তামিলনাড়ুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঠেকাতে কর্মকর্তাদের ‘সমন্বিত পদক্ষেপ’ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করেছে রাজ্য সরকার। বামপন্থী দল এবং তামিলনাড়ু ককরোচ জনতা পার্টির (টিএনসিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল ওই নির্দেশনায়।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের অধীন কলেজ শিক্ষা দপ্তর থেকে রাজ্যের সব সরকারি কলা ও বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষদের কাছে নির্দেশটি পাঠানো হয়। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শিক্ষার্থী ও তরুণদের এসব বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঠেকাতে ‘উপযুক্ত সমন্বিত ব্যবস্থা’ নিতে বলা হয়েছিল। বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
স্কুল, উচ্চশিক্ষা ও পুলিশের সমন্বয়ের নির্দেশ
প্রত্যাহার করা ওই নির্দেশনায় ১৪ আগস্টের একটি সরকারি চিঠির উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই চিঠিতে স্কুল শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা ও পুলিশ বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়।
তবে নির্দেশনা জারির পরপরই অবস্থান বদলায় সরকার। কলেজ শিক্ষা দপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সিনথিয়া সেলভি পি জানান, আগের যোগাযোগ বা নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ ঠেকাতে দেওয়া ওই প্রশাসনিক নির্দেশ কার্যকর থাকেনি।
তামিলনাড়ু ককরোচ জনতা পার্টি কী
টিএনসিজেপি তামিলনাড়ুর একটি সংগঠন, যারা আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছে। সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছেন তামিলনাড়ুভিত্তিক আইনজীবী সি ব্রহ্মা বালাসুব্রামানিয়াম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটির সদস্যরা বলছেন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাজ্যের শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের অধিকার তাদের কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তারা নিজেদের মূলধারার ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত বলে দাবি করলেও নিজেদের আলাদা সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয়।
প্রতিবাদ আন্দোলনে ‘ককরোচ’ প্রতীক
জাতীয় পর্যায়ের অনলাইন ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলনটি অভিজিৎ দিপকে শুরু করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বিক্ষোভের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে পরিচিতি পায়। প্রতিবাদী তরুণদের উদ্দেশে করা কিছু মন্তব্যের পর ককরোচ বা তেলাপোকা আন্দোলনটির প্রতীকে পরিণত হয়। সমর্থকেরা এটিকে টিকে থাকা ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেন।
তামিলনাড়ুতেও কর্মসংস্থান ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে স্থানীয় বিক্ষোভে এই নাম ও প্রতীকের ব্যবহার দেখা গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















