১০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
ক্যানসার প্রতিরোধেও কি কাজে আসছে ওজন কমানোর ওষুধ? নতুন গবেষণায় আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, এআই উচ্ছ্বাসে চাঙ্গা শেয়ারবাজার ইইউর জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যয়বিধি শিথিল, ঘাটতি নিয়ে চাপে ফ্রান্স-জার্মানি ডেভনে রয়্যাল নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত তিন ক্রু সদস্য ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথায়? পারমাণবিক মজুত ঘিরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ট্রাম্পের হিসাব ভুল, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কৌশলেই চাপে যুক্তরাষ্ট্র দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে আহত ৫ বাংলাদেশি, হাসপাতালগুলোতে চলছে চিকিৎসা জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ২,৩৭২ কোটি টাকায় আরও তিন এলএনজি কার্গো কিনছে সরকার রপ্তানিতে ধাক্কা: মে মাসে আয় কমল ৭ শতাংশের বেশি, চাপে পোশাক খাত শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যা: বৃহস্পতিবার মশাল মিছিলের ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

রপ্তানিতে ধাক্কা: মে মাসে আয় কমল ৭ শতাংশের বেশি, চাপে পোশাক খাত

দেশের রপ্তানি আয়ে আবারও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের দুর্বল পারফরম্যান্স সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৪০ কোটি ডলার। এক বছর আগে একই মাসে এই আয় ছিল ৪৭৩ কোটি ডলার।

অর্থবছরের ১১ মাসের চিত্র

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসের হিসাবেও রপ্তানি আয়ে পতনের চিত্র স্পষ্ট। এ সময়ে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৭৯ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪ হাজার ৪৯৪ কোটি ডলার। ফলে সামগ্রিক রপ্তানি আয় কমেছে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

রপ্তানি আয়ের এই পতন দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো রপ্তানি খাত।

পোশাক খাতের দুর্বলতা

বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। ফলে এই খাতের যেকোনো নেতিবাচক পরিবর্তন সরাসরি সামগ্রিক রপ্তানিতে প্রভাব ফেলে।

মে মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ৩৫৯ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। আগের বছরের একই সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৩৯১ কোটি ডলার।

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩ হাজার ৬৫৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ এ খাতে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ পতন হয়েছে।

পতনের পেছনের কারণ

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানা কারণে রপ্তানি খাত চাপে রয়েছে। জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি, গ্যাসের উচ্চ মূল্য, প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে ভোক্তা চাহিদার দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতি রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

তবে পরিস্থিতির মধ্যে কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বার্ষিক হিসাবে রপ্তানি কমলেও এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে। এপ্রিলে মোট রপ্তানি ছিল ৪০০ কোটি ডলার, যা মে মাসে বেড়ে ৪৪০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিও ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপ্রচলিত খাতে ইতিবাচক অগ্রগতি

প্রধান রপ্তানি খাতের দুর্বলতার মধ্যেও কয়েকটি অপ্রচলিত খাতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ওষুধ, প্লাস্টিক, পাট ও পাটজাত পণ্য, মুদ্রিত সামগ্রী, গৃহস্থালি বস্ত্র এবং প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে।

এ ছাড়া চামড়াজাত পণ্য, তাজা ফল এবং কাঁকড়া রপ্তানিতেও উন্নতি হয়েছে। এসব খাতের প্রবৃদ্ধি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে কিছুটা এগিয়ে নিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন বাজারে শক্ত অবস্থান

রপ্তানি বাজারের দিক থেকেও কিছু ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেছে। ইউরোপের কয়েকটি অঞ্চলে চাহিদা দুর্বল থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাশাপাশি স্পেন, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, কানাডা, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ কয়েকটি উদীয়মান ও দ্বিতীয় সারির বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

রপ্তানি আয় কমলেও নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং অপ্রচলিত খাতের প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যানসার প্রতিরোধেও কি কাজে আসছে ওজন কমানোর ওষুধ? নতুন গবেষণায় আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত

রপ্তানিতে ধাক্কা: মে মাসে আয় কমল ৭ শতাংশের বেশি, চাপে পোশাক খাত

০৮:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

দেশের রপ্তানি আয়ে আবারও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের দুর্বল পারফরম্যান্স সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৪০ কোটি ডলার। এক বছর আগে একই মাসে এই আয় ছিল ৪৭৩ কোটি ডলার।

অর্থবছরের ১১ মাসের চিত্র

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসের হিসাবেও রপ্তানি আয়ে পতনের চিত্র স্পষ্ট। এ সময়ে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৭৯ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪ হাজার ৪৯৪ কোটি ডলার। ফলে সামগ্রিক রপ্তানি আয় কমেছে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

রপ্তানি আয়ের এই পতন দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো রপ্তানি খাত।

পোশাক খাতের দুর্বলতা

বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। ফলে এই খাতের যেকোনো নেতিবাচক পরিবর্তন সরাসরি সামগ্রিক রপ্তানিতে প্রভাব ফেলে।

মে মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ৩৫৯ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। আগের বছরের একই সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৩৯১ কোটি ডলার।

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩ হাজার ৬৫৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ এ খাতে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ পতন হয়েছে।

পতনের পেছনের কারণ

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানা কারণে রপ্তানি খাত চাপে রয়েছে। জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি, গ্যাসের উচ্চ মূল্য, প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে ভোক্তা চাহিদার দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতি রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

তবে পরিস্থিতির মধ্যে কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বার্ষিক হিসাবে রপ্তানি কমলেও এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে। এপ্রিলে মোট রপ্তানি ছিল ৪০০ কোটি ডলার, যা মে মাসে বেড়ে ৪৪০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিও ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপ্রচলিত খাতে ইতিবাচক অগ্রগতি

প্রধান রপ্তানি খাতের দুর্বলতার মধ্যেও কয়েকটি অপ্রচলিত খাতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ওষুধ, প্লাস্টিক, পাট ও পাটজাত পণ্য, মুদ্রিত সামগ্রী, গৃহস্থালি বস্ত্র এবং প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে।

এ ছাড়া চামড়াজাত পণ্য, তাজা ফল এবং কাঁকড়া রপ্তানিতেও উন্নতি হয়েছে। এসব খাতের প্রবৃদ্ধি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে কিছুটা এগিয়ে নিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন বাজারে শক্ত অবস্থান

রপ্তানি বাজারের দিক থেকেও কিছু ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেছে। ইউরোপের কয়েকটি অঞ্চলে চাহিদা দুর্বল থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাশাপাশি স্পেন, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, কানাডা, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ কয়েকটি উদীয়মান ও দ্বিতীয় সারির বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

রপ্তানি আয় কমলেও নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং অপ্রচলিত খাতের প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।