০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
এক প্রশ্নে একমত ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান: এআই কি খুব দ্রুত এগোচ্ছে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে বাড়ছে জনঅসন্তোষ, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ভারতের গ্রামে স্মার্টফোন বিপ্লব, বদলে যাচ্ছে শিক্ষা, কাজ আর সামাজিক জীবন ভেনেজুয়েলার সোনার খনিতে নতুন সমীকরণ, মার্কিন তৎপরতায় বদলে যাচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য ইউরোপের শিল্প সংকট কি সত্যিই চীনের কারণে? নিজেদের দুর্বলতাই বড় চ্যালেঞ্জ ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে আশা, কিন্তু সংকট কাটাতে দরকার কঠিন সিদ্ধান্ত নীরব জ্ঞান শেখাতে গিয়ে নতুন সংকটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইজিজেটকে ঘিরে অধিগ্রহণ নাটক, ভেঙে বিক্রির শঙ্কায় ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ বাজেট এয়ারলাইন নতুন আতঙ্ক ‘জম্বি ইউনিকর্ন’: সিলিকন ভ্যালিতে কমছে স্টার্টআপের জৌলুস শিশুখাদ্য ফর্মুলা কতটা উপকারী? বিজ্ঞাপনের দাবির সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক

ক্ষমতাবানদের জবাবদিহি কঠিন করছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায়

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক দুটি রায় দেশটির বিচারব্যবস্থায় বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রায়গুলো খুব বেশি আলোচিত রাজনৈতিক মামলার মতো না হলেও, এগুলোর প্রভাব সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ক্ষমতাবান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক আইন বিশেষজ্ঞ।

ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্ষতিপূরণ নয়

একটি মামলার কেন্দ্রে ছিলেন ড্যামন ল্যান্ডর নামের এক রাস্টাফারিয়ান বন্দি। দীর্ঘ দুই দশক ধরে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তিনি নিজের চুল কাটেননি। কিন্তু কারাগারে প্রবেশের পর কর্মকর্তারা তার আপত্তি উপেক্ষা করে জোরপূর্বক চুল কেটে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ল্যান্ডরের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, বন্দিদের ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষার জন্য প্রণীত একটি ফেডারেল আইন এ ধরনের আচরণ নিষিদ্ধ করেছে। তবে মামলাটির মূল প্রশ্ন ছিল অধিকার লঙ্ঘনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে কি না।

Supreme Court likely to allow Trump FTC firing, expanding presidential power  - ABC News

ছয় বনাম তিন ভোটের রায়ে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা বলেন, আইনে এমন কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই যা কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয় যে তারা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিপূরণের মামলার মুখোমুখি হতে পারেন। ফলে ল্যান্ডর ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন না।

সংখ্যালঘু মতের বিচারপতিরা এর বিরোধিতা করে বলেন, এই সিদ্ধান্তে আইনটির মূল উদ্দেশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মতে, অধিকার লঙ্ঘনের পর যদি কোনো কার্যকর প্রতিকার না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইন মেনে চলার প্রেরণাও কমে যাবে।

বিদেশিদের মামলা করার পথও সংকুচিত

একই দিনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলায় একটি চীনা ধর্মীয় আন্দোলনের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তাদের ওপর নজরদারি ও নিপীড়নের ক্ষেত্রে একটি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তারা মার্কিন আদালতে মামলা করেন।

কিন্তু আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মত দেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকলেও এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আদালতের চেয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বেশি উপযুক্ত।

Trump Docket: New justice could sway court on president's personal cases -  POLITICO

ফলে বিদেশি নাগরিকদের আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে গেল।

বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ইঙ্গিত

আইন বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি রায় বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরে সুপ্রিম কোর্ট ধারাবাহিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার পথ সংকুচিত করেছে।

সমালোচকদের আশঙ্কা, এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়া আরও কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা বলছেন, তারা কেবল আইনসভা যে সীমারেখা নির্ধারণ করেছে তা মেনে চলছেন এবং নতুন অধিকার বা প্রতিকার তৈরি করছেন না।

আগামী মাসগুলোতে সুপ্রিম কোর্টের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রায় আসার কথা রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে বিচারব্যবস্থা, নাগরিক অধিকার এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এক প্রশ্নে একমত ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান: এআই কি খুব দ্রুত এগোচ্ছে?

ক্ষমতাবানদের জবাবদিহি কঠিন করছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায়

০১:৫৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক দুটি রায় দেশটির বিচারব্যবস্থায় বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রায়গুলো খুব বেশি আলোচিত রাজনৈতিক মামলার মতো না হলেও, এগুলোর প্রভাব সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ক্ষমতাবান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক আইন বিশেষজ্ঞ।

ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্ষতিপূরণ নয়

একটি মামলার কেন্দ্রে ছিলেন ড্যামন ল্যান্ডর নামের এক রাস্টাফারিয়ান বন্দি। দীর্ঘ দুই দশক ধরে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তিনি নিজের চুল কাটেননি। কিন্তু কারাগারে প্রবেশের পর কর্মকর্তারা তার আপত্তি উপেক্ষা করে জোরপূর্বক চুল কেটে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ল্যান্ডরের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, বন্দিদের ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষার জন্য প্রণীত একটি ফেডারেল আইন এ ধরনের আচরণ নিষিদ্ধ করেছে। তবে মামলাটির মূল প্রশ্ন ছিল অধিকার লঙ্ঘনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে কি না।

Supreme Court likely to allow Trump FTC firing, expanding presidential power  - ABC News

ছয় বনাম তিন ভোটের রায়ে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা বলেন, আইনে এমন কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই যা কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয় যে তারা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিপূরণের মামলার মুখোমুখি হতে পারেন। ফলে ল্যান্ডর ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন না।

সংখ্যালঘু মতের বিচারপতিরা এর বিরোধিতা করে বলেন, এই সিদ্ধান্তে আইনটির মূল উদ্দেশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মতে, অধিকার লঙ্ঘনের পর যদি কোনো কার্যকর প্রতিকার না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইন মেনে চলার প্রেরণাও কমে যাবে।

বিদেশিদের মামলা করার পথও সংকুচিত

একই দিনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলায় একটি চীনা ধর্মীয় আন্দোলনের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তাদের ওপর নজরদারি ও নিপীড়নের ক্ষেত্রে একটি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তারা মার্কিন আদালতে মামলা করেন।

কিন্তু আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মত দেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকলেও এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আদালতের চেয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বেশি উপযুক্ত।

Trump Docket: New justice could sway court on president's personal cases -  POLITICO

ফলে বিদেশি নাগরিকদের আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে গেল।

বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ইঙ্গিত

আইন বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি রায় বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরে সুপ্রিম কোর্ট ধারাবাহিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার পথ সংকুচিত করেছে।

সমালোচকদের আশঙ্কা, এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়া আরও কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা বলছেন, তারা কেবল আইনসভা যে সীমারেখা নির্ধারণ করেছে তা মেনে চলছেন এবং নতুন অধিকার বা প্রতিকার তৈরি করছেন না।

আগামী মাসগুলোতে সুপ্রিম কোর্টের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রায় আসার কথা রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে বিচারব্যবস্থা, নাগরিক অধিকার এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।