১২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
ধ্যান ও শ্বাসপ্রশ্বাসের চর্চায় বদলাচ্ছে নেতৃত্বের ধরন, বলছেন গুরুদেব শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর চীনের শুল্কমুক্ত বাণিজ্য উদ্যোগে আফ্রিকা, নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত চীনের শুল্কমুক্ত বাণিজ্য নীতি: আফ্রিকায় বাড়ছে প্রভাব, পিছিয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রোবটিক্স দলের বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে জিতল তৃতীয় স্থান ট্রফি দক্ষিণ চীন সাগরের ক্ষুদ্র বালুচর ঘিরে নতুন উত্তেজনা, মুখোমুখি চীন ও ফিলিপাইন ইবোলা থামলেও সংকট থামছে না, কঙ্গো ও উগান্ডায় বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি গ্রীষ্মের ছুটি এখন বিলাসিতা? মূল্যস্ফীতিতে স্বপ্নের ভ্রমণ থেকে সরে যাচ্ছে মার্কিন পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে নাগালের বাইরে প্রথম বাড়ি, বাড়ছে দাম কমছে স্বপ্ন পেলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি নিলামে, ফুটবল ইতিহাসের এক অমূল্য স্মারক মমতার তৃণমূলে ভাঙনের শঙ্কা, বিরোধী দলনেতা ইস্যুতে জোরালো বিদ্রোহ

এল নিনোর শঙ্কা, জুন-আগস্টেই গঠনের সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থার সর্বশেষ সতর্কতায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুন থেকে আগস্টের মধ্যে এল নিনো গঠনের সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত ঘটনা। সাধারণত এটি ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং বৈশ্বিক আবহাওয়ার ধরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।

দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাত কমার আশঙ্কা

সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যাঞ্চলগুলোতে এর প্রভাব বেশি অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

80% chance of El Nino developing June-August, UN warns

এল নিনোর কারণে মৌসুমি বায়ুর শক্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যার ফলে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার পাশাপাশি তাপপ্রবাহের তীব্রতাও বাড়তে পারে। জলবায়ু বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বর্তমানে যে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে তা মাঝারি থেকে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে।

নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে প্রভাব

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, একবার এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হলে তা অন্তত নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি। ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।

জাতিসংঘের মহাসচিব সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনো বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবকে আরও তীব্র করবে। এর কারণে খরা, অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ এবং অন্যান্য জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ছে দ্রুত

80% chance of El Nino developing June-August: UN

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর স্তরে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি তাপ জমা হয়েছে। এই অতিরিক্ত তাপ ধীরে ধীরে সমুদ্রপৃষ্ঠে উঠে আসছে এবং এল নিনো গঠনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।

সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সমুদ্রের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে।

খরা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি

আবহাওয়া সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। কারণ এর ফলে অনেক অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে স্থলভাগ ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহের ঘটনাও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এল নিনোর প্রভাব ভিন্ন হলেও এটি সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক আবহাওয়াকে অস্থিতিশীল করে তোলে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ও জলবায়ু অভিযোজন ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Climate Change Will Make Super El Nino Especially Severe, Scientists Warn

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ধ্যান ও শ্বাসপ্রশ্বাসের চর্চায় বদলাচ্ছে নেতৃত্বের ধরন, বলছেন গুরুদেব শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর

এল নিনোর শঙ্কা, জুন-আগস্টেই গঠনের সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ

১১:২৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থার সর্বশেষ সতর্কতায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুন থেকে আগস্টের মধ্যে এল নিনো গঠনের সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত ঘটনা। সাধারণত এটি ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং বৈশ্বিক আবহাওয়ার ধরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।

দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাত কমার আশঙ্কা

সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যাঞ্চলগুলোতে এর প্রভাব বেশি অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

80% chance of El Nino developing June-August, UN warns

এল নিনোর কারণে মৌসুমি বায়ুর শক্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যার ফলে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার পাশাপাশি তাপপ্রবাহের তীব্রতাও বাড়তে পারে। জলবায়ু বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বর্তমানে যে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে তা মাঝারি থেকে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে।

নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে প্রভাব

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, একবার এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হলে তা অন্তত নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি। ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।

জাতিসংঘের মহাসচিব সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনো বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবকে আরও তীব্র করবে। এর কারণে খরা, অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ এবং অন্যান্য জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ছে দ্রুত

80% chance of El Nino developing June-August: UN

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর স্তরে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি তাপ জমা হয়েছে। এই অতিরিক্ত তাপ ধীরে ধীরে সমুদ্রপৃষ্ঠে উঠে আসছে এবং এল নিনো গঠনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।

সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সমুদ্রের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে।

খরা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি

আবহাওয়া সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। কারণ এর ফলে অনেক অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে স্থলভাগ ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহের ঘটনাও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এল নিনোর প্রভাব ভিন্ন হলেও এটি সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক আবহাওয়াকে অস্থিতিশীল করে তোলে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ও জলবায়ু অভিযোজন ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Climate Change Will Make Super El Nino Especially Severe, Scientists Warn