০২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, আগস্টেই আক্রান্ত ১২০২ হিমালয়ের হিমবাহে দূষণের কালো আস্তরণ, বাড়ছে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রাশিয়ার কারাগার থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে তিউনিসীয় তরুণরা, নিয়োগের নেপথ্যে কী? নেপালে ভয়াবহ বন্যায় টেলিযোগাযোগ বিপর্যয়, জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের পুরোনো কৌশলই কি ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি? নেপালের বন্যা শুধু দুর্যোগ নয়, জলবায়ু ন্যায়ের কঠিন পরীক্ষা আশির কোঠাতেও মানুষের পাশে, সেবাকেই তারুণ্যের রহস্য বলছেন দুই স্বেচ্ছাসেবী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কাজ বাড়ছে, কিন্তু বেতন নয়—এশিয়ার তরুণ কর্মীদের নতুন দুশ্চিন্তা গুদামে সার, মাঠে সংকট: বাংলাদেশের বোরো কি বৈশ্বিক সার-যুদ্ধের নতুন ঝুঁকিতে? প্রচলিত পুরুষত্বের ধারণায় বদল, তরুণদের মধ্যে বাড়ছে রক্ষণশীল মানসিকতা

নেশার বিরুদ্ধে বড় অভিযান: ৬৮০ মিলিয়ন ডলারের মাদক আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করল মিয়ানমার

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বিপুল পরিমাণ জব্দ করা অবৈধ মাদক আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অভিযানে প্রায় ৬৮০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের মাদক ধ্বংস করা হয়, যা দেশটির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মাদকবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দেশটির কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে মাদক ধ্বংসের আয়োজন করা হয়। ইয়াঙ্গুনের উপকণ্ঠে একটি শিল্প এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থায় জমা রাখা মাদকদ্রব্যে আগুন দেওয়া হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে থাকে, পরে দমকল বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণে আনে।

মাদকের পরিমাণ দ্বিগুণ

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ৩১ ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় এবং শান অঙ্গরাজ্যের রাজধানী তাউংজিতে পরিচালিত কর্মসূচিতে ধ্বংস করা মাদকের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

Myanmar torches $600 million in seized heroin, meth and other drugs

বিশেষ করে মেথামফেটামিন, যা স্থানীয়ভাবে ‘আইস’ নামে পরিচিত, জব্দ হওয়া মাদকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল। শুধু এই মাদকের পরিমাণই ২৮ টনের বেশি বলে জানানো হয়েছে।

মাদক বাণিজ্যের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমারে মাদক উৎপাদন ও পাচার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, নিরাপত্তাহীনতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ার সুযোগে অবৈধ মাদক ব্যবসা বিস্তৃত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষ করে শান অঙ্গরাজ্য বহু বছর ধরে আফিম ও অন্যান্য মাদক উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশটির বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় মাদক উৎপাদন ও পাচারের নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

রেকর্ড পরিমাণ মাদক কারখানা শনাক্ত

Myanmar burns confiscated drugs worth around $300 million

চলতি বছরের শুরুতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জঙ্গলে গড়ে ওঠা তিনটি বিশাল মাদক উৎপাদন কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানায়। এসব কেন্দ্র এতটাই বড় ছিল যে সেগুলো দেখতে ছোট গ্রামের মতো লাগত। সেখানে বিদ্যুৎ ও পানির নিজস্ব অবকাঠামোও ছিল।

কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব কেন্দ্র থেকে বিপুল পরিমাণ মেথামফেটামিন উৎপাদন করা হতো এবং সেগুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হতো।

চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে

মাদক ধ্বংসের এই বড় পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু জব্দ করা মাদক ধ্বংস করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। উৎপাদন, পাচার এবং এর সঙ্গে জড়িত অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

Myanmar burns confiscated drugs worth around $300 million

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, আগস্টেই আক্রান্ত ১২০২

নেশার বিরুদ্ধে বড় অভিযান: ৬৮০ মিলিয়ন ডলারের মাদক আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করল মিয়ানমার

১১:৩৯:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বিপুল পরিমাণ জব্দ করা অবৈধ মাদক আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অভিযানে প্রায় ৬৮০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের মাদক ধ্বংস করা হয়, যা দেশটির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মাদকবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দেশটির কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে মাদক ধ্বংসের আয়োজন করা হয়। ইয়াঙ্গুনের উপকণ্ঠে একটি শিল্প এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থায় জমা রাখা মাদকদ্রব্যে আগুন দেওয়া হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে থাকে, পরে দমকল বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণে আনে।

মাদকের পরিমাণ দ্বিগুণ

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ৩১ ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় এবং শান অঙ্গরাজ্যের রাজধানী তাউংজিতে পরিচালিত কর্মসূচিতে ধ্বংস করা মাদকের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

Myanmar torches $600 million in seized heroin, meth and other drugs

বিশেষ করে মেথামফেটামিন, যা স্থানীয়ভাবে ‘আইস’ নামে পরিচিত, জব্দ হওয়া মাদকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল। শুধু এই মাদকের পরিমাণই ২৮ টনের বেশি বলে জানানো হয়েছে।

মাদক বাণিজ্যের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমারে মাদক উৎপাদন ও পাচার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, নিরাপত্তাহীনতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ার সুযোগে অবৈধ মাদক ব্যবসা বিস্তৃত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষ করে শান অঙ্গরাজ্য বহু বছর ধরে আফিম ও অন্যান্য মাদক উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশটির বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় মাদক উৎপাদন ও পাচারের নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

রেকর্ড পরিমাণ মাদক কারখানা শনাক্ত

Myanmar burns confiscated drugs worth around $300 million

চলতি বছরের শুরুতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জঙ্গলে গড়ে ওঠা তিনটি বিশাল মাদক উৎপাদন কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানায়। এসব কেন্দ্র এতটাই বড় ছিল যে সেগুলো দেখতে ছোট গ্রামের মতো লাগত। সেখানে বিদ্যুৎ ও পানির নিজস্ব অবকাঠামোও ছিল।

কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব কেন্দ্র থেকে বিপুল পরিমাণ মেথামফেটামিন উৎপাদন করা হতো এবং সেগুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হতো।

চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে

মাদক ধ্বংসের এই বড় পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু জব্দ করা মাদক ধ্বংস করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। উৎপাদন, পাচার এবং এর সঙ্গে জড়িত অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

Myanmar burns confiscated drugs worth around $300 million