০৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
আফগান নারীদের পাশে মিস ইউনিভার্স ফাতিমা বোস: শিক্ষা ও সমঅধিকারের পক্ষে জোরালো আহ্বান পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে অভিযানে ২৯ জঙ্গি নিহত, দাবি ইসলামাবাদের চিন্তার দিক বদলালেই বদলে যায় জীবন সোনম ওয়াংচুকের অনশন: সারা দেশে একদিনের উপবাসে শামিল হওয়ার আহ্বান নতুন গাজার ছায়া লেবাননে: যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা কি কূটনীতিকে পরাজিত করবে? ‘না’ বলার অধিকারকে ভয় পেলে সমাজও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে ভারী বৃষ্টিতে আসাম-অরুণাচলে আকস্মিক বন্যার তাণ্ডব, ক্ষতিগ্রস্ত ২২ হাজারের বেশি মানুষ কিশোরদের জেন্ডার চিকিৎসা: রাজনীতির বদলে বিজ্ঞানের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনার সময় ইরানের পাল্টা হামলার দাবি, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, ‘প্রয়োজনে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে’

নতুন গাজার ছায়া লেবাননে: যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা কি কূটনীতিকে পরাজিত করবে?

যুদ্ধের ইতিহাসে এমন কিছু শহর আছে, যেগুলো কেবল একটি ভূগোল নয়—তারা হয়ে ওঠে প্রতিরোধ, ধ্বংস এবং মানবিক বেদনার প্রতীক। বৈরুত দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রতীকের একটি নাম। কিন্তু আজ প্রশ্ন হলো, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ কি সেই ইতিহাসের নতুন অধ্যায় হয়ে উঠছে? আর যদি তাই হয়, তবে এর অভিঘাত কি শুধু লেবাননের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তা মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর কূটনৈতিক সমীকরণকেও অচল করে দেবে?

গত কয়েক বছরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু বহুবার পরিবর্তিত হয়েছে। কখনও গাজা, কখনও সিরিয়া, কখনও ইয়েমেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল আবারও আঞ্চলিক সংঘাতের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। যুদ্ধবিরতির আলোচনা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি কিংবা শান্তিচুক্তির ঘোষণার সমান্তরালে যদি বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকে, তাহলে প্রশ্ন জাগে—আসল সিদ্ধান্ত কি আলোচনার টেবিলে নেওয়া হচ্ছে, নাকি যুদ্ধক্ষেত্রেই?

কূটনীতি ও সামরিক বাস্তবতার দ্বন্দ্ব

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি পুরোনো সত্য হলো, কূটনৈতিক আলোচনার শক্তি অনেক সময় নির্ভর করে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার ওপর। যে পক্ষ মাটিতে কৌশলগত সুবিধা অর্জন করতে পারে, আলোচনায় তার অবস্থানও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে কিংবা আলোচনার মধ্যেই সামরিক অভিযান তীব্র হয়ে ওঠা নতুন কোনো ঘটনা নয়।

A new abyss': Gaza and the hundred years' war on Palestine | Israel-Gaza  war | The Guardian

দক্ষিণ লেবাননের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ কেবল সামরিক নয়, রাজনৈতিক অর্থও বহন করে। পাহাড়, যোগাযোগপথ কিংবা সীমান্তবর্তী অঞ্চল—এসবের নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সবসময় যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত করে না।

যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় সাধারণ মানুষ

যুদ্ধের মানচিত্রে সামরিক অবস্থান, কৌশল কিংবা ভূরাজনীতি যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় সাধারণ মানুষ। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িঘর, বিধ্বস্ত হাসপাতাল, উপাসনালয় কিংবা রাস্তাঘাট—এসব কেবল অবকাঠামোর ক্ষতি নয়; এগুলো একটি সমাজের স্মৃতি, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যতের ওপর আঘাত।

যখন কোনো শহরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের মরদেহ খুঁজতে ব্যস্ত থাকে, তখন সেই শহর আর শুধু একটি যুদ্ধক্ষেত্র থাকে না; সেটি মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীকে পরিণত হয়। ইতিহাস দেখায়, এমন পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সমাধানকে আরও কঠিন করে তোলে।

লেবাননের সমীকরণ কেন আলাদা

লেবাননের সংকটকে গাজার সঙ্গে এক কাতারে রাখার প্রলোভন থাকলেও বাস্তবতা আরও জটিল। এখানে রাষ্ট্র, অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী, আঞ্চলিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক মিত্রদের স্বার্থ পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ফলে কোনো একক চুক্তি বা সামরিক সাফল্য দিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।

উত্তেজনার মধ্যেই বৈঠকে বসছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে ঘিরে যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তা কেবল লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়; এটি ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশলেরও অংশ। এই কারণে দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি বৃহত্তর আঞ্চলিক আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের সামনে বড় বাধা

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেকোনো সম্ভাব্য সমঝোতার অন্যতম বড় পরীক্ষাস্থল হয়ে উঠেছে লেবানন। পারমাণবিক ইস্যু, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা উপসাগরীয় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা যতই এগোতে থাকুক না কেন, যদি দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে, তাহলে পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করা কঠিন হবে।

আঞ্চলিক সংঘাতের প্রতিটি ফ্রন্ট একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে একদিকে শান্তি আলোচনা চলবে, অন্যদিকে মিত্রপক্ষগুলো যুদ্ধ চালিয়ে যাবে—এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক অগ্রগতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

রাজনীতির জন্য যুদ্ধ, নাকি যুদ্ধের জন্য রাজনীতি?

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বহুবার সামরিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য যুদ্ধ কখনও কখনও নিরাপত্তার প্রশ্নের চেয়েও বেশি হয়ে ওঠে জনসমর্থন ধরে রাখার উপায়। এই বাস্তবতা সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করে এবং শান্তির সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দেয়।

Israel says attacks will stop ‘for now’ but fight ‘not over’ — as it  happened

ফলে কোনো সামরিক অভিযানকে কেবল নিরাপত্তা নীতির আলোকে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নির্বাচনী রাজনীতি, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তা।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে কঠিন পরীক্ষা

মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা এখন আর কেবল একটি আঞ্চলিক বিষয় নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শরণার্থী সংকট এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা—সবকিছুর ওপর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। তাই দক্ষিণ লেবাননের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তার অভিঘাতও হবে বহুমাত্রিক।

শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম শর্ত হলো সংঘাতের বিস্তার থামানো এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে আলোচনার ভাষা যুদ্ধের শব্দকে ছাপিয়ে যেতে পারে। অন্যথায় একটি নতুন যুদ্ধক্ষেত্র শুধু একটি দেশের সংকট হয়ে থাকবে না; সেটি পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।

ইতিহাসের শিক্ষা বলছে, যুদ্ধ শুরু করা তুলনামূলক সহজ, কিন্তু তার রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন। লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিও সেই সতর্কবার্তাই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। যদি যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা কূটনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তবে শান্তির প্রতিটি উদ্যোগ আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। আর সেই ব্যর্থতার মূল্য শেষ পর্যন্ত পরিশোধ করবে সাধারণ মানুষই—যাদের জীবনের গল্প কোনো সামরিক মানচিত্রে আঁকা থাকে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান নারীদের পাশে মিস ইউনিভার্স ফাতিমা বোস: শিক্ষা ও সমঅধিকারের পক্ষে জোরালো আহ্বান

নতুন গাজার ছায়া লেবাননে: যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা কি কূটনীতিকে পরাজিত করবে?

০১:৫৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

যুদ্ধের ইতিহাসে এমন কিছু শহর আছে, যেগুলো কেবল একটি ভূগোল নয়—তারা হয়ে ওঠে প্রতিরোধ, ধ্বংস এবং মানবিক বেদনার প্রতীক। বৈরুত দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রতীকের একটি নাম। কিন্তু আজ প্রশ্ন হলো, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ কি সেই ইতিহাসের নতুন অধ্যায় হয়ে উঠছে? আর যদি তাই হয়, তবে এর অভিঘাত কি শুধু লেবাননের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তা মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর কূটনৈতিক সমীকরণকেও অচল করে দেবে?

গত কয়েক বছরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু বহুবার পরিবর্তিত হয়েছে। কখনও গাজা, কখনও সিরিয়া, কখনও ইয়েমেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল আবারও আঞ্চলিক সংঘাতের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। যুদ্ধবিরতির আলোচনা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি কিংবা শান্তিচুক্তির ঘোষণার সমান্তরালে যদি বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকে, তাহলে প্রশ্ন জাগে—আসল সিদ্ধান্ত কি আলোচনার টেবিলে নেওয়া হচ্ছে, নাকি যুদ্ধক্ষেত্রেই?

কূটনীতি ও সামরিক বাস্তবতার দ্বন্দ্ব

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি পুরোনো সত্য হলো, কূটনৈতিক আলোচনার শক্তি অনেক সময় নির্ভর করে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার ওপর। যে পক্ষ মাটিতে কৌশলগত সুবিধা অর্জন করতে পারে, আলোচনায় তার অবস্থানও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে কিংবা আলোচনার মধ্যেই সামরিক অভিযান তীব্র হয়ে ওঠা নতুন কোনো ঘটনা নয়।

A new abyss': Gaza and the hundred years' war on Palestine | Israel-Gaza  war | The Guardian

দক্ষিণ লেবাননের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ কেবল সামরিক নয়, রাজনৈতিক অর্থও বহন করে। পাহাড়, যোগাযোগপথ কিংবা সীমান্তবর্তী অঞ্চল—এসবের নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সবসময় যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত করে না।

যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় সাধারণ মানুষ

যুদ্ধের মানচিত্রে সামরিক অবস্থান, কৌশল কিংবা ভূরাজনীতি যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় সাধারণ মানুষ। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িঘর, বিধ্বস্ত হাসপাতাল, উপাসনালয় কিংবা রাস্তাঘাট—এসব কেবল অবকাঠামোর ক্ষতি নয়; এগুলো একটি সমাজের স্মৃতি, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যতের ওপর আঘাত।

যখন কোনো শহরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের মরদেহ খুঁজতে ব্যস্ত থাকে, তখন সেই শহর আর শুধু একটি যুদ্ধক্ষেত্র থাকে না; সেটি মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীকে পরিণত হয়। ইতিহাস দেখায়, এমন পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সমাধানকে আরও কঠিন করে তোলে।

লেবাননের সমীকরণ কেন আলাদা

লেবাননের সংকটকে গাজার সঙ্গে এক কাতারে রাখার প্রলোভন থাকলেও বাস্তবতা আরও জটিল। এখানে রাষ্ট্র, অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী, আঞ্চলিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক মিত্রদের স্বার্থ পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ফলে কোনো একক চুক্তি বা সামরিক সাফল্য দিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।

উত্তেজনার মধ্যেই বৈঠকে বসছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে ঘিরে যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তা কেবল লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়; এটি ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশলেরও অংশ। এই কারণে দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি বৃহত্তর আঞ্চলিক আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের সামনে বড় বাধা

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেকোনো সম্ভাব্য সমঝোতার অন্যতম বড় পরীক্ষাস্থল হয়ে উঠেছে লেবানন। পারমাণবিক ইস্যু, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা উপসাগরীয় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা যতই এগোতে থাকুক না কেন, যদি দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে, তাহলে পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করা কঠিন হবে।

আঞ্চলিক সংঘাতের প্রতিটি ফ্রন্ট একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে একদিকে শান্তি আলোচনা চলবে, অন্যদিকে মিত্রপক্ষগুলো যুদ্ধ চালিয়ে যাবে—এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক অগ্রগতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

রাজনীতির জন্য যুদ্ধ, নাকি যুদ্ধের জন্য রাজনীতি?

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বহুবার সামরিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য যুদ্ধ কখনও কখনও নিরাপত্তার প্রশ্নের চেয়েও বেশি হয়ে ওঠে জনসমর্থন ধরে রাখার উপায়। এই বাস্তবতা সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করে এবং শান্তির সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দেয়।

Israel says attacks will stop ‘for now’ but fight ‘not over’ — as it  happened

ফলে কোনো সামরিক অভিযানকে কেবল নিরাপত্তা নীতির আলোকে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নির্বাচনী রাজনীতি, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তা।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে কঠিন পরীক্ষা

মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা এখন আর কেবল একটি আঞ্চলিক বিষয় নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শরণার্থী সংকট এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা—সবকিছুর ওপর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। তাই দক্ষিণ লেবাননের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তার অভিঘাতও হবে বহুমাত্রিক।

শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম শর্ত হলো সংঘাতের বিস্তার থামানো এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে আলোচনার ভাষা যুদ্ধের শব্দকে ছাপিয়ে যেতে পারে। অন্যথায় একটি নতুন যুদ্ধক্ষেত্র শুধু একটি দেশের সংকট হয়ে থাকবে না; সেটি পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।

ইতিহাসের শিক্ষা বলছে, যুদ্ধ শুরু করা তুলনামূলক সহজ, কিন্তু তার রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন। লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিও সেই সতর্কবার্তাই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। যদি যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা কূটনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তবে শান্তির প্রতিটি উদ্যোগ আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। আর সেই ব্যর্থতার মূল্য শেষ পর্যন্ত পরিশোধ করবে সাধারণ মানুষই—যাদের জীবনের গল্প কোনো সামরিক মানচিত্রে আঁকা থাকে না।