পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের পাঞ্জগুর জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে ছয়জন সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, অভিযানে নিহত ব্যক্তিরা ভারত-সমর্থিত বলে অভিযোগ করা একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল।
অভিযানের বিস্তারিত
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৩ ও ৪ জুন রাতের মধ্যে পাঞ্জগুর এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে এবং তীব্র গোলাগুলির পর ছয়জন সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক যন্ত্র এবং একটি যানবাহন উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল।
এলাকা তল্লাশি অব্যাহত
অভিযানের পর পুরো এলাকায় তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইএসপিআর জানিয়েছে, ওই এলাকায় আর কোনো সশস্ত্র ব্যক্তি অবস্থান করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে অভিযান চলছে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি সফল অভিযানের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ছয়জন সন্ত্রাসী নিহত হওয়া দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যে কোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।
একইভাবে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও অভিযানে অংশ নেওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেন। তিনি সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূলের ব্যাপারে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান
এর আগে চলতি সপ্তাহে কুয়েটায় একটি ট্রেনে আত্মঘাতী হামলার পর বেলুচিস্তানের বিভিন্ন জেলায় একাধিক গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাস্তুঙ, নুশকি, খুজদার এবং কেচ জেলায় পরিচালিত এসব অভিযানে ১৭ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা আরও জোরদার করেছে পাকিস্তান সরকার। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, এ ধরনের অভিযান দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অব্যাহত থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















