০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
নামমাত্র স্থিতিশীলতা নয়, এখন প্রয়োজন প্রবৃদ্ধির নতুন অধ্যায় নতুন যৌবনের ওষুধ নয়, স্বাস্থ্য বোঝার এক গুরুত্বপূর্ণ জানালা প্রফেসর ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: যোগ্যতা যাকে সম্মানিত করেছে এক প্রশ্নে একমত ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান: এআই কি খুব দ্রুত এগোচ্ছে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে বাড়ছে জনঅসন্তোষ, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ভারতের গ্রামে স্মার্টফোন বিপ্লব, বদলে যাচ্ছে শিক্ষা, কাজ আর সামাজিক জীবন ভেনেজুয়েলার সোনার খনিতে নতুন সমীকরণ, মার্কিন তৎপরতায় বদলে যাচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য ইউরোপের শিল্প সংকট কি সত্যিই চীনের কারণে? নিজেদের দুর্বলতাই বড় চ্যালেঞ্জ ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে আশা, কিন্তু সংকট কাটাতে দরকার কঠিন সিদ্ধান্ত নীরব জ্ঞান শেখাতে গিয়ে নতুন সংকটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে আশা, কিন্তু সংকট কাটাতে দরকার কঠিন সিদ্ধান্ত

অর্থনৈতিক স্থবিরতা, দুর্বল জনসেবা, বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করছে ব্রিটেন। দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রাক্কালে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। সমর্থকদের কাছে তিনি নতুন আশার প্রতীক হলেও বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আশার বার্তা দিয়ে ব্রিটেনের গভীর সংকট কাটানো সম্ভব হবে না।

গত কয়েক বছরে ব্রিটেনের অর্থনীতি প্রত্যাশিত গতি পায়নি। প্রবৃদ্ধি দুর্বল, সরকারি ঋণের বোঝা বেড়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেবা খাতে চাপ স্পষ্ট। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থাও কমেছে। এই প্রেক্ষাপটে ক্ষমতায় আসার পথে থাকা অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে একই সঙ্গে স্থিতিশীল করা।

নেতৃত্ব বদল, কিন্তু সমস্যার সমাধান কোথায়?

বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এলেও দীর্ঘস্থায়ী নেতৃত্ব দিতে পারেননি। বড় কোনো কেলেঙ্কারি বা নীতিগত বিপর্যয়ের কারণে নয়, বরং নেতৃত্বের শক্তি ও দিকনির্দেশনার অভাবই তার সরকারের প্রধান দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়।

Starmer pushes ahead with China reset despite spying fears - The Japan Times

এই অবস্থায় বার্নহামকে অনেকেই বেশি দক্ষ রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে দেখছেন। জোট গঠন, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক বিতর্কে নিজের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। তবে এসব গুণই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধানের জন্য যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

অর্থনীতিই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত অর্থনীতির পুনরুদ্ধার। প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো ও জনসেবায় আরও বিনিয়োগের দাবি বাড়লেও রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত। ঋণের ব্যয় বেড়েছে এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চাপও বাড়ছে।

বার্নহাম এখন পর্যন্ত কীভাবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ঘটাবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তুলে ধরেননি। তিনি একদিকে জনসেবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, অন্যদিকে কর বৃদ্ধির মতো কঠিন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। ফলে তার অর্থনৈতিক কৌশল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পরিবর্তনের বদলে অতীতের দিকে ঝোঁক?

সমালোচকদের মতে, বার্নহামের কিছু রাজনৈতিক অবস্থান অতীতমুখী। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পরিবর্তে তিনি ঐতিহ্যগত শিল্প ও রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সেবার ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন।

A Terrible Inheritance': Could Andy Burnham Succeed Where Starmer Failed? -  The New York Times

অনেকের আশঙ্কা, এ ধরনের নীতি বাস্তবায়নে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হতে পারে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে। এতে জনগণের হতাশা আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নিজের দলকেও সামলাতে হবে

নতুন নেতৃত্বের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিজ দলের ভেতরের মতভেদ সামলানো। কাঠামোগত সংস্কার বা ব্যয়সংকোচনের মতো পদক্ষেপ অনেক সময় জনপ্রিয় হয় না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য এমন সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হতে পারে।

বার্নহাম কি রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, নাকি জনপ্রিয়তার রাজনীতিতে আটকে যাবেন—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সময় খুবই কম

ব্রিটিশ রাজনীতিতে ভোটারদের ধৈর্য সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় না। নতুন নেতৃত্বের প্রতি শুরুতে আগ্রহ থাকলেও ফল না এলে সেই সমর্থন দ্রুত কমে যেতে পারে। ফলে বার্নহামের সামনে সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক মূল্যও হতে পারে অনেক বেশি।

নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যদি দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে না পারেন, তবে ব্রিটেনের চলমান সংকটের দায়ও শেষ পর্যন্ত তার কাঁধেই এসে পড়বে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নামমাত্র স্থিতিশীলতা নয়, এখন প্রয়োজন প্রবৃদ্ধির নতুন অধ্যায়

ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে আশা, কিন্তু সংকট কাটাতে দরকার কঠিন সিদ্ধান্ত

০২:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

অর্থনৈতিক স্থবিরতা, দুর্বল জনসেবা, বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করছে ব্রিটেন। দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রাক্কালে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। সমর্থকদের কাছে তিনি নতুন আশার প্রতীক হলেও বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আশার বার্তা দিয়ে ব্রিটেনের গভীর সংকট কাটানো সম্ভব হবে না।

গত কয়েক বছরে ব্রিটেনের অর্থনীতি প্রত্যাশিত গতি পায়নি। প্রবৃদ্ধি দুর্বল, সরকারি ঋণের বোঝা বেড়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেবা খাতে চাপ স্পষ্ট। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থাও কমেছে। এই প্রেক্ষাপটে ক্ষমতায় আসার পথে থাকা অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে একই সঙ্গে স্থিতিশীল করা।

নেতৃত্ব বদল, কিন্তু সমস্যার সমাধান কোথায়?

বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এলেও দীর্ঘস্থায়ী নেতৃত্ব দিতে পারেননি। বড় কোনো কেলেঙ্কারি বা নীতিগত বিপর্যয়ের কারণে নয়, বরং নেতৃত্বের শক্তি ও দিকনির্দেশনার অভাবই তার সরকারের প্রধান দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়।

Starmer pushes ahead with China reset despite spying fears - The Japan Times

এই অবস্থায় বার্নহামকে অনেকেই বেশি দক্ষ রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে দেখছেন। জোট গঠন, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক বিতর্কে নিজের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। তবে এসব গুণই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধানের জন্য যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

অর্থনীতিই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত অর্থনীতির পুনরুদ্ধার। প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো ও জনসেবায় আরও বিনিয়োগের দাবি বাড়লেও রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত। ঋণের ব্যয় বেড়েছে এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চাপও বাড়ছে।

বার্নহাম এখন পর্যন্ত কীভাবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ঘটাবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তুলে ধরেননি। তিনি একদিকে জনসেবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, অন্যদিকে কর বৃদ্ধির মতো কঠিন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। ফলে তার অর্থনৈতিক কৌশল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পরিবর্তনের বদলে অতীতের দিকে ঝোঁক?

সমালোচকদের মতে, বার্নহামের কিছু রাজনৈতিক অবস্থান অতীতমুখী। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পরিবর্তে তিনি ঐতিহ্যগত শিল্প ও রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সেবার ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন।

A Terrible Inheritance': Could Andy Burnham Succeed Where Starmer Failed? -  The New York Times

অনেকের আশঙ্কা, এ ধরনের নীতি বাস্তবায়নে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হতে পারে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে। এতে জনগণের হতাশা আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নিজের দলকেও সামলাতে হবে

নতুন নেতৃত্বের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিজ দলের ভেতরের মতভেদ সামলানো। কাঠামোগত সংস্কার বা ব্যয়সংকোচনের মতো পদক্ষেপ অনেক সময় জনপ্রিয় হয় না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য এমন সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হতে পারে।

বার্নহাম কি রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, নাকি জনপ্রিয়তার রাজনীতিতে আটকে যাবেন—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সময় খুবই কম

ব্রিটিশ রাজনীতিতে ভোটারদের ধৈর্য সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় না। নতুন নেতৃত্বের প্রতি শুরুতে আগ্রহ থাকলেও ফল না এলে সেই সমর্থন দ্রুত কমে যেতে পারে। ফলে বার্নহামের সামনে সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক মূল্যও হতে পারে অনেক বেশি।

নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যদি দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে না পারেন, তবে ব্রিটেনের চলমান সংকটের দায়ও শেষ পর্যন্ত তার কাঁধেই এসে পড়বে।