মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বিপুল পরিমাণ জব্দ করা অবৈধ মাদক আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অভিযানে প্রায় ৬৮০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের মাদক ধ্বংস করা হয়, যা দেশটির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মাদকবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশটির কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে মাদক ধ্বংসের আয়োজন করা হয়। ইয়াঙ্গুনের উপকণ্ঠে একটি শিল্প এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থায় জমা রাখা মাদকদ্রব্যে আগুন দেওয়া হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে থাকে, পরে দমকল বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণে আনে।
মাদকের পরিমাণ দ্বিগুণ
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ৩১ ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় এবং শান অঙ্গরাজ্যের রাজধানী তাউংজিতে পরিচালিত কর্মসূচিতে ধ্বংস করা মাদকের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

বিশেষ করে মেথামফেটামিন, যা স্থানীয়ভাবে ‘আইস’ নামে পরিচিত, জব্দ হওয়া মাদকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল। শুধু এই মাদকের পরিমাণই ২৮ টনের বেশি বলে জানানো হয়েছে।
মাদক বাণিজ্যের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমারে মাদক উৎপাদন ও পাচার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, নিরাপত্তাহীনতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ার সুযোগে অবৈধ মাদক ব্যবসা বিস্তৃত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে শান অঙ্গরাজ্য বহু বছর ধরে আফিম ও অন্যান্য মাদক উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশটির বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় মাদক উৎপাদন ও পাচারের নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
রেকর্ড পরিমাণ মাদক কারখানা শনাক্ত

চলতি বছরের শুরুতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জঙ্গলে গড়ে ওঠা তিনটি বিশাল মাদক উৎপাদন কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানায়। এসব কেন্দ্র এতটাই বড় ছিল যে সেগুলো দেখতে ছোট গ্রামের মতো লাগত। সেখানে বিদ্যুৎ ও পানির নিজস্ব অবকাঠামোও ছিল।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব কেন্দ্র থেকে বিপুল পরিমাণ মেথামফেটামিন উৎপাদন করা হতো এবং সেগুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হতো।
চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে
মাদক ধ্বংসের এই বড় পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু জব্দ করা মাদক ধ্বংস করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। উৎপাদন, পাচার এবং এর সঙ্গে জড়িত অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















