ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডের লড়াইয়ে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড, ঘানা, পর্তুগাল, উজবেকিস্তান, ক্রোয়েশিয়া, পানামা, কলম্বিয়া ও ডিআর কঙ্গো। দলগুলোর প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা বেশ কয়েকটি ম্যাচে পরিষ্কার ফেভারিট নির্ধারণ করলেও কিছু লড়াইয়ে চমকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস, ঘানার পরীক্ষা
প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দলটির আক্রমণাত্মক ফুটবল বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। হ্যারি কেইন দুই গোল করে ফর্মের ইঙ্গিত দিয়েছেন, আর জুড বেলিংহ্যামও ছিলেন উজ্জ্বল।
অন্যদিকে ঘানা প্রথম ম্যাচে পানামাকে নাটকীয়ভাবে হারালেও তাদের পারফরম্যান্স পুরোপুরি সন্তোষজনক ছিল না। শেষ মুহূর্তের গোলে পাওয়া সেই জয় আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরও সংগঠিত ও কার্যকর ফুটবল খেলতে হবে আফ্রিকান দলটিকে। বিশেষজ্ঞদের বেশিরভাগই এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয় দেখছেন।
পর্তুগালের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ
প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে হতাশ করেছে পর্তুগাল। বলের দখলে আধিপত্য থাকলেও তারা খুব কম সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিল। বিশেষ করে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আজ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে কোচ রবার্তো মার্টিনেজের দলের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। তবে উজবেকিস্তানও জানে কীভাবে পর্তুগালের আক্রমণকে আটকে দিতে হয়। প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে হারলেও দ্বিতীয়ার্ধে তারা কিছু ইতিবাচক দিক দেখিয়েছে। তবু কাগজে-কলমে পর্তুগালই এগিয়ে।
বাঁচা-মরার লড়াই ক্রোয়েশিয়া ও পানামার
প্রথম ম্যাচে দুই দলই পরাজিত হয়েছে। ফলে নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে আজকের ম্যাচটি প্রায় ‘অবশ্যই জিততে হবে’ ধরনের হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্রোয়েশিয়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কিছু সময় ভালো ফুটবল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অন্যদিকে পানামা ঘানার বিপক্ষে বলের দখল বেশি রাখলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। কর্নার ও সেট-পিস থেকে সুযোগ তৈরি করাই হতে পারে তাদের বড় অস্ত্র। তবে বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস ক্রোয়েশিয়ার পক্ষেই।
কলম্বিয়ার লক্ষ্য দ্বিতীয় জয়
প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী কলম্বিয়া। দলের সবচেয়ে বড় ভরসা লুইস দিয়াজ, যিনি ধারাবাহিকভাবে গোল ও অ্যাসিস্টে অবদান রেখে চলেছেন।
ডিআর কঙ্গো অবশ্য প্রথম ম্যাচে পর্তুগালকে রুখে দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। রক্ষণভাগের সংগঠিত পারফরম্যান্স এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ তাদের শক্তি। তবু সামগ্রিক শক্তি ও ফর্ম বিবেচনায় কলম্বিয়াকেই এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব। আজকের ফলাফল কয়েকটি দলের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনাকে আরও পরিষ্কার করে দিতে পারে।
বিশ্বকাপে আজ চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নজর থাকবে ইংল্যান্ড, পর্তুগাল ও কলম্বিয়ার ওপর। দ্বিতীয় রাউন্ডে জয় পেলে এগিয়ে যাবে নকআউট স্বপ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















