০৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় আমিরাতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা শুধু খাবার নয়, মানুষকে দেখার এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির নাম অ্যান্থনি বোর্দেইন ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে জাতীয় সম্মাননা ফিরিয়ে দিলেন চলচ্চিত্রকার ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে নেতার কটাক্ষ: ‘রিকশা থেকে প্রাডো, জুলাই চেতনা বিক্রির রাজনীতি বন্ধ হোক’ দায়িত্ব শুরু করলেন ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ডেঙ্গুতে আরও এক মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ১৯৮ জন: আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৫,৫০০ বিশ্বকাপের অর্ধেক পথ পেরিয়ে নকআউট উত্তেজনা, মেসি-এমবাপ্পেদের চোখ এখন শিরোপায় বেইজিং বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, সই হলো একাধিক সমঝোতা স্মারক প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ঝলমলে কানস লায়ন্স উপস্থিতি, গল্প বলার শক্তিকেই দিলেন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৮.২২ বিলিয়ন ডলার

চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বকেয়া বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশই স্বল্পসুদে পাওয়া কনসেশনাল ঋণ। বুধবার জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে সরকারের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৮ হাজার ২২৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন ডলার।

ঋণের গঠনে কনসেশনাল ঋণের আধিপত্য

অর্থমন্ত্রী বলেন, মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কনসেশনাল এবং ৩৮ দশমিক ০৩ শতাংশ নন-কনসেশনাল ঋণ। কনসেশনাল ঋণ সাধারণত অপেক্ষাকৃত কম সুদ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধ সুবিধা নিয়ে পাওয়া যায়, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল।

তবে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

কেন বাড়ছে ঋণ ব্যবস্থাপনার চাপ

অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর থেকে বৈদেশিক ঋণের কনসেশনাল সুবিধা ধীরে ধীরে কমে আসছে।

একই সময়ে সরকারের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আগামী বছরগুলোতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের দায় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

নতুন ঋণ গ্রহণে কঠোর যাচাই

অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন বৈদেশিক ঋণ এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে এখন আরও কঠোর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। উচ্চ সুদের বিদেশি ঋণ যেন অপ্রয়োজনীয় বা কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

তার ভাষায়, কেবলমাত্র উচ্চ অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনতে সক্ষম প্রকল্পগুলোকেই বৈদেশিক অর্থায়নের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রকল্প ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি ঠেকাতে নজরদারি

বৈদেশিক অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন তদারকিও জোরদার করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ব্যয় বেড়ে যাওয়ার যে প্রবণতা রয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে সরকার আরও কঠোর নজরদারি করছে।

এ ছাড়া সরকারের মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল বা এমটিডিএস হালনাগাদের কাজ চলছে। পাশাপাশি ঋণের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ডেট সাসটেইনেবিলিটি অ্যানালাইসিস (ডিএসএ) পরিচালনা করা হচ্ছে।

ঋণ ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের প্রস্তুতি

সংসদকে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক গুণগত মান ও কার্যকারিতা বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আইনগত সংস্কারের একটি পরিকল্পনা শিগগিরই প্রণয়ন করা হবে।

তার মতে, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ঋণ দায় দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৮.২২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ঋণ পরিশোধের চাপ মোকাবিলায় সরকার নতুন ঋণ গ্রহণ ও প্রকল্প তদারকিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

#বাংলাদেশ #বৈদেশিকঋণ #অর্থনীতি #অর্থমন্ত্রী #জাতীয়সংসদ #ঋণব্যবস্থাপনা #উন্নয়নপ্রকল্প #বাংলাদেশঅর্থনীতি

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় আমিরাতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৮.২২ বিলিয়ন ডলার

০৯:১৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বকেয়া বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশই স্বল্পসুদে পাওয়া কনসেশনাল ঋণ। বুধবার জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে সরকারের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৮ হাজার ২২৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন ডলার।

ঋণের গঠনে কনসেশনাল ঋণের আধিপত্য

অর্থমন্ত্রী বলেন, মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কনসেশনাল এবং ৩৮ দশমিক ০৩ শতাংশ নন-কনসেশনাল ঋণ। কনসেশনাল ঋণ সাধারণত অপেক্ষাকৃত কম সুদ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধ সুবিধা নিয়ে পাওয়া যায়, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল।

তবে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

কেন বাড়ছে ঋণ ব্যবস্থাপনার চাপ

অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর থেকে বৈদেশিক ঋণের কনসেশনাল সুবিধা ধীরে ধীরে কমে আসছে।

একই সময়ে সরকারের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আগামী বছরগুলোতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের দায় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

নতুন ঋণ গ্রহণে কঠোর যাচাই

অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন বৈদেশিক ঋণ এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে এখন আরও কঠোর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। উচ্চ সুদের বিদেশি ঋণ যেন অপ্রয়োজনীয় বা কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

তার ভাষায়, কেবলমাত্র উচ্চ অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনতে সক্ষম প্রকল্পগুলোকেই বৈদেশিক অর্থায়নের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রকল্প ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি ঠেকাতে নজরদারি

বৈদেশিক অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন তদারকিও জোরদার করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ব্যয় বেড়ে যাওয়ার যে প্রবণতা রয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে সরকার আরও কঠোর নজরদারি করছে।

এ ছাড়া সরকারের মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল বা এমটিডিএস হালনাগাদের কাজ চলছে। পাশাপাশি ঋণের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ডেট সাসটেইনেবিলিটি অ্যানালাইসিস (ডিএসএ) পরিচালনা করা হচ্ছে।

ঋণ ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের প্রস্তুতি

সংসদকে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক গুণগত মান ও কার্যকারিতা বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আইনগত সংস্কারের একটি পরিকল্পনা শিগগিরই প্রণয়ন করা হবে।

তার মতে, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ঋণ দায় দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৮.২২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ঋণ পরিশোধের চাপ মোকাবিলায় সরকার নতুন ঋণ গ্রহণ ও প্রকল্প তদারকিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

#বাংলাদেশ #বৈদেশিকঋণ #অর্থনীতি #অর্থমন্ত্রী #জাতীয়সংসদ #ঋণব্যবস্থাপনা #উন্নয়নপ্রকল্প #বাংলাদেশঅর্থনীতি