ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমলেও দেশের অর্থনীতির ভেতরে থাকা কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো এখনো রয়ে গেছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনের শেয়ারে খুচরা বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত ঝোঁক ভবিষ্যতে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তুলনামূলক নিরাপদ খাত হিসেবে ভোগ্যপণ্য, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের শেয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশি উপযোগী হতে পারে। অতীতে এসব খাত তুলনামূলক স্থিতিশীল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিবেশেও ভালো অবস্থানে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রবৃদ্ধির পথে বাধা
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, ভারতের অর্থনীতি এমন এক প্রবৃদ্ধির পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সরকারি পরিসংখ্যান বাস্তব অর্থনৈতিক শক্তিকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করছে না। দুর্বল ভোগব্যয়, উৎপাদনশীলতার ধীরগতি এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সীমাবদ্ধতা অর্থনীতিকে আরও নাজুক করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের গতি প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় অনেক পরিবারের ব্যয় করার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সমানভাবে বাড়ছে না।
শেয়ারবাজারে বাড়ছে ঝুঁকি
বাজার বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনের অনেক শেয়ার বর্তমানে তাদের প্রকৃত আয়ের তুলনায় অনেক বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে মূল্য সংশোধনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাঁদের মতে, বাজারে মালিকানার ঘনত্বও বাড়ছে। ফলে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে অতিরিক্ত বিনিয়োগের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে খুচরা বিনিয়োগকারীরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে বিনিয়োগ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে
চলতি বছরে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বড় অঙ্কের অর্থ প্রত্যাহারের ঘটনাও অর্থনীতিবিদদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম তাদের প্রকৃত আয় ও সম্ভাব্য মুনাফার তুলনায় বেশি হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন।
এতে বাজারে তারল্য কমার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
চাহিদা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারির পর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও ঋণপ্রবাহের কারণে ভোগব্যয়ে যে উত্থান দেখা গিয়েছিল, তা এখন ধীর হয়ে এসেছে। ফলে অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে হলে আয়সংকট মোকাবিলা, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সংগঠিত ও অসংগঠিত খাতের মধ্যে বৈষম্য কমানো জরুরি।
তাঁদের সতর্কবার্তা, এসব মৌলিক সমস্যা সমাধান না হলে ভারতের অর্থনীতি দীর্ঘ সময় ধরে নিম্ন প্রবৃদ্ধির এক চক্রে আটকে থাকতে পারে। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বৈশ্বিক ধাক্কা সামাল দিতেও তখন দেশকে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
ভারতের অর্থনীতিতে কাঠামোগত দুর্বলতা, অসম ভোগব্যয় ও শেয়ারবাজারের ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা।
Sarakhon Report 



















