সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় শুধু মাঠের ফলাফলের জন্যই নয়, গ্যালারিতে থাকা হাজারো সমর্থকের আবেগ ও সমর্থনের জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলি ম্যাচ শেষে বাংলাদেশি সমর্থকদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, তাদের অসাধারণ উদ্দীপনা ও সমর্থনই দলকে বাড়তি শক্তি জুগিয়েছে।
সান মারিনো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশ ২-১ গোলে জয় তুলে নেয়। এটি ছিল ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং একই সঙ্গে কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে প্রথম জয়।
সমর্থকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা
ম্যাচ শেষে ডুলি বলেন, সান মারিনোতে এটি ছিল এক অবিশ্বাস্য রাত। দলের লড়াই, আত্মবিশ্বাস ও হৃদয় উজাড় করে খেলার প্রশংসা করলেও তিনি সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিয়েছেন সমর্থকদের।

তার মতে, ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে শেষ বাঁশি পর্যন্ত দর্শকদের কণ্ঠ, আবেগ এবং অবিচল সমর্থন খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করেছে। কঠিন মুহূর্তে তারা দলকে লড়াই চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে।
ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বাংলাদেশি সমর্থকেরা পুরো ম্যাচজুড়ে প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করেন। বিশেষ করে গোলের মুহূর্তগুলোতে তাদের উচ্ছ্বাস স্টেডিয়ামকে উৎসবমুখর করে তোলে।
ডুলির দর্শনের প্রতিফলন
বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ডুলি আক্রমণাত্মক ও ইতিবাচক ফুটবলের কথা বলেছিলেন। সান মারিনোর বিপক্ষে সেই দর্শনেরই প্রতিফলন দেখা যায়।
দল ৪-৩-৩ ছকে মাঠে নামে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খুব কমই ব্যবহার করেছে বাংলাদেশ। শারীরিকভাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক কৌশল না নিয়ে বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলেছে এবং সুযোগ পেলেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেছে।
টপুর জোড়া গোলে ইতিহাস
ম্যাচের ১৯তম মিনিটে শেখ মোরসালিনের ক্রস থেকে হেডে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার টপু বর্মন। এটি ছিল ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল।

৩১তম মিনিটে সান মারিনো সমতা ফিরিয়ে আনলেও বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি। দ্বিতীয়ার্ধে ডুলির পরিবর্তনগুলো দলকে নতুন গতি দেয় এবং একাধিক আক্রমণ তৈরি হয়।
ম্যাচ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে হামজা চৌধুরীর ফ্রি-কিক থেকে তৈরি সুযোগে বিশ্বনাথ ঘোষ বল বাড়িয়ে দিলে টপু বর্মন আবারও হেডে জাল খুঁজে নেন। তার জোড়া গোলেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়।
নতুন যুগের আশাবাদ
এই জয় শুধু একটি প্রীতি ম্যাচের সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা একটি দল ইউরোপের মাটিতে গিয়ে জয় তুলে এনে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছে।
ডুলি বিশ্বাস করেন, খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমর্থকদের এই বন্ধন ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করবে। তার ভাষায়, এই জয় শুধু দলের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের।
বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য সান মারিনোর এই রাত তাই ইতিহাসের পাতায় বিশেষ স্থান করে নিল।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















