০১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, আগুন ও সাময়িকভাবে বন্ধ কিছু কার্যক্রম জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয়, চাপে মূলধারার রাজনীতি নেপালের ‘জেন জি’ আন্দোলনের এক বছর, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না: কার্কি ‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান

নতুন যৌবনের ওষুধ নয়, স্বাস্থ্য বোঝার এক গুরুত্বপূর্ণ জানালা

মানবদেহে কিছু হরমোন আছে, যেগুলোকে ঘিরে বিজ্ঞানের চেয়ে মিথ বেশি প্রচলিত। টেস্টোস্টেরন তার অন্যতম। জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে এটি পুরুষত্ব, শক্তি, আগ্রাসন এবং যৌন সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। রাজনীতি থেকে খেলাধুলা—অনেক ক্ষেত্রেই উচ্চ টেস্টোস্টেরনকে নেতৃত্ব, সাহস বা প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল এবং বৈজ্ঞানিকভাবে আরও আকর্ষণীয়।

টেস্টোস্টেরন নিঃসন্দেহে পুরুষদেহের একটি প্রধান হরমোন। এটি কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, দাড়ি-গোঁফের বৃদ্ধি, পেশির বিকাশ এবং প্রজননক্ষমতার মতো বৈশিষ্ট্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর কার্যকারিতা এখানেই শেষ নয়। মানবদেহের সামগ্রিক সুস্থতা, শক্তি, হাড়ের দৃঢ়তা, মানসিক অবস্থা এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের সঙ্গেও এই হরমোন গভীরভাবে সম্পর্কিত।

সমস্যা হলো, টেস্টোস্টেরন নিয়ে জনসাধারণের আলোচনায় প্রায়ই যৌনতা এবং পৌরুষের বিষয়টিই প্রাধান্য পায়। ফলে এর প্রকৃত স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব আড়ালে থেকে যায়। একজন মানুষের টেস্টোস্টেরন কমে গেলে শুধু যৌন আগ্রহ বা সক্ষমতাই প্রভাবিত হয় না; তার পেশিশক্তি হ্রাস পেতে পারে, শরীরে চর্বি জমতে পারে, হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে, ক্লান্তি বাড়তে পারে এবং মনোযোগ কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মানসিক অবসাদ বা জীবনযাত্রার মানের অবনতির সঙ্গেও এর সম্পর্ক দেখা যায়।

Testosterone | Definition, Effects, & Facts | Britannica

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্রমেই পরিষ্কার হচ্ছে যে, টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি একটি বিস্তৃত স্বাস্থ্যগত ইস্যু। এটি ডায়াবেটিস, ইনসুলিন প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। একই সঙ্গে এটি শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই টেস্টোস্টেরনকে কেবল যৌন হরমোন হিসেবে দেখলে বিষয়টির বড় অংশই উপেক্ষিত থেকে যায়।

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। সাধারণত ত্রিশের পর থেকে ধীরে ধীরে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে সব মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব একরকম নয়। কেউ সামান্য পরিবর্তন অনুভব করেন, আবার কারও ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো জীবনযাত্রায় স্পষ্ট প্রভাব ফেলে। এ কারণেই শুধু উপসর্গ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক। ক্লান্তি, উদ্যমহীনতা বা যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া সবসময় টেস্টোস্টেরনের ঘাটতির কারণে হয় না; এগুলো বার্ধক্য, মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা কিংবা অন্য রোগের ফলও হতে পারে।

এই বাস্তবতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনে: টেস্টোস্টেরন নিয়ে চিকিৎসা সিদ্ধান্ত অনুমানের ভিত্তিতে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে নিম্নমাত্রা নিশ্চিত না করে হরমোন থেরাপি শুরু করা উচিত নয়। কারণ টেস্টোস্টেরন কোনো ভিটামিন নয়, যা ইচ্ছেমতো গ্রহণ করা যায়। এটি একটি শক্তিশালী হরমোন, যার উপকারিতা যেমন আছে, তেমনি ঝুঁকিও রয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেস্টোস্টেরন থেরাপি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু বড় গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিকভাবে নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি আগের ধারণার মতো বাড়ায় না। এর ফলে চিকিৎসাবিষয়ক নীতিমালায়ও পরিবর্তন এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে টেস্টোস্টেরন এখন সবার জন্য নিরাপদ বা প্রয়োজনীয় হয়ে গেছে।

Can having too much sex affect your chances of conceiving? | Vinmec

বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগী নির্বাচন এবং পর্যবেক্ষণ। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করলে রক্ত ঘন হয়ে যাওয়া, ঘুমজনিত সমস্যা বেড়ে যাওয়া কিংবা প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেকেই জানেন না যে, এই হরমোন যৌন আগ্রহ বাড়াতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে শুক্রাণু উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে।

এখানে আরেকটি বাস্তবতা মনে রাখা জরুরি। টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি থাকুক বা না থাকুক, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এখনও সবচেয়ে কার্যকর হস্তক্ষেপগুলোর একটি। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ত্যাগ এবং অ্যালকোহল গ্রহণ কমানো—এসব পদক্ষেপ শুধু সামগ্রিক স্বাস্থ্যই উন্নত করে না, অনেক ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরনের মাত্রাও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।

টেস্টোস্টেরনকে ঘিরে জনমানসে যে পৌরাণিক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তা হয়তো সহজে ভাঙবে না। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি কোনো জাদুকরী যৌবনের পানীয় নয়, আবার কেবল যৌনতার হরমোনও নয়। বরং এটি মানবদেহের সামগ্রিক সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাই টেস্টোস্টেরন নিয়ে আলোচনায় উত্তেজনা বা প্রতীকের বদলে বিজ্ঞান, প্রমাণ এবং স্বাস্থ্যবোধের স্থানই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, আগুন ও সাময়িকভাবে বন্ধ কিছু কার্যক্রম

নতুন যৌবনের ওষুধ নয়, স্বাস্থ্য বোঝার এক গুরুত্বপূর্ণ জানালা

০৪:০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মানবদেহে কিছু হরমোন আছে, যেগুলোকে ঘিরে বিজ্ঞানের চেয়ে মিথ বেশি প্রচলিত। টেস্টোস্টেরন তার অন্যতম। জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে এটি পুরুষত্ব, শক্তি, আগ্রাসন এবং যৌন সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। রাজনীতি থেকে খেলাধুলা—অনেক ক্ষেত্রেই উচ্চ টেস্টোস্টেরনকে নেতৃত্ব, সাহস বা প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল এবং বৈজ্ঞানিকভাবে আরও আকর্ষণীয়।

টেস্টোস্টেরন নিঃসন্দেহে পুরুষদেহের একটি প্রধান হরমোন। এটি কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, দাড়ি-গোঁফের বৃদ্ধি, পেশির বিকাশ এবং প্রজননক্ষমতার মতো বৈশিষ্ট্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর কার্যকারিতা এখানেই শেষ নয়। মানবদেহের সামগ্রিক সুস্থতা, শক্তি, হাড়ের দৃঢ়তা, মানসিক অবস্থা এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের সঙ্গেও এই হরমোন গভীরভাবে সম্পর্কিত।

সমস্যা হলো, টেস্টোস্টেরন নিয়ে জনসাধারণের আলোচনায় প্রায়ই যৌনতা এবং পৌরুষের বিষয়টিই প্রাধান্য পায়। ফলে এর প্রকৃত স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব আড়ালে থেকে যায়। একজন মানুষের টেস্টোস্টেরন কমে গেলে শুধু যৌন আগ্রহ বা সক্ষমতাই প্রভাবিত হয় না; তার পেশিশক্তি হ্রাস পেতে পারে, শরীরে চর্বি জমতে পারে, হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে, ক্লান্তি বাড়তে পারে এবং মনোযোগ কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মানসিক অবসাদ বা জীবনযাত্রার মানের অবনতির সঙ্গেও এর সম্পর্ক দেখা যায়।

Testosterone | Definition, Effects, & Facts | Britannica

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্রমেই পরিষ্কার হচ্ছে যে, টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি একটি বিস্তৃত স্বাস্থ্যগত ইস্যু। এটি ডায়াবেটিস, ইনসুলিন প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। একই সঙ্গে এটি শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই টেস্টোস্টেরনকে কেবল যৌন হরমোন হিসেবে দেখলে বিষয়টির বড় অংশই উপেক্ষিত থেকে যায়।

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। সাধারণত ত্রিশের পর থেকে ধীরে ধীরে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে সব মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব একরকম নয়। কেউ সামান্য পরিবর্তন অনুভব করেন, আবার কারও ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো জীবনযাত্রায় স্পষ্ট প্রভাব ফেলে। এ কারণেই শুধু উপসর্গ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক। ক্লান্তি, উদ্যমহীনতা বা যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া সবসময় টেস্টোস্টেরনের ঘাটতির কারণে হয় না; এগুলো বার্ধক্য, মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা কিংবা অন্য রোগের ফলও হতে পারে।

এই বাস্তবতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনে: টেস্টোস্টেরন নিয়ে চিকিৎসা সিদ্ধান্ত অনুমানের ভিত্তিতে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে নিম্নমাত্রা নিশ্চিত না করে হরমোন থেরাপি শুরু করা উচিত নয়। কারণ টেস্টোস্টেরন কোনো ভিটামিন নয়, যা ইচ্ছেমতো গ্রহণ করা যায়। এটি একটি শক্তিশালী হরমোন, যার উপকারিতা যেমন আছে, তেমনি ঝুঁকিও রয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেস্টোস্টেরন থেরাপি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু বড় গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিকভাবে নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি আগের ধারণার মতো বাড়ায় না। এর ফলে চিকিৎসাবিষয়ক নীতিমালায়ও পরিবর্তন এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে টেস্টোস্টেরন এখন সবার জন্য নিরাপদ বা প্রয়োজনীয় হয়ে গেছে।

Can having too much sex affect your chances of conceiving? | Vinmec

বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগী নির্বাচন এবং পর্যবেক্ষণ। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করলে রক্ত ঘন হয়ে যাওয়া, ঘুমজনিত সমস্যা বেড়ে যাওয়া কিংবা প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেকেই জানেন না যে, এই হরমোন যৌন আগ্রহ বাড়াতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে শুক্রাণু উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে।

এখানে আরেকটি বাস্তবতা মনে রাখা জরুরি। টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি থাকুক বা না থাকুক, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এখনও সবচেয়ে কার্যকর হস্তক্ষেপগুলোর একটি। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ত্যাগ এবং অ্যালকোহল গ্রহণ কমানো—এসব পদক্ষেপ শুধু সামগ্রিক স্বাস্থ্যই উন্নত করে না, অনেক ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরনের মাত্রাও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।

টেস্টোস্টেরনকে ঘিরে জনমানসে যে পৌরাণিক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তা হয়তো সহজে ভাঙবে না। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি কোনো জাদুকরী যৌবনের পানীয় নয়, আবার কেবল যৌনতার হরমোনও নয়। বরং এটি মানবদেহের সামগ্রিক সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাই টেস্টোস্টেরন নিয়ে আলোচনায় উত্তেজনা বা প্রতীকের বদলে বিজ্ঞান, প্রমাণ এবং স্বাস্থ্যবোধের স্থানই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড়।