০১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
চাঁদপুরে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের ক্ষোভ: পল্লী বিদ্যুতের কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাড়বে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা রক্ষণ ভাঙার সব কৌশল ছিল, গোলটাই ছিল না: ঘানার কাছে কেন থমকে গেল ইংল্যান্ড চীনের বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌরঝড়ের আতঙ্ক কতটা বাস্তব, আর কতটা মোকাবিলা করা সম্ভব? রোনালদিনহোর অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন: ৪৬ বছর বয়সে ইতালির রাভেন্নায় যোগ দিলেন ব্রাজিল কিংবদন্তি ডলার নির্ভরতা কমাতে ইন্দোনেশিয়া-চীনের নতুন উদ্যোগ, স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনে গতি পোশাক খাতে পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স সহজ করার দাবি বিজিএমইএর ট্রাম্প-ইরান আলোচনায় প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব, চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ২

দূরবর্তী কাজের সুযোগে বদলাচ্ছে পরিবার-জীবনের সমীকরণ, স্বস্তিতে কর্মজীবী বাবা-মায়েরা

করোনাভাইরাস মহামারির সময় শুরু হওয়া দূরবর্তী কাজের সংস্কৃতি অনেক কর্মজীবী বাবা-মায়ের জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। বিশেষ করে সন্তান লালন-পালন ও পেশাগত দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানোর ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থাকে অনেকেই আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। নতুন বাস্তবতায় কর্মজীবী মা-বাবারা পরিবার ও কাজের মধ্যে আগের তুলনায় ভালো ভারসাম্য খুঁজে পাচ্ছেন।

পরিবার ও পেশার মধ্যে নতুন ভারসাম্য

অনেক কর্মজীবী নারী জানিয়েছেন, দূরবর্তী বা নমনীয় কাজের সুযোগ না থাকলে তারা হয়তো মাতৃত্বের সিদ্ধান্তই নিতে পারতেন না। আগে অফিসকেন্দ্রিক কর্মসংস্কৃতিতে সন্তান ও পরিবারের প্রয়োজনকে আড়ালে রাখতে হতো। কিন্তু এখন কর্মস্থলে পরিবার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের সময় ও স্থান পরিবর্তনের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।

মহামারির পর অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল মনোভাব গ্রহণ করেছে। ফলে অসুস্থ সন্তানের দেখভাল, স্কুল থেকে সন্তানকে আনা-নেওয়া কিংবা বয়স্ক বাবা-মায়ের যত্ন নেওয়ার মতো দায়িত্ব পালন করা তুলনামূলক সহজ হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রে মায়েদের অংশগ্রহণ বেড়েছে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সন্তান রয়েছে এমন কর্মক্ষম বয়সী নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী সন্তানের মায়েদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নমনীয় কর্মব্যবস্থা এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

অনেক নারী পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হওয়ায় তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা, পেশাগত লক্ষ্য এবং ব্যক্তিগত স্বপ্নও তাদের কর্মজীবনে সক্রিয় রাখছে। দূরবর্তী কাজ সেই সুযোগকে আরও বাস্তব করে তুলেছে।

15 Moms Get *Real* On How to Balance Work and Life - The Mother Chapter

বাবারাও পাচ্ছেন বেশি সময়

শুধু মায়েরাই নন, অনেক বাবাও এখন সন্তানদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। ঘরে বসে কাজ করার কারণে স্কুল শেষে সন্তানদের সময় দেওয়া, পড়াশোনায় সাহায্য করা কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া সহজ হয়েছে।

আগে কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় উপস্থিত থাকা এক ধরনের অলিখিত বাধ্যবাধকতা ছিল। এখন অনেক কর্মী মনে করছেন, কাজের ফলাফলই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অফিসে শারীরিক উপস্থিতি নয়। এর ফলে পরিবারকেন্দ্রিক জীবনযাপনের সুযোগ বেড়েছে।

চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে

তবে সব সমস্যার সমাধান হয়নি। শিশু পরিচর্যার ব্যয় এখনও অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ। কর্মজীবী নারীরা এখনো মজুরি বৈষম্যের মুখোমুখি হন। অনেক পেশায় দূরবর্তী কাজের সুযোগও নেই।

তবুও গবেষকরা মনে করেন, মহামারির সময়ের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে কর্মক্ষেত্রের কাঠামোগত পরিবর্তন পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্য উন্নত করতে পারে। ভবিষ্যতে আরও নমনীয় কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা গেলে কর্মী ও পরিবার—উভয়ের জন্যই তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

দূরবর্তী কাজের সুযোগ কর্মজীবী বাবা-মায়ের জীবন বদলে দিচ্ছে। পরিবার ও পেশার ভারসাম্য রক্ষায় নতুন সম্ভাবনার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের ক্ষোভ: পল্লী বিদ্যুতের কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

দূরবর্তী কাজের সুযোগে বদলাচ্ছে পরিবার-জীবনের সমীকরণ, স্বস্তিতে কর্মজীবী বাবা-মায়েরা

০৯:১২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

করোনাভাইরাস মহামারির সময় শুরু হওয়া দূরবর্তী কাজের সংস্কৃতি অনেক কর্মজীবী বাবা-মায়ের জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। বিশেষ করে সন্তান লালন-পালন ও পেশাগত দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানোর ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থাকে অনেকেই আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। নতুন বাস্তবতায় কর্মজীবী মা-বাবারা পরিবার ও কাজের মধ্যে আগের তুলনায় ভালো ভারসাম্য খুঁজে পাচ্ছেন।

পরিবার ও পেশার মধ্যে নতুন ভারসাম্য

অনেক কর্মজীবী নারী জানিয়েছেন, দূরবর্তী বা নমনীয় কাজের সুযোগ না থাকলে তারা হয়তো মাতৃত্বের সিদ্ধান্তই নিতে পারতেন না। আগে অফিসকেন্দ্রিক কর্মসংস্কৃতিতে সন্তান ও পরিবারের প্রয়োজনকে আড়ালে রাখতে হতো। কিন্তু এখন কর্মস্থলে পরিবার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের সময় ও স্থান পরিবর্তনের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।

মহামারির পর অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল মনোভাব গ্রহণ করেছে। ফলে অসুস্থ সন্তানের দেখভাল, স্কুল থেকে সন্তানকে আনা-নেওয়া কিংবা বয়স্ক বাবা-মায়ের যত্ন নেওয়ার মতো দায়িত্ব পালন করা তুলনামূলক সহজ হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রে মায়েদের অংশগ্রহণ বেড়েছে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সন্তান রয়েছে এমন কর্মক্ষম বয়সী নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী সন্তানের মায়েদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নমনীয় কর্মব্যবস্থা এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

অনেক নারী পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হওয়ায় তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা, পেশাগত লক্ষ্য এবং ব্যক্তিগত স্বপ্নও তাদের কর্মজীবনে সক্রিয় রাখছে। দূরবর্তী কাজ সেই সুযোগকে আরও বাস্তব করে তুলেছে।

15 Moms Get *Real* On How to Balance Work and Life - The Mother Chapter

বাবারাও পাচ্ছেন বেশি সময়

শুধু মায়েরাই নন, অনেক বাবাও এখন সন্তানদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। ঘরে বসে কাজ করার কারণে স্কুল শেষে সন্তানদের সময় দেওয়া, পড়াশোনায় সাহায্য করা কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া সহজ হয়েছে।

আগে কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় উপস্থিত থাকা এক ধরনের অলিখিত বাধ্যবাধকতা ছিল। এখন অনেক কর্মী মনে করছেন, কাজের ফলাফলই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অফিসে শারীরিক উপস্থিতি নয়। এর ফলে পরিবারকেন্দ্রিক জীবনযাপনের সুযোগ বেড়েছে।

চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে

তবে সব সমস্যার সমাধান হয়নি। শিশু পরিচর্যার ব্যয় এখনও অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ। কর্মজীবী নারীরা এখনো মজুরি বৈষম্যের মুখোমুখি হন। অনেক পেশায় দূরবর্তী কাজের সুযোগও নেই।

তবুও গবেষকরা মনে করেন, মহামারির সময়ের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে কর্মক্ষেত্রের কাঠামোগত পরিবর্তন পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্য উন্নত করতে পারে। ভবিষ্যতে আরও নমনীয় কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা গেলে কর্মী ও পরিবার—উভয়ের জন্যই তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

দূরবর্তী কাজের সুযোগ কর্মজীবী বাবা-মায়ের জীবন বদলে দিচ্ছে। পরিবার ও পেশার ভারসাম্য রক্ষায় নতুন সম্ভাবনার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।