ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিতর্কিত নীট-স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলা বিক্ষোভে পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার দিন সংঘর্ষের পরও আরও কয়েক দিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে পাথর নিক্ষেপ ও সহিংসতা চলেছে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছে এবং উত্তেজনা আরও না বাড়ানোর দিকেই গুরুত্ব দিয়েছে।
সংঘর্ষের পরও থামেনি সহিংসতা
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্লামেন্টমুখী বিক্ষোভের দিন সংঘর্ষের পরও ২৫ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ওই দিন সরকার আন্দোলনকারীদের কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়ার পর বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হয়।
কর্মকর্তাদের দাবি, আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রকৃত শিক্ষার্থীদের ভিড়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক কর্মী ঢুকে পরিস্থিতিকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেন। তাদের উসকানিতেই বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
কেন বলপ্রয়োগ করেছিল পুলিশ

২০ জুলাই পার্লামেন্ট অধিবেশন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা সংসদ অভিমুখে অগ্রসর হলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সে সময় পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এ নিয়ে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠলেও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, বহুবার সতর্ক করার পরও ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, পাথর নিক্ষেপ এবং উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তাদের মতে, ওই দিনের ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে মূল্যায়ন করলে পুরো পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র বোঝা যাবে না।
দুই কিলোমিটারের মধ্যে ছড়িয়ে ছিল উত্তেজনার কেন্দ্র
নথি অনুযায়ী, সংঘর্ষের ঘটনাগুলো মূলত পার্লামেন্টের আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে ছিল। গোল ডাকখানা, টলস্টয়-জনপথ মোড়, রেল ভবনের কাছে রফি মার্গ ব্যারিকেড, যন্তর মন্তর, কনট প্লেসের বহির্বৃত্ত, সংসদ মার্গ, প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার পাশের রাইসিনা রোড এবং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে রেল ভবনের কাছে রফি মার্গের ব্যারিকেড এলাকাটি পার্লামেন্টের সবচেয়ে কাছের সংঘর্ষস্থল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি সম্পদ, নিখোঁজ শত শত নিরাপত্তা সরঞ্জাম
নিরাপত্তা সংস্থার তালিকা অনুযায়ী, সহিংসতায় ১১০টি ব্যারিকেড এবং ১৭১টি দড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা হারিয়ে যায়। পাশাপাশি একটি বেতার যোগাযোগ যন্ত্র, দেহে ধারণযোগ্য ক্যামেরা, ১০টি হাতে বহনযোগ্য ধাতব শনাক্তকারী, দুটি জনসচেতনতামূলক ঘোষণাযন্ত্র, ১৫টি বহনযোগ্য মাইক, ১০টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, চারটি তার কাটার যন্ত্র এবং একটি এক্স-রে ব্যাগেজ স্ক্যানারও নষ্ট বা নিখোঁজ হয়।

এ ছাড়া ৩৫৫টি হেলমেট, ২৮৫টি দেহরক্ষাকারী বর্ম, ৫৪টি ঢাল, ১০টি টর্চ, ২৪টি প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স এবং ১২টি কম্বলও ক্ষতিগ্রস্ত বা হারিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত, শতাধিক আহত
নথিতে বলা হয়েছে, সরকারি ব্যবহারের ২৯টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে গাড়ি, বাস, মোটরসাইকেল ও টেম্পো রয়েছে। পাশাপাশি একটি পানিবাহী ট্যাংকার, একটি দিল্লি পরিবহন সংস্থার বাস এবং একটি সাধারণ যানবাহনও ক্ষতির মুখে পড়ে।
সহিংসতার ঘটনায় ২৪৪ জন পুলিশ সদস্য এবং ২০৯ জন সাধারণ মানুষ আহত হন। তাদের আঘাতের ঘটনাগুলো চিকিৎসা-আইনি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মুখাবয়ব শনাক্তকরণে অপরাধে অভিযুক্তদের উপস্থিতির দাবি
এর আগে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অভ্যন্তরীণ এক পুলিশ প্রতিবেদনে মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে শতাধিক হত্যা মামলার আসামি এবং ডাকাতি, যৌন অপরাধ, অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত আরও শত শত ব্যক্তিকে বিক্ষোভস্থলে শনাক্ত করার দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব তথ্য নিরাপত্তা সংস্থার দাবি ও সরকারি নথির ভিত্তিতে উঠে এসেছে। আন্দোলনকারী পক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ যাচাইয়ের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















