দুই মসজিদের নির্মাণকাজের চুক্তি পাইয়ে দিতে গোপনে দরপত্রের মূল্যসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ এবং ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে এক সাবেক মসজিদ চেয়ারম্যানকে ১৪ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আবদুল রহিম মাওয়াসি। ঘটনার সময় তিনি দুটি মসজিদের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, আবদুল রহিম তার দীর্ঘদিনের এক বন্ধুকে দরপত্রের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। এর ফলে ওই বন্ধুর নির্মাণ প্রতিষ্ঠান দুটি মসজিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ডলারের কাজের চুক্তি পেতে সক্ষম হয়। আদালত গত এপ্রিল মাসে বিচার শেষে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।
ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে পরিকল্পনা
মামলার শুনানিতে উঠে আসে, ২০১৮ সালে আবদুল রহিম তার বন্ধুর সঙ্গে একটি হজ ও ওমরাহভিত্তিক ভ্রমণ ব্যবসা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। চুক্তি অনুযায়ী, নতুন ব্যবসায় তাকে কোনো অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে না। বিনিময়ে তিনি বন্ধুর প্রতিষ্ঠানকে মসজিদগুলোর নির্মাণকাজ পেতে সহায়তা করবেন। পরে এসব কাজ থেকে অর্জিত মুনাফা নতুন প্রতিষ্ঠানের মূলধন হিসেবে ব্যবহার করার কথা ছিল।

দরপত্রে গোপন সহায়তা
একটি মসজিদের আঙিনা উন্নয়নকাজের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হলে বন্ধুর প্রতিষ্ঠান প্রথমে একটি মূল্যপ্রস্তাব জমা দেয়। পরে সংশোধিত প্রস্তাবে তারা আরও কম মূল্য উল্লেখ করে। সেই দরপত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবের চেয়ে কম হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কাজটি তাদের হাতে যায়।
তদন্তে জানা যায়, আবদুল রহিম ওই প্রতিষ্ঠানের দরপত্র মূল্য নির্ধারণে সক্রিয়ভাবে পরামর্শ দিয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্ভাব্য মূল্য সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছেন। মসজিদের পরিচালনা পর্ষদ এ বিষয়ে কিছুই জানত না।
আরেক মসজিদের ক্ষেত্রেও একই কৌশল
অন্য একটি মসজিদের ছাদ ও অভ্যর্থনা কক্ষসহ বিভিন্ন অংশের সংস্কারকাজের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। প্রথমে জমা দেওয়া দরপত্রের মূল্য পরে কমিয়ে আনা হয়। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে দেখা যায়, কাজটি নিশ্চিত করতে আবদুল রহিম নিজেই দরপত্রের মূল্য কমানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।

গোপন মালিকানা আড়াল করার চেষ্টা
পরবর্তীতে বন্ধুটি একটি নতুন ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্নীতির বিষয়টি আড়াল করতে আবদুল রহিম নিজের নামে শেয়ার না নিয়ে ছেলের নামে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ার বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিজের স্বার্থের বিষয়টি কর্মস্থলেও প্রকাশ করেননি।
তবে বিচার চলাকালে আবদুল রহিম দাবি করেন, ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তার আইনজীবী আদালতের কাছে কম সাজা দেওয়ার আবেদন জানান এবং উল্লেখ করেন যে তার বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।
আদালত যদিও উল্লেখ করেছে যে নির্মাণকাজগুলো সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছিল এবং মসজিদগুলোর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও সরকারি দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে দুর্নীতিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
আদালত তার জামিন ৩০ হাজার ডলার নির্ধারণ করেছে। আগামী ১০ জুলাই থেকে তার কারাদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















