ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ বাজেট এয়ারলাইন ইজিজেটকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে অধিগ্রহণের আলোচনা। মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ক্যাসললেক কয়েক সপ্তাহের জল্পনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি কেনার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ইজিজেট শুরুতে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও এখন আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। ফলে বিমান পরিবহন খাতে নতুন এক বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অধিগ্রহণ প্রস্তাব নিয়ে টানাপোড়েন
ক্যাসললেক প্রথমে ইজিজেটের জন্য কয়েকটি প্রস্তাব দিলেও সেগুলো গ্রহণ করেনি কোম্পানিটি। সর্বশেষ প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইজিজেটের দাবি, প্রতিষ্ঠানটিকে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম দামে কেনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবু পরিস্থিতির পরিবর্তনে দুই পক্ষ এখন আলোচনায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইজিজেটের বর্তমান শেয়ারমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও উন্নত প্রস্তাব এলে বিনিয়োগকারীরা তা গ্রহণ করতে পারেন।
কঠিন সময়ে বিমান খাত
বিশ্বজুড়ে বিমান পরিবহন শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ভ্রমণ চাহিদার অনিশ্চয়তা অনেক এয়ারলাইনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং জ্বালানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতিও খাতটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে অনেক এয়ারলাইন আর্থিক সংকটে পড়লেও ইজিজেট গত কয়েক বছরে তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করেছে। কোম্পানির আয় ও পরিচালন মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ছুটির ভ্রমণ বুকিং কমে যাওয়ায় এবং কম ভাড়ায় টিকিট বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
ইজিজেটে কী দেখছে ক্যাসললেক
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ক্যাসললেক হয়তো পুরো কোম্পানিটিকে দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনার জন্য কিনতে চায় না। বরং ইজিজেটের বিভিন্ন সম্পদের আলাদা মূল্যই তাদের মূল আকর্ষণ হতে পারে।
ইজিজেটের মালিকানাধীন শত শত এয়ারবাস উড়োজাহাজ, ভবিষ্যৎ সরবরাহের জন্য দেওয়া বড় অর্ডার এবং গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে অবতরণ ও উড্ডয়নের মূল্যবান স্লট প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় সম্পদগুলোর মধ্যে রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে এসব সম্পদের বাজারমূল্য আরও বেড়েছে।
মূল্যবান ছুটির ব্যবসা
শুধু বিমান পরিবহন নয়, ইজিজেটের ছুটির প্যাকেজ ব্যবসাও দ্রুত বেড়েছে। কয়েক বছর আগে চালু হওয়া এই বিভাগ এখন কোম্পানির মুনাফার একটি বড় অংশ এনে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রয়োজনে এই ব্যবসাকে আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবেও গড়ে তোলা সম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটন ও বিমান খাতের অন্যান্য বড় কোম্পানিও এতে আগ্রহ দেখাতে পারে।
ভাঙনের পথে কি ইজিজেট?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ইজিজেট কি একটি একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে থাকবে, নাকি এর বিভিন্ন সম্পদ আলাদা করে বিক্রি করা হবে। অনেকের ধারণা, ক্যাসললেকের লক্ষ্য হতে পারে কোম্পানির সম্পদগুলো আলাদা করে বেশি মূল্য আদায় করা।
তবে এমন প্রক্রিয়া সহজ নয়। একটি বড় এয়ারলাইনকে ভেঙে সম্পদ বিক্রি করতে দীর্ঘ সময়, বিপুল ব্যয় এবং নানা ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। বিমান খাতের অনিশ্চয়তার কারণে এই পরিকল্পনা সফল হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এখন বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের নজর ইজিজেট ও ক্যাসললেকের পরবর্তী আলোচনার দিকে। সেই আলোচনা ইউরোপের বিমান পরিবহন শিল্পের ভবিষ্যৎ চিত্র বদলে দিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















