০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
নতুন সাম্রাজ্যবাদ নয়, এশিয়ার পুঁজির নতুন আত্মবিশ্বাস ক্যানসার প্রতিরোধেও কি কাজে আসছে ওজন কমানোর ওষুধ? নতুন গবেষণায় আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, এআই উচ্ছ্বাসে চাঙ্গা শেয়ারবাজার ইইউর জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যয়বিধি শিথিল, ঘাটতি নিয়ে চাপে ফ্রান্স-জার্মানি ডেভনে রয়্যাল নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত তিন ক্রু সদস্য ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথায়? পারমাণবিক মজুত ঘিরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ট্রাম্পের হিসাব ভুল, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কৌশলেই চাপে যুক্তরাষ্ট্র দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে আহত ৫ বাংলাদেশি, হাসপাতালগুলোতে চলছে চিকিৎসা জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ২,৩৭২ কোটি টাকায় আরও তিন এলএনজি কার্গো কিনছে সরকার রপ্তানিতে ধাক্কা: মে মাসে আয় কমল ৭ শতাংশের বেশি, চাপে পোশাক খাত

নতুন সাম্রাজ্যবাদ নয়, এশিয়ার পুঁজির নতুন আত্মবিশ্বাস

  • ক্রিস চেন
  • ০৮:০০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • 3

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি প্রচলিত ধারণা ছিল—পুঁজি পশ্চিম থেকে পূর্বে যায়, আর উৎপাদন পূর্ব থেকে পশ্চিমে। যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগ করবে, এশিয়া উৎপাদন করবে, তারপর সেই পণ্য আবার আমেরিকান ভোক্তার বাজারে ফিরে যাবে। এই কাঠামো এতটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল যে খুব কম মানুষই প্রশ্ন তুলেছিল, বিশ্ব অর্থনীতির এই প্রবাহ কি চিরকাল একই থাকবে?

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারণার ভিত নড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের মানচিত্রে এমন একটি পরিবর্তন ঘটছে, যা হয়তো আগামী দশকের অর্থনৈতিক শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে নির্ধারণ করবে। আজ এশিয়ার অনেক বড় কোম্পানি আর কেবল বিদেশি বিনিয়োগের অপেক্ষায় নেই; তারা নিজেরাই বিশ্বজুড়ে সম্পদ, প্রযুক্তি, প্রতিষ্ঠান ও বাজারের মালিকানা অর্জনের পথে এগোচ্ছে। বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়, তাদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য এখন যুক্তরাষ্ট্র।

এই পরিবর্তনকে বিচ্ছিন্ন কিছু করপোরেট সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বরং এটি এমন একটি প্রবণতা, যা এশিয়ার অর্থনৈতিক পরিপক্বতা এবং বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দেয়। জাপান, চীন, ভারত কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু রপ্তানি বা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নয়, সরাসরি মালিকানার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উপস্থিতি বিস্তারের কৌশল গ্রহণ করছে।

এই প্রবণতার পেছনে প্রথম যে বাস্তবতা কাজ করছে, তা হলো বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুল্কনীতি, বাণিজ্যিক বাধা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশে পণ্য পাঠিয়ে বাজার দখল করতে পারত। এখন অনেক ক্ষেত্রে সেই পথ ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে বাজারে প্রবেশের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই বাজারের ভেতরেই উৎপাদন ও সম্পদের মালিক হওয়া। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রেই উপস্থিতি তৈরি করা—এই বাস্তবতাই ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে।

দ্বিতীয় কারণ আরও গভীর। আধুনিক অর্থনীতিতে অর্থের চেয়ে মূল্যবান হয়ে উঠছে জ্ঞান, প্রযুক্তি, নিয়ন্ত্রক দক্ষতা এবং প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড। একটি কোম্পানি নতুন প্রযুক্তি বা গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তুলতে দশক পার করে দিতে পারে। কিন্তু অধিগ্রহণের মাধ্যমে সেই সক্ষমতা দ্রুত অর্জন করা সম্ভব। এশিয়ার বহু প্রতিষ্ঠান এখন বুঝতে পারছে, প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হলে শুধু মূলধন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন উন্নত উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক মানের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা। সেই কারণেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং উচ্চমূল্যের শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

Five Characteristics of Neoimperialism: Building on Lenin's Theory of  Imperialism in the Twenty-First Century - Monthly Review

তৃতীয় কারণটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত। বর্তমান বিশ্বে একক অর্থনৈতিক অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের ভঙ্গুরতা এবং নীতিগত পরিবর্তনের কারণে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম ও সম্পদ বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ শুধু আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনারও একটি উপায়।

তবে এই পরিবর্তন এশিয়ার সরকারগুলোর জন্য নতুন প্রশ্নও তৈরি করছে। দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ এশীয় দেশের শিল্পনীতি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কর ছাড়, অবকাঠামো সুবিধা, দক্ষ জনশক্তি—সবকিছুর লক্ষ্য ছিল বহুজাতিক কোম্পানিকে নিজেদের দেশে আনা। কিন্তু যখন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই বৈশ্বিক খেলোয়াড়ে পরিণত হচ্ছে, তখন নীতিনির্ধারণেও পরিবর্তন প্রয়োজন।

এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কীভাবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে অধিগ্রহণ ও সম্প্রসারণে সহায়তা করা যায়। কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত কোম্পানিগুলোর জন্য আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা যায়। কীভাবে এমন করপোরেট শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, যা সত্যিকারের বহুজাতিক পরিচালনাকে উৎসাহিত করে।

একই সঙ্গে এশিয়ার করপোরেট নেতৃত্বের মধ্যেও মানসিক পরিবর্তন দরকার। বহু প্রতিষ্ঠানের কাছে এখনও আন্তর্জাতিক সাফল্যের মানদণ্ড হলো নিউইয়র্কে তালিকাভুক্ত হওয়া অথবা কোনো আমেরিকান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হওয়া। কিন্তু নতুন বাস্তবতা অন্য কথা বলছে। আজকের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী এশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ভবিষ্যৎ অন্য কারও হাতে তুলে দিতে চায় না; বরং তারা নিজেরাই বৈশ্বিক বাজারে নেতৃত্বের দাবি জানাচ্ছে।

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এটি কোনো নাটকীয় ঘোষণার মাধ্যমে ঘটছে না। প্রতিটি অধিগ্রহণ বা বিনিয়োগকে আলাদাভাবে দেখলে তা স্বাভাবিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বলেই মনে হয়। কিন্তু সবগুলো ঘটনাকে একসঙ্গে রাখলে একটি বড় ছবি স্পষ্ট হয়—বিশ্ব অর্থনীতিতে পুঁজির প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হচ্ছে।

আগামী দশকে এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি শুধু তার উৎপাদনক্ষমতা দিয়ে পরিমাপ করা হবে না। বরং প্রশ্ন হবে, এশিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের কোথায় কোথায় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেছে, কোন প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে এবং কোন বাজারে তারা প্রভাব বিস্তার করছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো এই পরিবর্তন দ্রুত বুঝবে, তারাই আগামী দিনের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে। আর যারা পুরোনো বাস্তবতার মধ্যে আটকে থাকবে, তাদের সামনে ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠবে টিকে থাকার লড়াই।

আজকের বিশ্বে গল্পটি আর শুধু আমেরিকার বিনিয়োগ নিয়ে নয়। বরং গল্পটি হলো, এশিয়া কীভাবে বৈশ্বিক পুঁজিবাদের নিয়ম নতুন করে লিখতে শুরু করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন সাম্রাজ্যবাদ নয়, এশিয়ার পুঁজির নতুন আত্মবিশ্বাস

নতুন সাম্রাজ্যবাদ নয়, এশিয়ার পুঁজির নতুন আত্মবিশ্বাস

০৮:০০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি প্রচলিত ধারণা ছিল—পুঁজি পশ্চিম থেকে পূর্বে যায়, আর উৎপাদন পূর্ব থেকে পশ্চিমে। যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগ করবে, এশিয়া উৎপাদন করবে, তারপর সেই পণ্য আবার আমেরিকান ভোক্তার বাজারে ফিরে যাবে। এই কাঠামো এতটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল যে খুব কম মানুষই প্রশ্ন তুলেছিল, বিশ্ব অর্থনীতির এই প্রবাহ কি চিরকাল একই থাকবে?

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারণার ভিত নড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের মানচিত্রে এমন একটি পরিবর্তন ঘটছে, যা হয়তো আগামী দশকের অর্থনৈতিক শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে নির্ধারণ করবে। আজ এশিয়ার অনেক বড় কোম্পানি আর কেবল বিদেশি বিনিয়োগের অপেক্ষায় নেই; তারা নিজেরাই বিশ্বজুড়ে সম্পদ, প্রযুক্তি, প্রতিষ্ঠান ও বাজারের মালিকানা অর্জনের পথে এগোচ্ছে। বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়, তাদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য এখন যুক্তরাষ্ট্র।

এই পরিবর্তনকে বিচ্ছিন্ন কিছু করপোরেট সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বরং এটি এমন একটি প্রবণতা, যা এশিয়ার অর্থনৈতিক পরিপক্বতা এবং বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দেয়। জাপান, চীন, ভারত কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু রপ্তানি বা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নয়, সরাসরি মালিকানার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উপস্থিতি বিস্তারের কৌশল গ্রহণ করছে।

এই প্রবণতার পেছনে প্রথম যে বাস্তবতা কাজ করছে, তা হলো বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুল্কনীতি, বাণিজ্যিক বাধা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশে পণ্য পাঠিয়ে বাজার দখল করতে পারত। এখন অনেক ক্ষেত্রে সেই পথ ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে বাজারে প্রবেশের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই বাজারের ভেতরেই উৎপাদন ও সম্পদের মালিক হওয়া। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রেই উপস্থিতি তৈরি করা—এই বাস্তবতাই ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে।

দ্বিতীয় কারণ আরও গভীর। আধুনিক অর্থনীতিতে অর্থের চেয়ে মূল্যবান হয়ে উঠছে জ্ঞান, প্রযুক্তি, নিয়ন্ত্রক দক্ষতা এবং প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড। একটি কোম্পানি নতুন প্রযুক্তি বা গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তুলতে দশক পার করে দিতে পারে। কিন্তু অধিগ্রহণের মাধ্যমে সেই সক্ষমতা দ্রুত অর্জন করা সম্ভব। এশিয়ার বহু প্রতিষ্ঠান এখন বুঝতে পারছে, প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হলে শুধু মূলধন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন উন্নত উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক মানের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা। সেই কারণেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং উচ্চমূল্যের শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

Five Characteristics of Neoimperialism: Building on Lenin's Theory of  Imperialism in the Twenty-First Century - Monthly Review

তৃতীয় কারণটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত। বর্তমান বিশ্বে একক অর্থনৈতিক অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের ভঙ্গুরতা এবং নীতিগত পরিবর্তনের কারণে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম ও সম্পদ বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ শুধু আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনারও একটি উপায়।

তবে এই পরিবর্তন এশিয়ার সরকারগুলোর জন্য নতুন প্রশ্নও তৈরি করছে। দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ এশীয় দেশের শিল্পনীতি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কর ছাড়, অবকাঠামো সুবিধা, দক্ষ জনশক্তি—সবকিছুর লক্ষ্য ছিল বহুজাতিক কোম্পানিকে নিজেদের দেশে আনা। কিন্তু যখন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই বৈশ্বিক খেলোয়াড়ে পরিণত হচ্ছে, তখন নীতিনির্ধারণেও পরিবর্তন প্রয়োজন।

এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কীভাবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে অধিগ্রহণ ও সম্প্রসারণে সহায়তা করা যায়। কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত কোম্পানিগুলোর জন্য আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা যায়। কীভাবে এমন করপোরেট শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, যা সত্যিকারের বহুজাতিক পরিচালনাকে উৎসাহিত করে।

একই সঙ্গে এশিয়ার করপোরেট নেতৃত্বের মধ্যেও মানসিক পরিবর্তন দরকার। বহু প্রতিষ্ঠানের কাছে এখনও আন্তর্জাতিক সাফল্যের মানদণ্ড হলো নিউইয়র্কে তালিকাভুক্ত হওয়া অথবা কোনো আমেরিকান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হওয়া। কিন্তু নতুন বাস্তবতা অন্য কথা বলছে। আজকের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী এশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ভবিষ্যৎ অন্য কারও হাতে তুলে দিতে চায় না; বরং তারা নিজেরাই বৈশ্বিক বাজারে নেতৃত্বের দাবি জানাচ্ছে।

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এটি কোনো নাটকীয় ঘোষণার মাধ্যমে ঘটছে না। প্রতিটি অধিগ্রহণ বা বিনিয়োগকে আলাদাভাবে দেখলে তা স্বাভাবিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বলেই মনে হয়। কিন্তু সবগুলো ঘটনাকে একসঙ্গে রাখলে একটি বড় ছবি স্পষ্ট হয়—বিশ্ব অর্থনীতিতে পুঁজির প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হচ্ছে।

আগামী দশকে এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি শুধু তার উৎপাদনক্ষমতা দিয়ে পরিমাপ করা হবে না। বরং প্রশ্ন হবে, এশিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের কোথায় কোথায় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেছে, কোন প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে এবং কোন বাজারে তারা প্রভাব বিস্তার করছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো এই পরিবর্তন দ্রুত বুঝবে, তারাই আগামী দিনের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে। আর যারা পুরোনো বাস্তবতার মধ্যে আটকে থাকবে, তাদের সামনে ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠবে টিকে থাকার লড়াই।

আজকের বিশ্বে গল্পটি আর শুধু আমেরিকার বিনিয়োগ নিয়ে নয়। বরং গল্পটি হলো, এশিয়া কীভাবে বৈশ্বিক পুঁজিবাদের নিয়ম নতুন করে লিখতে শুরু করেছে।