অযোধ্যার রাম মন্দিরকে ঘিরে অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এখন ভারতের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। মন্দির উদ্বোধনের দুই বছর পর ওঠা এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তদন্ত, দায়ের হয়েছে মামলা এবং ইতোমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিতর্কের সূচনা
গত ৭ জুন সমাজবাদী পার্টির এক নেতা অভিযোগ করেন, মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ অনুদানের অর্থের একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক কোটি রুপির অনুদান হিসাবের বাইরে চলে গেছে। তবে একই দিন মন্দির ট্রাস্ট অভিযোগ নাকচ করে জানায়, ভক্তদের দেওয়া প্রতিটি অর্থ যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও নিরীক্ষিত হয়।
অভিযোগের পর বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন বিরোধী নেতা স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য ছিল, এটি শুধু রাজনৈতিক বিষয় নয়, জনআস্থা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
![]()
তদন্তে সরকারের সক্রিয়তা
বিতর্ক বাড়তে থাকায় উত্তর প্রদেশ সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। জুনের মাঝামাঝি সময়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠনের নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, অপরাধে জড়িত কেউই ছাড় পাবে না।
তদন্তকারীরা মন্দির ট্রাস্টের কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মী, নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং অনুদান ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একই সঙ্গে নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও রৌপ্য অনুদানের হিসাব, নজরদারি ব্যবস্থা এবং মূল্যবান সামগ্রীর চলাচলও খতিয়ে দেখা হয়।
কী পাওয়া গেছে তদন্তে
তদন্তের অগ্রগতিতে প্রায় ১৫০ জনকে প্রাথমিকভাবে নজরদারির আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে কয়েক ডজন ব্যক্তির ভূমিকা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে কিছু নগদ অর্থ ও মূল্যবান ধাতুও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
![]()
বিশেষ তদন্ত দল তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে ফৌজদারি মামলা করার সুপারিশ করে। পাশাপাশি মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কারের পরামর্শও দেয়। এরপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে এবং আটজনকে গ্রেপ্তার করে।
বিতর্কের প্রভাব বাড়ছে
অযোধ্যার রাম মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। ফলে অনুদান সংক্রান্ত এই অভিযোগ জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তদন্ত এখনো চলমান। প্রশাসন বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে অনুদান ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















