০৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
২০৩৮ বিশ্বকাপ আয়োজনেও আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা সিয়াটলে ইরান-মিসর ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক, রংধনু পতাকা নিয়ে ফিফার সিদ্ধান্তে উত্তেজনা মোজার্টের অজানা সুরের খাতা আবিষ্কার, মিলল সাতটি নতুন সংগীতকর্ম ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাই না টেনেসি উইলিয়ামসের নাটক থেকে অপেরা: পাখি, অন্ধকার রহস্য আর গথিক আবহে নতুন রূপ ইউরোপে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া ‘প্রায় অসম্ভব’ বলছেন বিজ্ঞানীরা হরমুজ প্রণালির বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব, তেল সরবরাহে নতুন কৌশলে কমছে ঝুঁকি হামের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু ৭০০ ছাড়াল, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও নো-পুশইন নীতি: সীমান্তে কাউকে ঢুকতে দেয়নি বাংলাদেশ, দাবি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার একটি স্মৃতি, একটি নৈতিক সিদ্ধান্ত: আশুরার চিরন্তন শিক্ষা

ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানিতে বছরের দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ভিয়েতনামের বস্ত্র ও পোশাক খাত উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে পোশাক ও টেক্সটাইল রপ্তানি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল থাকা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ কঠিন হওয়া সত্ত্বেও এই প্রবৃদ্ধি শিল্পখাতকে আশাবাদী করেছে। তবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

শক্তিশালী রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পেছনের কারণ

ভিয়েতনাম ন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্ট গ্রুপ (ভিনাটেক্স)-এর মহাপরিচালক কাও হু হিউ জানান, সাম্প্রতিক মার্কিন শুল্ক নীতির পরিবর্তনের ফলে একটি সাময়িক সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত উৎপাদন ও চালান বৃদ্ধি করে, যার ফলে রপ্তানি আয় বাড়ে।

এই প্রবৃদ্ধির ফলে ২০২৬ সালে ৪৮ থেকে ৪৯ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে দেশটির পোশাক খাত। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বছরের বাকি সময়েও ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স প্রয়োজন হবে।

দ্বিতীয়ার্ধে অনিশ্চয়তা

রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও শিল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সতর্কতা বাড়ছে। বিশেষ করে বছরের শেষ প্রান্তিকের অর্ডার পরিস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে কনটেইনার পরিবহন ব্যয় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা উৎপাদন ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

এছাড়া অন্যান্য উৎপাদনকারী দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান ধরে রাখতে ভিয়েতনামের রপ্তানিকারকদের আরও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

Vietnam's garment industry rebounds, but challenges loom – Asia News Network

বৈশ্বিক বাজারে চাপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রধান ভোক্তা বাজারে মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় প্রভাব ফেলছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পোশাকের মতো পণ্যে ব্যয় কমছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতারা এখন সতর্ক মজুতনীতি অনুসরণ করছে। তারা তুলনামূলক কম সময়ের জন্য অর্ডার দিচ্ছে এবং সরবরাহকারী নির্বাচনেও বেশি বাছাই করছে। ফলে ভবিষ্যৎ চাহিদা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বাজারভেদে ভিন্ন চিত্র

রপ্তানি বাজারগুলোর পারফরম্যান্স একরকম নয়। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও কয়েকটি এশীয় বাজারে দুর্বলতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে ইইউ-ভিয়েতনাম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা রপ্তানি প্রবাহকে সহায়তা করছে, যা অন্যান্য বাজারের দুর্বলতা কিছুটা পুষিয়ে দিচ্ছে।

প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার কৌশল

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর জোর দিচ্ছে। নগদ প্রবাহ স্থিতিশীল রাখা, মজুত ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভিয়েতনাম টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল অ্যাসোসিয়েশন (ভিটাস) প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধুমাত্র কম দামের ওপর নির্ভর না করে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি উচ্চ মূল্যসংযোজনভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেল যেমন এফওবি (ফ্রি অন বোর্ড) ও ওডিএম (অরিজিনাল ডিজাইন ম্যানুফ্যাকচারিং) সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করা যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০৩৮ বিশ্বকাপ আয়োজনেও আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা

ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানিতে বছরের দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

০৭:৩২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ভিয়েতনামের বস্ত্র ও পোশাক খাত উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে পোশাক ও টেক্সটাইল রপ্তানি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল থাকা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ কঠিন হওয়া সত্ত্বেও এই প্রবৃদ্ধি শিল্পখাতকে আশাবাদী করেছে। তবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

শক্তিশালী রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পেছনের কারণ

ভিয়েতনাম ন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্ট গ্রুপ (ভিনাটেক্স)-এর মহাপরিচালক কাও হু হিউ জানান, সাম্প্রতিক মার্কিন শুল্ক নীতির পরিবর্তনের ফলে একটি সাময়িক সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত উৎপাদন ও চালান বৃদ্ধি করে, যার ফলে রপ্তানি আয় বাড়ে।

এই প্রবৃদ্ধির ফলে ২০২৬ সালে ৪৮ থেকে ৪৯ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে দেশটির পোশাক খাত। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বছরের বাকি সময়েও ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স প্রয়োজন হবে।

দ্বিতীয়ার্ধে অনিশ্চয়তা

রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও শিল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সতর্কতা বাড়ছে। বিশেষ করে বছরের শেষ প্রান্তিকের অর্ডার পরিস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে কনটেইনার পরিবহন ব্যয় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা উৎপাদন ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

এছাড়া অন্যান্য উৎপাদনকারী দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান ধরে রাখতে ভিয়েতনামের রপ্তানিকারকদের আরও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

Vietnam's garment industry rebounds, but challenges loom – Asia News Network

বৈশ্বিক বাজারে চাপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রধান ভোক্তা বাজারে মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় প্রভাব ফেলছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পোশাকের মতো পণ্যে ব্যয় কমছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতারা এখন সতর্ক মজুতনীতি অনুসরণ করছে। তারা তুলনামূলক কম সময়ের জন্য অর্ডার দিচ্ছে এবং সরবরাহকারী নির্বাচনেও বেশি বাছাই করছে। ফলে ভবিষ্যৎ চাহিদা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বাজারভেদে ভিন্ন চিত্র

রপ্তানি বাজারগুলোর পারফরম্যান্স একরকম নয়। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও কয়েকটি এশীয় বাজারে দুর্বলতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে ইইউ-ভিয়েতনাম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা রপ্তানি প্রবাহকে সহায়তা করছে, যা অন্যান্য বাজারের দুর্বলতা কিছুটা পুষিয়ে দিচ্ছে।

প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার কৌশল

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর জোর দিচ্ছে। নগদ প্রবাহ স্থিতিশীল রাখা, মজুত ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভিয়েতনাম টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল অ্যাসোসিয়েশন (ভিটাস) প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধুমাত্র কম দামের ওপর নির্ভর না করে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি উচ্চ মূল্যসংযোজনভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেল যেমন এফওবি (ফ্রি অন বোর্ড) ও ওডিএম (অরিজিনাল ডিজাইন ম্যানুফ্যাকচারিং) সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করা যায়।