ভারতের পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাসংস্কার আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান অনির্দিষ্টকালের অনশনে অংশ নিয়ে দেশজুড়ে সমর্থকদের অন্তত একদিনের উপবাসে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষা, পরিবেশ এবং লাদাখের স্বায়ত্তশাসন ও জবাবদিহির দাবিকে সামনে রেখে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে তিনি বলেন, যারা দিল্লিতে যেতে পারবেন না, তারা নিজ নিজ রাজ্য, শহর বা গ্রামেই প্রতীকী অনশন পালন করতে পারেন।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক জানান, তিনি বর্তমানে শুধু লবণ ও পানি গ্রহণ করে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে বহু মানুষ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন এবং কেউ কেউ টানা তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত উপবাস পালন করছেন। তিনি বলেন, শিক্ষা, পরিবেশ, বিশুদ্ধ বায়ু ও পানির সুরক্ষা এবং সরকারের কাছ থেকে জবাবদিহি আদায়ের লক্ষ্যে একদিনের প্রতীকী অনশনও গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি
রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। এটি চলছে ককরোচ জনতা পার্টির চলমান বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে। আন্দোলনের অন্যতম দাবি হলো, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের দায় নিয়ে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

অনশন শুরুর আগে সোনম ওয়াংচুক ও সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বক্তব্যে ওয়াংচুক বলেন, ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সেই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হতে পারে।
তিনি বলেন, কোনো উন্নত দেশই মানসম্মত শিক্ষায় বিনিয়োগ ছাড়া এগোতে পারেনি। একইভাবে শক্তিশালী শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া ভারতের উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়াও সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুটি দাবিকে ঘিরেই আন্দোলন
ওয়াংচুক এর আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২৮ জুন থেকে তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসবেন, যদি সরকার অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবিতেও ইতিবাচক সাড়া না দেয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দাবি ককরোচ জনতা পার্টির শিক্ষা ও জবাবদিহি সংক্রান্ত আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত। দ্বিতীয় দাবি লাদাখের সংস্কৃতি, পরিবেশ রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, এই দুটি বিষয়ই তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উভয় ক্ষেত্রেই সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

পুলিশের বিরুদ্ধে সুযোগ-সুবিধা বন্ধের অভিযোগ
এদিকে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেছেন, সোনম ওয়াংচুক অনশন শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা বন্ধ করে দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, আন্দোলনস্থলে পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার ন্যূনতম ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। ওয়াংচুকের বয়স ও স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বারবার অনুরোধ করা হলেও পুলিশ সহযোগিতা করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও মৌলিক সুবিধাও সীমিত করা হতে পারে।
এই আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষা, পরিবেশ, লাদাখের স্বার্থ এবং সরকারি জবাবদিহি—এই চারটি বিষয়কে একসঙ্গে সামনে আনার চেষ্টা করছেন সোনম ওয়াংচুক ও তার সমর্থকেরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















