মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাত থামাতে সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও লেবাননে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করতে রাজি হয়েছেন।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। লেবাননের পরিস্থিতিকে ইরান দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরছিল।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষই লড়াই বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে। অন্যদিকে, লেবাননের পক্ষ থেকেও যুদ্ধবিরতির শর্তে সম্মতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি আবারও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে বৈরুতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
ইরান আলোচনায় নতুন সমীকরণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা ইস্যুগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছিলেন, একটি সমঝোতা খুব কাছাকাছি। কিন্তু প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা না পাওয়ায় অগ্রগতি থেমে যায়।
এদিকে, ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত ইরানের অবস্থানকে আরও কঠোর করে তুলেছিল। ফলে লেবাননে উত্তেজনা কমানোকে ওয়াশিংটন আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও দেখা গেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে ইরান একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং আঞ্চলিক মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ কারণে যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সতর্ক নজর রয়েছে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরে সমালোচনা
ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ক্ষমতাসীন জোট এবং বিরোধী দল—উভয় পক্ষের কিছু নেতা মনে করছেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে অতিরিক্তভাবে নতি স্বীকার করছে। ফলে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় নেতানিয়াহুর ওপর অভ্যন্তরীণ চাপও কম নয়। তাই আগামী কয়েকদিনই নির্ধারণ করবে এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তির পথে এগোবে, নাকি আবারও নতুন সংঘাতের সূচনা হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















