ভারতের জাতীয় যোগ্যতা ও ভর্তি পরীক্ষা (নিট-ইউজি) পরিচালনার বর্তমান পদ্ধতিকে ‘ভুল-প্রতিরোধী’ এবং এতে কারচুপি করা অত্যন্ত কঠিন বলে সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় কিছু মানবিক হস্তক্ষেপ থাকার কথাও স্বীকার করেছে সরকার।
নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর পরীক্ষা বাতিল ও পুনরায় আয়োজন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এ বক্তব্য দেয় কেন্দ্র। ফাউন্ডেশন ফর অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসসহ (এফএআইএমএ) সংশ্লিষ্টদের করা এক আবেদনের শুনানিতে পরীক্ষার পদ্ধতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিস্তারিত তুলে ধরে সরকার।
প্রশ্নপত্র তৈরিতে একাধিক ধাপ
সরকারের পক্ষে আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রশ্নপত্র তৈরির পুরো প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি পদার্থবিজ্ঞানের ১০০ প্রশ্নের একটি প্রশ্নপত্র তৈরির পদ্ধতি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, প্রথমে কয়েকটি মডারেটর দল মিলে ৫০০টি প্রশ্নের একটি বড় প্রশ্নব্যাংক তৈরি করে। এরপর অন্য মডারেটররা ওই প্রশ্নব্যাংক থেকে ১০০টি করে প্রশ্ন বাছাই করে চারটি পৃথক প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করেন। পরে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা বা এনটিএর মহাপরিচালক ওই চারটির মধ্য থেকে দুটি প্রশ্নপত্র নির্বাচন করেন।

নিরাপত্তায় সিল করা বাক্স ও সিসিটিভি
নির্বাচিত প্রশ্নপত্র এরপর সিল করা বাক্সে করে দুটি পৃথক ছাপাখানায় পাঠানো হয়। পুরো পরিবহন ও ছাপার প্রক্রিয়ায় সিসিটিভি নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।
সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাক্সটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছে একটি ডিজিটাল চাবি থাকে। ছাপাখানার মালিক এনটিএর মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট কোড পাওয়ার পরই বাক্সটি খোলা যায়। বাক্স খোলার পর ছাপাখানার ভেতরে কোনো বহিরাগতকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না এবং পুরো কার্যক্রম ভিডিও ধারণ করা হয়।
এমনকি কোন পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র যাবে, সে তথ্য ছাপাখানার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছেও আগে থেকে থাকে না বলে আদালতকে জানানো হয়েছে। প্রশ্নপত্রের সঙ্গে উত্তরপত্রও সিল করা খামে রাখা হয় এবং খাম খুলতে হলে সিল ভাঙতে হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর ফের পরীক্ষা
![]()
চলতি বছরের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের কারণে বাতিল করেছিল এনটিএ। পরে ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
এদিকে নিট-ইউজি পরীক্ষা কাগজের বদলে কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষায় রূপান্তরের দাবিও উঠেছে। এফএআইএমএ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের আবেদনে পরীক্ষা কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের বক্তব্য মূলত বর্তমান ব্যবস্থার নিরাপত্তা কাঠামো কতটা সুরক্ষিত, তা ব্যাখ্যা করার ওপরই কেন্দ্রীভূত ছিল। প্রশ্নপত্র তৈরির শুরু থেকে ছাপা, সংরক্ষণ ও পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো পর্যন্ত একাধিক ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা আদালতকে জানানো হয়েছে।
নিট-ইউজি পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই কেন্দ্রের এই ব্যাখ্যা সামনে এল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















