০৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রের শক্তি কি দমন-পীড়নে, নাকি জনগণের আস্থায়? নবম পে-স্কেল এখনই নয়? আইএমএফের অবস্থানের অপেক্ষায় সরকার, বাস্তবায়ন পিছিয়ে যেতে পারে রাজধানীর মানিকদিতে এইচএসসি শিক্ষার্থীকে গুলি, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেকে ভর্তি সিলেটে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩ শ্রমিক, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থান সম্ভব ছিল না: এ্যানি কুষ্টিয়ায় এনসিপির জুলাই পদযাত্রা স্থগিত সোনার দাম বাড়ানোর একদিন পরই কমাল বাজুস, ভরিতে কমেছে ২,২১৬ টাকা সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি উজান আসামে বন্যার ভয়াবহতায় জীবন বাঁচাতে দিনরাত উদ্ধারকর্মীরা

জিএলপি-১ ওষুধের এক ডোজেই দুঃস্বপ্ন, নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন অভিনেত্রী মায়িম বিয়ালিক

ওজন কমানোর জন্য বহুল আলোচিত জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ নিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী Mayim Bialik। তিনি দাবি করেছেন, ওষুধটির সর্বনিম্ন মাত্রার একটি ইনজেকশন নেওয়ার পরই কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে গুরুতর শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

মায়িম জানান, তিনি মূলত ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে নয়, দীর্ঘদিনের কিছু শারীরিক সমস্যার উপশমের আশায় চিকিৎসকদের পরামর্শে এই ওষুধ গ্রহণ করেছিলেন। কৈশোর থেকেই শরীরের গঠন নিয়ে মানসিক চাপে ভুগলেও এবার তার লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্যগত জটিলতা কমানো।

দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসংকট

অভিনেত্রী জানান, অল্প বয়সেই তার অটোইমিউন রোগ গ্রেভস ডিজিজ ধরা পড়ে। এরপর বছরের পর বছর তিনি শরীরে র‍্যাশ, অ্যালার্জি, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা, ঘুমের সমস্যা এবং মানসিক অবসাদসহ নানা জটিলতায় ভুগেছেন। বিভিন্ন সময়ে একাধিক রোগ শনাক্ত হলেও সমস্যার মূল কারণ স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।

Mayim Bialik

চিকিৎসকদের পরামর্শে কয়েক মাস আগে তিনি জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহার শুরু করেন। ধারণা ছিল, এটি শরীরের প্রদাহ কমিয়ে কিছু উপসর্গে উপকার করতে পারে।

ইনজেকশনের পর শুরু হয় বিপর্যয়

তবে প্রথম ইনজেকশনের পরই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে থাকে। তিনি জানান, তীব্র ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা, পেটব্যথা, শরীরজুড়ে ব্যথা এবং পানি ধরে রাখতে না পারার মতো সমস্যায় ভুগতে হয় তাকে।

খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলেই শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। ডিহাইড্রেশনের কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে শিরায় তরল গ্রহণ করতে হয়। কয়েকদিন ধরে প্রায় কিছুই খেতে পারেননি তিনি।

মায়িমের ভাষায়, পুরো অভিজ্ঞতাটি ছিল অত্যন্ত কষ্টকর এবং শারীরিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার মতো।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে নতুন উপলব্ধি

Mayim Bialik smiling in a screenshot from Club Random Media

পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য পরিপাকতন্ত্র-সংক্রান্ত সমস্যা এই ধরনের ওষুধের পরিচিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে পড়ে। যদিও অনেকের ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ হালকা থাকে এবং সময়ের সঙ্গে কমে যায়, তার ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া ছিল অনেক বেশি তীব্র।

তিনি বলেন, অসুস্থতার মাঝেও তার মনে বারবার একটি চিন্তা এসেছে— হয়তো এর ফলে কিছু ওজন কমবে। এই উপলব্ধি তাকে দীর্ঘদিনের শরীর-সংক্রান্ত মানসিক চাপ ও সৌন্দর্যের সামাজিক মানদণ্ড নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

ওষুধ বন্ধের সিদ্ধান্ত

অবশেষে তিনি ওষুধটি আর ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেন। তার মতে, শরীরের সংকেতকে উপেক্ষা না করে সেটি শোনা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞের কাছেও যান এবং ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে ফেরার চেষ্টা করেন।

এই অভিজ্ঞতা তাকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিপাকতন্ত্রজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষদের প্রতিদিনের সংগ্রাম তিনি নতুনভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। অনেকেই যে নীরবে এমন শারীরিক ও মানসিক চাপ বহন করেন, তা এখন তিনি আরও গভীরভাবে বুঝতে পারেন।

মায়িমের অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, যে কোনো ওষুধ ব্যবহারের আগে সম্ভাব্য সুফল ও ঝুঁকি সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা জরুরি। বিশেষ করে নতুন ও বহুল আলোচিত চিকিৎসাপদ্ধতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।

Mayim Bialik as Blossom

 

Mayim Bialik smiling on the red carpet at a fan event in Hollywood California

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রের শক্তি কি দমন-পীড়নে, নাকি জনগণের আস্থায়?

জিএলপি-১ ওষুধের এক ডোজেই দুঃস্বপ্ন, নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন অভিনেত্রী মায়িম বিয়ালিক

০১:০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ওজন কমানোর জন্য বহুল আলোচিত জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ নিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী Mayim Bialik। তিনি দাবি করেছেন, ওষুধটির সর্বনিম্ন মাত্রার একটি ইনজেকশন নেওয়ার পরই কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে গুরুতর শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

মায়িম জানান, তিনি মূলত ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে নয়, দীর্ঘদিনের কিছু শারীরিক সমস্যার উপশমের আশায় চিকিৎসকদের পরামর্শে এই ওষুধ গ্রহণ করেছিলেন। কৈশোর থেকেই শরীরের গঠন নিয়ে মানসিক চাপে ভুগলেও এবার তার লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্যগত জটিলতা কমানো।

দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসংকট

অভিনেত্রী জানান, অল্প বয়সেই তার অটোইমিউন রোগ গ্রেভস ডিজিজ ধরা পড়ে। এরপর বছরের পর বছর তিনি শরীরে র‍্যাশ, অ্যালার্জি, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা, ঘুমের সমস্যা এবং মানসিক অবসাদসহ নানা জটিলতায় ভুগেছেন। বিভিন্ন সময়ে একাধিক রোগ শনাক্ত হলেও সমস্যার মূল কারণ স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।

Mayim Bialik

চিকিৎসকদের পরামর্শে কয়েক মাস আগে তিনি জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহার শুরু করেন। ধারণা ছিল, এটি শরীরের প্রদাহ কমিয়ে কিছু উপসর্গে উপকার করতে পারে।

ইনজেকশনের পর শুরু হয় বিপর্যয়

তবে প্রথম ইনজেকশনের পরই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে থাকে। তিনি জানান, তীব্র ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা, পেটব্যথা, শরীরজুড়ে ব্যথা এবং পানি ধরে রাখতে না পারার মতো সমস্যায় ভুগতে হয় তাকে।

খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলেই শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। ডিহাইড্রেশনের কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে শিরায় তরল গ্রহণ করতে হয়। কয়েকদিন ধরে প্রায় কিছুই খেতে পারেননি তিনি।

মায়িমের ভাষায়, পুরো অভিজ্ঞতাটি ছিল অত্যন্ত কষ্টকর এবং শারীরিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার মতো।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে নতুন উপলব্ধি

Mayim Bialik smiling in a screenshot from Club Random Media

পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য পরিপাকতন্ত্র-সংক্রান্ত সমস্যা এই ধরনের ওষুধের পরিচিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে পড়ে। যদিও অনেকের ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ হালকা থাকে এবং সময়ের সঙ্গে কমে যায়, তার ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া ছিল অনেক বেশি তীব্র।

তিনি বলেন, অসুস্থতার মাঝেও তার মনে বারবার একটি চিন্তা এসেছে— হয়তো এর ফলে কিছু ওজন কমবে। এই উপলব্ধি তাকে দীর্ঘদিনের শরীর-সংক্রান্ত মানসিক চাপ ও সৌন্দর্যের সামাজিক মানদণ্ড নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

ওষুধ বন্ধের সিদ্ধান্ত

অবশেষে তিনি ওষুধটি আর ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেন। তার মতে, শরীরের সংকেতকে উপেক্ষা না করে সেটি শোনা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞের কাছেও যান এবং ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে ফেরার চেষ্টা করেন।

এই অভিজ্ঞতা তাকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিপাকতন্ত্রজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষদের প্রতিদিনের সংগ্রাম তিনি নতুনভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। অনেকেই যে নীরবে এমন শারীরিক ও মানসিক চাপ বহন করেন, তা এখন তিনি আরও গভীরভাবে বুঝতে পারেন।

মায়িমের অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, যে কোনো ওষুধ ব্যবহারের আগে সম্ভাব্য সুফল ও ঝুঁকি সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা জরুরি। বিশেষ করে নতুন ও বহুল আলোচিত চিকিৎসাপদ্ধতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।

Mayim Bialik as Blossom

 

Mayim Bialik smiling on the red carpet at a fan event in Hollywood California