সিঙ্গাপুর ও জাকার্তার মধ্যে ভ্রমণকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এয়ারএশিয়া এই রুটে তাদের সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করছে। এর ফলে যাত্রীদের এখন মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর হয়ে গন্তব্যে যেতে হবে, যা যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
বর্তমানে এয়ারএশিয়ার ইন্দোনেশীয় শাখা প্রতিদিন একটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে। তবে নতুন ব্যবস্থায় যাত্রীদের কুয়ালালামপুরে যাত্রাবিরতি করতে হবে। আগে যেখানে পুরো ভ্রমণ শেষ হতে দুই ঘণ্টারও কম সময় লাগত, সেখানে এখন অপেক্ষার সময়ের ওপর নির্ভর করে মোট যাত্রা ১০ ঘণ্টারও বেশি দীর্ঘ হতে পারে।
রুট পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত
বিমান সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তাদের নেটওয়ার্ক পুনর্বিন্যাস করছে এবং বেশি চাহিদাসম্পন্ন রুটে বিমান ও আসনসংখ্যা স্থানান্তর করছে। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছু রুট পরিচালনা অর্থনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, কুয়ালালামপুরসহ বিভিন্ন কেন্দ্র ব্যবহার করে সংযোগভিত্তিক সেবা পরিচালনা করলে যাত্রী চাহিদা আরও কার্যকরভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে। বাজার পরিস্থিতি ও যাত্রী চাহিদা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

সিঙ্গাপুরে উপস্থিতি কমছে
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিঙ্গাপুরে এয়ারএশিয়ার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে কমেছে। একসময় সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে প্রতিদিন ১৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
গত বছরের তুলনায় সিঙ্গাপুর-জাকার্তা রুটে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি মাসিক আসনসংখ্যাও বড় আকারে কমে এসেছে। এর আগে এপ্রিল মাসে সিঙ্গাপুর ও বালির মধ্যকার সরাসরি ফ্লাইটও বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
বিমান পরিবহন খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, জ্বালানি ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা এই সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে। সিঙ্গাপুর ও জাকার্তার মধ্যে অন্যান্য বিমান সংস্থা এখনও প্রতিদিন বহু সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ফলে যাত্রীরা দীর্ঘ যাত্রাবিরতিসহ সংযোগ ফ্লাইটের বদলে সরাসরি বিকল্প বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, কুয়ালালামপুর হয়ে যাত্রী পরিবহন করলে প্রতিষ্ঠানটি একই সঙ্গে সিঙ্গাপুর-কুয়ালালামপুর এবং কুয়ালালামপুর-জাকার্তা রুটে আসন পূরণ করতে পারবে। এতে আলাদা রুট পরিচালনার খরচ কমানো সম্ভব হবে।
চ্যালেঞ্জের মুখে বিমান সংস্থা
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু একটি রুট বন্ধ নয়, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো প্রতিষ্ঠানটির বৃহত্তর ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে তাদের অংশীদারিত্ব তুলনামূলকভাবে কম। একই সঙ্গে মহামারির সময় মূল বিমান ব্যবসার বাইরে বিভিন্ন খাতে সম্প্রসারণের প্রভাবও এখন আলোচনায় এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ার বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট সূচি কমিয়েছে। তবে এয়ারএশিয়া গ্রুপের একাধিক ইউনিটের কাটছাঁট বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে প্রতিষ্ঠানটির রুট ও সেবা কৌশলে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















