যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিল্পের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজিত হলেও প্রার্থী অ্যালেক্স বোরেস দেখিয়ে দিয়েছেন, এআই শিল্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিকভাবে লাভজনকও হতে পারে।
ম্যানহাটনের একটি উন্মুক্ত কংগ্রেসনাল আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বোরেস শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে না পারলেও তার প্রচারণা জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। কারণ, তার নির্বাচনী লড়াই ঘিরে এআই শিল্প-সমর্থিত ও এআই নিয়ন্ত্রণপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী বিপুল অর্থ ব্যয় করে।
এআই শিল্পের অর্থযুদ্ধ
নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই বোরেস এআই নীতিমালাকে অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি আগে থেকেই প্রযুক্তি খাতের জবাবদিহি ও কড়া নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পরিচিত ছিলেন।
একপর্যায়ে এআই শিল্প-সমর্থিত একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক তহবিল তার বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করে। বোরেসের দল এটিকে সুযোগ হিসেবে নেয়। তারা প্রচারে তুলে ধরে যে, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো একজন সাধারণ প্রার্থীকে চুপ করিয়ে দিতে চায়।
এই কৌশল দ্রুত কাজ করতে শুরু করে। বোরেসের বিরুদ্ধে অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি তাকে সমর্থন করতেও একাধিক গোষ্ঠী এগিয়ে আসে। ফলে নির্বাচনী লড়াইটি শুধু একজন প্রার্থীর প্রতিযোগিতা না থেকে এআই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরাজয়ের মধ্যেও অর্জন
নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জয় পান অভিজ্ঞ রাজনীতিক মাইকা ল্যাশার। তার শক্তিশালী রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ও বড় অঙ্কের অর্থায়ন তাকে এগিয়ে রাখে।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, বোরেসের বিরুদ্ধে পরিচালিত নেতিবাচক প্রচারণা উল্টো তাকে বেশি পরিচিত করে তোলে। আগে তুলনামূলকভাবে অল্প পরিচিত এই রাজনীতিক অল্প সময়েই জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসেন।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, বোরেস দেখিয়েছেন যে প্রযুক্তি খাতের বিপুল অর্থশক্তিকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব এবং ভোটারদের কাছে সেটি গ্রহণযোগ্য বার্তাও হতে পারে।

ডেমোক্র্যাটদের জন্য নতুন কৌশল?
বর্তমানে এআই শিল্পের ভেতরেও বিভক্তি স্পষ্ট। এক পক্ষ কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পক্ষে, অন্য পক্ষ দ্রুত প্রযুক্তি উন্নয়ন ও তুলনামূলক শিথিল নীতির সমর্থক।
বোরেসের প্রচারণা দেখিয়েছে, প্রযুক্তি কোম্পানির অতিরিক্ত প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটারদের কাছে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা তৈরি করা সম্ভব। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে এআই শিল্পের জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।
তার প্রচারণার মূল বার্তা ছিল সহজ—যদি বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কোনো প্রার্থীকে ভয় পায়, তাহলে সেই প্রার্থী হয়তো সাধারণ মানুষের পক্ষে লড়াই করছেন।
সামনের নির্বাচনে কী হতে পারে
নিউইয়র্কের এই নির্বাচনকে অনেকেই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়ের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন। এআই প্রযুক্তি যত বিস্তৃত হবে, ততই এর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক বাড়বে।
রাজনৈতিক কৌশলবিদরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রার্থী এআই শিল্পের প্রভাবকে নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। একই সঙ্গে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেও রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও সতর্কভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।
পরাজয়ের পর বোরেস বলেছেন, তার প্রচারণাকে সতর্কবার্তা হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি নকশা হিসেবে দেখা উচিত। তার মতে, প্রযুক্তি খাতের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
এআই শিল্প ও রাজনীতির এই নতুন দ্বন্দ্ব আগামী নির্বাচনী মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















