যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে আবার সামরিক অভিযান শুরু হলে ‘ইরান আর অস্তিত্বই থাকবে না’।
যুদ্ধবিরতির পরও উত্তেজনা
মধ্য জুনে একটি সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও পরিস্থিতি দ্রুত অস্থির হয়ে ওঠে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তারা টানা তৃতীয় দিনের মতো পাল্টা আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন দাবি করেছে, ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করায় তারা নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে কড়াকড়ি

ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। তেহরানের অনুমোদিত নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো রুট ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্ক সংকেতও বেজে ওঠে।
ট্রাম্পের হুমকি
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, যদি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে যুক্তরাষ্ট্রকে আবার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান চালাতে হয়, তাহলে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্বই থাকবে না।
জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে সর্বশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হামলায় নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা অবস্থান, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

অন্যদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে একই ধরনের আরেকটি হামলার প্রতিক্রিয়ায়ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।
লেবানন ইস্যুতেও অচলাবস্থা
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে লেবাননকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির নেতৃত্ব বলছে, তারা এই চুক্তিকে গ্রহণযোগ্য মনে করে না এবং বরং ইরানকে ঘিরে হওয়া সমঝোতার পূর্ণ বাস্তবায়ন চায়।
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের নিরাপত্তা উপস্থিতি আপাতত বহাল থাকবে। এতে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা ও কড়া বক্তব্যে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা, সামরিক অবস্থান এবং লেবানন সংকট—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















