ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের আঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা ৯২০ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে এখনও ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া স্বজনদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকারি সহায়তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগও উঠেছে।
বুধবার গভীর রাতে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানার পর উত্তর ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
উদ্ধারকাজে সাধারণ মানুষের লড়াই
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্বজনরা হাতুড়ি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
অনেক পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস, এখনও বহু মানুষ জীবিত অবস্থায় ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছেন। তারা দ্রুত ভারী যন্ত্রপাতি ও আরও কার্যকর উদ্ধার সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
মানবিক সংকট আরও গভীর
সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং ২৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বহু মানুষের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে নিখোঁজের তালিকাও দ্রুত দীর্ঘ হচ্ছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি ও জরুরি সেবার সংকট দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা এখনও অনেক কম।
লাখো মানুষের জীবনে বিপর্যয়
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। রাজধানী কারাকাসের প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাও এর প্রভাবে পড়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে অগভীর গভীরতায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অনেক মানুষ এখনও নিজেদের ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে হাজার হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।

কোথাও কোথাও খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। সুপারমার্কেট ও ওষুধের দোকানের সামনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। কিছু এলাকায় লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ছে
ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার অভিযানে বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত বিশেষজ্ঞ ও উদ্ধারকর্মী যোগ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক উদ্ধার দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষের সন্ধানে কাজ করছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশি উদ্ধার বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি আরও আন্তর্জাতিক সহায়তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পৌঁছাবে। বিভিন্ন এলাকা থেকে সামরিক যান, অ্যাম্বুলেন্স, ভারী যন্ত্রপাতি ও ত্রাণবাহী বহর দুর্গত অঞ্চলের দিকে পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে সময় যত গড়াচ্ছে, স্বজনদের খুঁজে পাওয়ার আশা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবুও অসংখ্য পরিবার ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছে—হয়তো এখনও কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটবে, আর প্রিয়জন ফিরে আসবেন জীবিত অবস্থায়।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















