০৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
নতুন পরামর্শে সংশোধন হবে প্রতিবন্ধী অধিকার আইন, জানালেন প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত নামমাত্র স্থিতিশীলতা নয়, এখন প্রয়োজন প্রবৃদ্ধির নতুন অধ্যায় নতুন যৌবনের ওষুধ নয়, স্বাস্থ্য বোঝার এক গুরুত্বপূর্ণ জানালা প্রফেসর ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: যোগ্যতা যাকে সম্মানিত করেছে এক প্রশ্নে একমত ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান: এআই কি খুব দ্রুত এগোচ্ছে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে বাড়ছে জনঅসন্তোষ, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ভারতের গ্রামে স্মার্টফোন বিপ্লব, বদলে যাচ্ছে শিক্ষা, কাজ আর সামাজিক জীবন ভেনেজুয়েলার সোনার খনিতে নতুন সমীকরণ, মার্কিন তৎপরতায় বদলে যাচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য ইউরোপের শিল্প সংকট কি সত্যিই চীনের কারণে? নিজেদের দুর্বলতাই বড় চ্যালেঞ্জ ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে আশা, কিন্তু সংকট কাটাতে দরকার কঠিন সিদ্ধান্ত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে বাড়ছে জনঅসন্তোষ, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে উদ্বেগ, সন্দেহ এবং জনঅসন্তোষও। প্রযুক্তির সম্ভাবনা যত বিস্তৃত হচ্ছে, সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে ততই জোরালো হচ্ছে এর বিরোধিতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু নতুন উদ্ভাবনের ওপর নয়, বরং জনগণের আস্থা অর্জনের ওপরও।

বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে এআই এখন রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ, কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় জনগণের বিরোধিতার কারণে বড় বড় প্রযুক্তি প্রকল্প স্থগিত বা বাতিলও হয়েছে।

মানুষের উদ্বেগ কোথায়

এআই নিয়ে মানুষের উদ্বেগের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই প্রযুক্তি বিপুল সংখ্যক মানুষের চাকরি কেড়ে নিতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, অতিরিক্ত শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতে সমাজ ও মানবজীবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

The Repressive Power of Artificial Intelligence | Freedom House

ডেটা সেন্টারগুলো নিয়েও বিরোধিতা বাড়ছে। এসব স্থাপনা নির্মাণে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোর প্রয়োজন হয়। ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশগত ক্ষতি, সম্পদের ব্যবহার এবং জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রযুক্তির সম্ভাবনাও বিশাল

তবে এআই নিয়ে শুধু শঙ্কার গল্পই নেই। অনেক গবেষক ও অর্থনীতিবিদ মনে করেন, এই প্রযুক্তি আগামী কয়েক দশকে বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন গতিতে এগিয়ে নিতে পারে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, নতুন ওষুধ আবিষ্কার, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বিকাশে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনেকের মতে, বিদ্যুৎ বা বাষ্পীয় ইঞ্জিন যেমন শিল্পবিপ্লবের যুগ বদলে দিয়েছিল, তেমনি এআইও নতুন অর্থনৈতিক পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং জনসমর্থন।

সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতির প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এআই নিয়ে আতঙ্ক কিংবা অন্ধ সমর্থন—কোনোটিই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না। বরং ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণ করাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত পথ।

When Will AI Be Truly Transformative? - WSJ

এক্ষেত্রে প্রথম কাজ হলো প্রযুক্তির সুফল যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। মানুষ যদি দেখতে পায় যে এআই তাদের আয়, কর্মসংস্থান বা জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক, তাহলে বিরোধিতাও কমবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য সহায়তা ও পুনঃপ্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

আরেকটি বড় বিষয় হলো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সাইবার হামলা, জৈব নিরাপত্তা কিংবা অপব্যবহারের মতো ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় সরকারগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এতে প্রযুক্তি নিয়ে জনআস্থাও বাড়বে।

রাষ্ট্রীয় সেবায় এআই ব্যবহারের সুযোগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বেসরকারি খাত নয়, সরকারি সেবার মান উন্নয়নেও এআই বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কর প্রদান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সহজ করা সম্ভব হতে পারে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে।

যদি মানুষ দেখতে পায় যে এআই তাদের পরিবারের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করছে, সন্তানদের শিক্ষায় সহায়তা করছে কিংবা সরকারি সেবা সহজ করছে, তাহলে প্রযুক্তিটির প্রতি তাদের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে।

ভবিষ্যতের লড়াই আস্থার

বিশ্লেষকদের মতে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ শুধু প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার ওপর নির্ভর করছে না। সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ যে এই পরিবর্তন তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে নয়, বরং তাদের জীবনকে আরও উন্নত করতে পারে।

সামনের পথ নিঃসন্দেহে জটিল ও অনিশ্চিত। তবে প্রযুক্তির সম্ভাবনা এবং জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।

As AI Spreads, Experts Predict the Best and Worst Changes in Digital Life  by 2035 | Pew Research Center

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন পরামর্শে সংশোধন হবে প্রতিবন্ধী অধিকার আইন, জানালেন প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে বাড়ছে জনঅসন্তোষ, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ

০৩:০১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে উদ্বেগ, সন্দেহ এবং জনঅসন্তোষও। প্রযুক্তির সম্ভাবনা যত বিস্তৃত হচ্ছে, সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে ততই জোরালো হচ্ছে এর বিরোধিতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু নতুন উদ্ভাবনের ওপর নয়, বরং জনগণের আস্থা অর্জনের ওপরও।

বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে এআই এখন রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ, কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় জনগণের বিরোধিতার কারণে বড় বড় প্রযুক্তি প্রকল্প স্থগিত বা বাতিলও হয়েছে।

মানুষের উদ্বেগ কোথায়

এআই নিয়ে মানুষের উদ্বেগের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই প্রযুক্তি বিপুল সংখ্যক মানুষের চাকরি কেড়ে নিতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, অতিরিক্ত শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতে সমাজ ও মানবজীবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

The Repressive Power of Artificial Intelligence | Freedom House

ডেটা সেন্টারগুলো নিয়েও বিরোধিতা বাড়ছে। এসব স্থাপনা নির্মাণে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোর প্রয়োজন হয়। ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশগত ক্ষতি, সম্পদের ব্যবহার এবং জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রযুক্তির সম্ভাবনাও বিশাল

তবে এআই নিয়ে শুধু শঙ্কার গল্পই নেই। অনেক গবেষক ও অর্থনীতিবিদ মনে করেন, এই প্রযুক্তি আগামী কয়েক দশকে বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন গতিতে এগিয়ে নিতে পারে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, নতুন ওষুধ আবিষ্কার, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বিকাশে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনেকের মতে, বিদ্যুৎ বা বাষ্পীয় ইঞ্জিন যেমন শিল্পবিপ্লবের যুগ বদলে দিয়েছিল, তেমনি এআইও নতুন অর্থনৈতিক পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং জনসমর্থন।

সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতির প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এআই নিয়ে আতঙ্ক কিংবা অন্ধ সমর্থন—কোনোটিই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না। বরং ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণ করাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত পথ।

When Will AI Be Truly Transformative? - WSJ

এক্ষেত্রে প্রথম কাজ হলো প্রযুক্তির সুফল যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। মানুষ যদি দেখতে পায় যে এআই তাদের আয়, কর্মসংস্থান বা জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক, তাহলে বিরোধিতাও কমবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য সহায়তা ও পুনঃপ্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

আরেকটি বড় বিষয় হলো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সাইবার হামলা, জৈব নিরাপত্তা কিংবা অপব্যবহারের মতো ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় সরকারগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এতে প্রযুক্তি নিয়ে জনআস্থাও বাড়বে।

রাষ্ট্রীয় সেবায় এআই ব্যবহারের সুযোগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বেসরকারি খাত নয়, সরকারি সেবার মান উন্নয়নেও এআই বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কর প্রদান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সহজ করা সম্ভব হতে পারে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে।

যদি মানুষ দেখতে পায় যে এআই তাদের পরিবারের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করছে, সন্তানদের শিক্ষায় সহায়তা করছে কিংবা সরকারি সেবা সহজ করছে, তাহলে প্রযুক্তিটির প্রতি তাদের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে।

ভবিষ্যতের লড়াই আস্থার

বিশ্লেষকদের মতে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ শুধু প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার ওপর নির্ভর করছে না। সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ যে এই পরিবর্তন তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে নয়, বরং তাদের জীবনকে আরও উন্নত করতে পারে।

সামনের পথ নিঃসন্দেহে জটিল ও অনিশ্চিত। তবে প্রযুক্তির সম্ভাবনা এবং জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।

As AI Spreads, Experts Predict the Best and Worst Changes in Digital Life  by 2035 | Pew Research Center