ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তুলেছেন লুইস এনরিকে। পিএসজিকে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতানোর মাধ্যমে তিনি এমন এক অভিজাত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন, যেখানে রয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচদের কয়েকজন। তবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি পিএসজির মালিকানা, অর্থায়ন এবং ক্লাবকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কও আবার সামনে এসেছে।
ইতিহাসের পাতায় এনরিকে
বার্সেলোনাকে ২০১৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানোর পর এবার পিএসজির হয়ে তৃতীয় ইউরোপীয় শিরোপা জিতলেন এনরিকে। এর ফলে তিনি সেই বিরল কোচদের দলে যোগ দিলেন, যারা তিন বা তার বেশি ইউরোপীয় কাপ জিতেছেন।
টানা দুই মৌসুমে পিএসজিকে ইউরোপের সেরা ক্লাব বানিয়ে এনরিকে এমন একটি কীর্তি গড়েছেন, যা অনেক কিংবদন্তি কোচও করতে পারেননি। তার দলের ফুটবল দর্শন, দ্রুত আক্রমণ, বল দখলে আধিপত্য এবং খেলোয়াড়দের অবস্থান পরিবর্তনের কৌশল আধুনিক ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
দল নয়, এক দর্শনের নির্মাতা
পিএসজির বর্তমান সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছেন এনরিকে নিজেই। লিওনেল মেসি, নেইমার এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের বিদায়ের পর তিনি ক্লাবে ভিন্ন এক সংস্কৃতি গড়ে তোলেন। ব্যক্তিগত খ্যাতির চেয়ে দলগত দায়িত্বকে গুরুত্ব দেওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
২০২৩ সালে প্যারিসে এসে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে পিএসজিকে নতুনভাবে গড়বেন। এমবাপ্পে ক্লাব ছাড়ার পরও তিনি দাবি করেছিলেন, তার দল আরও শক্তিশালী হবে। বাস্তবে সেটাই দেখা গেছে। ক্লাব নতুন খেলোয়াড় এনেছে, কিন্তু সবাইকে এনরিকের কৌশল ও দলীয় দর্শনের সঙ্গে মানানসই করেই বেছে নেওয়া হয়েছে।
এনরিকের অধীনে পিএসজি ইতোমধ্যে ১২টি ট্রফি জিতেছে, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি লিগ শিরোপা। ফলে অনেকের চোখে তিনি আধুনিক পিএসজির স্থপতি।

প্রশংসার পাশাপাশি প্রশ্নও
তবে এনরিকের সাফল্যের গল্প পুরোপুরি বিতর্কমুক্ত নয়। কাতার-সমর্থিত মালিকানার কারণে পিএসজিকে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, বিপুল অর্থের জোরে গড়ে ওঠা এই প্রকল্প ইউরোপীয় ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করেছে।
এছাড়া মানবাধিকার ইস্যু, কাতারের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং ফুটবলে রাষ্ট্র-সমর্থিত বিনিয়োগের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, মাঠের সাফল্য অনেক সময় এসব বিতর্ককে আড়াল করে দেয়।
ফলে এনরিকের অর্জন যতই উজ্জ্বল হোক, তার পিএসজি অধ্যায়কে ঘিরে আলোচনা শুধু ট্রফির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনেকের কাছে প্রশ্ন রয়ে গেছে—একজন কোচের উত্তরাধিকারকে কি তার কাজের পরিবেশ ও প্রেক্ষাপট থেকে আলাদা করে দেখা সম্ভব?
সামনে নতুন লক্ষ্য
তবে এসব বিতর্ক নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে দেখা যাচ্ছে না এনরিকেকে। তার লক্ষ্য এখন আরও বড়। টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে খুব কম দলই এমন কীর্তি গড়তে পেরেছে। তাই পিএসজিকে নিয়ে নতুন এক রাজত্ব প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছেন স্প্যানিশ এই কোচ। তার বিশ্বাস, ক্লাবের গল্প এখনো শেষ হয়ে যায়নি, বরং সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় অর্জন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















