মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ডাইনাস মোখতার এমন একটি ব্যক্তিগত আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন, যা শুনে অনেক ভক্তই বিস্মিত হতে পারেন। অন্যরা যেখানে মৃতদেহ বা অপরাধসংক্রান্ত দৃশ্য এড়িয়ে চলেন, সেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফরেনসিক বিজ্ঞান, অপরাধ তদন্ত এবং মৃতদেহ-সংক্রান্ত তথ্য ও ছবি দেখার প্রতি গভীর আগ্রহ পোষণ করে আসছেন।
৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর পুরো নাম ওয়ান ইন্তান এদ্রিনাস ওয়ান মোখতার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মানুষের শরীর কীভাবে কাজ করে এবং মৃত্যুর পর কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে, তা জানার আগ্রহ থেকেই তাঁর এই কৌতূহলের জন্ম।
দীর্ঘদিনের কৌতূহল
ডাইনাস জানান, অপরাধভিত্তিক গল্প, তদন্তমূলক অনুষ্ঠান এবং বাস্তব অপরাধের ঘটনা তাঁকে বরাবরই আকৃষ্ট করে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি নতুন কোনো আগ্রহ নয়; বরং বহু বছর ধরে তিনি এ বিষয়ে আগ্রহী।
তিনি স্মরণ করেন, ২০০৪ সালের সুনামির সময় মানুষের দেহ মৃত্যুর কয়েক দিন পর কেমন দেখায়, সে বিষয়ে তিনি নিয়মিত তথ্য অনুসন্ধান করতেন। মানুষের শরীরের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে জানার আগ্রহই তাঁকে ফরেনসিক ও অপরাধ তদন্তের বিষয়গুলোর দিকে টেনে নিয়েছে।
বাস্তব ঘটনার গল্পে বেশি আগ্রহ
অভিনেত্রীর মতে, বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র বা সিরিজ তাঁর বিশেষ পছন্দ। বিশেষ করে মনস্তাত্ত্বিক অপরাধ, সিরিয়াল অপরাধী বা জটিল চরিত্রভিত্তিক গল্প তাঁকে বেশি আকর্ষণ করে।
তিনি বলেন, ফরেনসিক ছবি বা চিকিৎসাবিষয়ক উপকরণ দেখলেও তাঁর মধ্যে অস্বস্তি কাজ করে না। বরং কী ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল এবং সেই ব্যক্তির পরিণতির পেছনের গল্প কী—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তাঁর বেশি আগ্রহ।
বাস্তবে মৃতদেহ দেখেননি
যদিও মৃতদেহ ও ফরেনসিক বিষয়ক নানা তথ্য তিনি নিয়মিত অনুসরণ করেন, ডাইনাস স্বীকার করেছেন যে বাস্তবে তিনি কখনও কোনো মৃতদেহ কাছ থেকে দেখেননি।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর কাছে ঘৃণ্য মনে হয় না। বরং একজন মানুষের জীবনের শেষ পরিণতির পেছনের ঘটনাগুলো বুঝতে চাওয়ার প্রবণতাই বেশি কাজ করে। তবে বাস্তবে সামনে কোনো মৃতদেহ দেখলে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা তিনি নিজেও নিশ্চিত নন।

‘আমি সাইকোপ্যাথ নই’
নিজের এই ব্যতিক্রমী শখ নিয়ে নানা ধরনের ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও জানেন ডাইনাস। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো অস্বাভাবিক বা অন্ধকার মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ নয়।
তাঁর মতে, মানুষের শরীর, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং মৃত্যুর পরের পরিবর্তন সম্পর্কে জানার বৈজ্ঞানিক কৌতূহল থেকেই এ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একসময় তিনি নিজেকেই প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি কি সাইকোপ্যাথ? পরে উপলব্ধি করেন, বিষয়টি আসলে জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ ছাড়া আর কিছু নয়।
মেয়ের মধ্যেও একই আগ্রহ
ডাইনাস আরও জানান, তাঁর দ্বিতীয় সন্তানও একই ধরনের কৌতূহল পোষণ করে। ভবিষ্যতে সন্তান যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বা ফরেনসিক বিজ্ঞানের মতো কোনো পেশা বেছে নিতে চায়, তাতেও তাঁর কোনো আপত্তি থাকবে না।
নতুন সিরিজ নিয়ে উচ্ছ্বাস
সম্প্রতি থ্রিলারধর্মী সিরিজ ‘গ্রিয়া’-তে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন ডাইনাস। তিনি জানান, সিরিজটির গল্প তাঁর ব্যক্তিগত আগ্রহের সঙ্গে অনেকটাই মিল থাকায় প্রকল্পটি তাঁকে বিশেষভাবে উচ্ছ্বসিত করেছে।
১০ পর্বের এই নাট্যধারাবাহিকে তাঁর সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন চাচা মেমবং, শা আলিয়াহিয়া এবং নাজিম ওসমান। সিরিজটি বর্তমানে বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে দেখা যাচ্ছে।
ডাইনাস মোখতারের ফরেনসিক বিজ্ঞান নিয়ে অদ্ভুত আগ্রহ এবং মানুষের শরীর সম্পর্কে জানার কৌতূহল সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডাইনাস মোখতারের ফরেনসিক আগ্রহ
মালয়েশিয়ার অভিনেত্রী ডাইনাস মোখতার ফরেনসিক বিজ্ঞান, অপরাধ তদন্ত ও মানুষের শরীর নিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের কৌতূহলের কথা প্রকাশ করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















