দুর্বল চাহিদার মধ্যে অতিরিক্ত কঠোর নীতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে চলতি মাসে এবং বছরের মধ্যে আরও অন্তত একবার সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

ইউরোজোনের অর্থনীতি এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।