খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা, কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং বৈশ্বিক বাজারে সার ও জ্বালানির মূল্য ও সরবরাহের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১.১ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। শনিবার অনুমোদিত দুটি পৃথক প্রকল্পের মাধ্যমে এই অর্থায়ন করা হবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
সার আমদানিতে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা
অনুমোদিত অর্থের মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ২০২৬ সালের আমন ও বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে বাংলাদেশকে সময়োপযোগী অর্থায়ন সহায়তা প্রদান করা।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মাধ্যমে ৬ লাখ মেট্রিক টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানি করা হবে, যার অর্ধেকই হবে ইউরিয়া। এই সার ব্যবহার করে দেশের প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর ধানক্ষেতের উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এর প্রধান উপকারভোগী হবেন ক্ষুদ্র কৃষকরা।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করেছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর। তিনি বলেন, সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, জীবিকা ও কর্মসংস্থান রক্ষা এবং জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে বিশ্বব্যাংক তাৎক্ষণিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে।
ধান উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার সুলেমান কুলিবালি বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা মূলত আমন ও বোরো ধান মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। এই দুই মৌসুম দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ জোগান দেয়। একই সঙ্গে দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান কৃষি খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সারের সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই হুমকির মুখে পড়বে না, বরং দারিদ্র্য বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৭১৩ মিলিয়ন ডলার
অন্যদিকে, ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৭১৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হবে।
এ অর্থ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নগদ সহায়তা, জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচি এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সংকটকালে আয় স্থিতিশীল রাখা এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করা হবে।
পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি ও পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা সচল রাখতে জ্বালানি ও শক্তি খাতে অর্থায়ন করা হবে। প্রকল্পটির অর্থ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার লেসলি জিন ইউ করদেরো বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে প্রয়োজনীয় খাতে দ্রুত অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হবে। এর ফলে মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মসংস্থানকে আকস্মিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক ধাক্কার প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও সংকট মোকাবিলা সক্ষমতা জোরদারে এই অর্থায়নকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















