১০:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
ফরিদপুরে পদ্মায় উল্টে ট্রাক্টর, প্রাণ গেল চালকের আইএসএসে বায়ু লিক আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছেন নভোচারীরা গণতন্ত্র রক্ষায় ষড়যন্ত্র মোকাবিলার আহ্বান ফখরুলের, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ ভারতে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পরিচয়পত্র গ্রহণ করলেন ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিল্লিতে চিকিৎসা করতে এসে আগুনে পুড়ে মৃত্যু, ‘আরবান ভিলেজ’গুলো কেন অগ্নিকাণ্ডে মরণফাঁদ হয়ে ওঠে? ইংল্যান্ডের ‘ঘরে ফেরানোর’ বিশ্বকাপ দলে কারা কারা আছেন? পদ্মায় বাসডুবি: ফেরিঘাটে নামতে রাজি ছিলেন না অনেক যাত্রী নতুন শ্রমজীবী কারা? অর্থনীতির বদলে যাওয়া বাস্তবতায় এক পুরোনো পরিচয়ের সংকট ছাত্রলীগের মিছিল ঘিরে নোয়াখালীতে উত্তেজনা, বাধা দিয়ে সরে গেলো পুলিশ জন্মদিন

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ধাক্কায় ক্ষুধার ঝুঁকিতে আরও কোটি মানুষ: সতর্ক করল বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব যুদ্ধক্ষেত্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খাদ্য নিরাপত্তার ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানিয়েছে, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে তহবিল সংকটের কারণে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে লাখ নয়, কোটি কোটি মানুষ নতুন করে ক্ষুধার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। (Reuters)

সংঘাতের অর্থনৈতিক অভিঘাত

ডব্লিউএফপির মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া আঞ্চলিক সংঘাত পারস্য উপসাগরজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল চাপের মুখে পড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। (Reuters)

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে, যা সরাসরি খাদ্যপণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার ও অন্যান্য উপকরণের খরচও বেড়েছে। ফলে অনেক দেশে খাদ্যপ্রাপ্তি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। (The Wall Street Journal)

কোথায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি

ডব্লিউএফপির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আফগানিস্তান, সোমালিয়া এবং শ্রীলঙ্কার মতো আমদানিনির্ভর ও অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আফগানিস্তানে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ এবং সোমালিয়ায় প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। (Reuters)

WFP warning becomes a reality for millions as Middle East crisis pushes  poorest families further into hunger | World Food Programme

এর আগে মার্চে প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে ডব্লিউএফপি জানিয়েছিল, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অতিরিক্ত ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার মধ্যে পড়তে পারে। সংস্থাটি এখন বলছে, সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। (Reuters)

সহায়তা কার্যক্রমও সংকটে

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে মানবিক সহায়তার অর্থসংকট। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশে তহবিল ঘাটতির কারণে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি সীমিত করতে হচ্ছে। সোমালিয়ায় তহবিলের বড় ঘাটতির কারণে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ জুলাইয়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। (Reuters)

একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলে বিলম্ব, দীর্ঘতর বিকল্প রুট ব্যবহার এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি খাদ্য সরবরাহকে আরও কঠিন করে তুলছে। সংঘাত অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯০ লাখ মানুষ খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে ডব্লিউএফপি সতর্ক করেছে। (Reuters)

বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার নতুন শঙ্কা

ডব্লিউএফপি বলছে, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ খাদ্য অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে আরও ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ যুক্ত হলে বৈশ্বিক ক্ষুধা পরিস্থিতি সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটির মতে, সংঘাত, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং তহবিল সংকট একসঙ্গে কাজ করে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। (World Food Programme)

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরে পদ্মায় উল্টে ট্রাক্টর, প্রাণ গেল চালকের

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ধাক্কায় ক্ষুধার ঝুঁকিতে আরও কোটি মানুষ: সতর্ক করল বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি

০৭:১১:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব যুদ্ধক্ষেত্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খাদ্য নিরাপত্তার ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানিয়েছে, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে তহবিল সংকটের কারণে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে লাখ নয়, কোটি কোটি মানুষ নতুন করে ক্ষুধার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। (Reuters)

সংঘাতের অর্থনৈতিক অভিঘাত

ডব্লিউএফপির মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া আঞ্চলিক সংঘাত পারস্য উপসাগরজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল চাপের মুখে পড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। (Reuters)

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে, যা সরাসরি খাদ্যপণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার ও অন্যান্য উপকরণের খরচও বেড়েছে। ফলে অনেক দেশে খাদ্যপ্রাপ্তি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। (The Wall Street Journal)

কোথায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি

ডব্লিউএফপির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আফগানিস্তান, সোমালিয়া এবং শ্রীলঙ্কার মতো আমদানিনির্ভর ও অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আফগানিস্তানে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ এবং সোমালিয়ায় প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। (Reuters)

WFP warning becomes a reality for millions as Middle East crisis pushes  poorest families further into hunger | World Food Programme

এর আগে মার্চে প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে ডব্লিউএফপি জানিয়েছিল, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অতিরিক্ত ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার মধ্যে পড়তে পারে। সংস্থাটি এখন বলছে, সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। (Reuters)

সহায়তা কার্যক্রমও সংকটে

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে মানবিক সহায়তার অর্থসংকট। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশে তহবিল ঘাটতির কারণে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি সীমিত করতে হচ্ছে। সোমালিয়ায় তহবিলের বড় ঘাটতির কারণে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ জুলাইয়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। (Reuters)

একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলে বিলম্ব, দীর্ঘতর বিকল্প রুট ব্যবহার এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি খাদ্য সরবরাহকে আরও কঠিন করে তুলছে। সংঘাত অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯০ লাখ মানুষ খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে ডব্লিউএফপি সতর্ক করেছে। (Reuters)

বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার নতুন শঙ্কা

ডব্লিউএফপি বলছে, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ খাদ্য অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে আরও ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ যুক্ত হলে বৈশ্বিক ক্ষুধা পরিস্থিতি সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটির মতে, সংঘাত, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং তহবিল সংকট একসঙ্গে কাজ করে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। (World Food Programme)