০৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
ডলি পার্টনের মৃত্যু, ৮০ বছরেই থামল কিংবদন্তি সংগীতজীবন এ৬৬ সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত: সংঘবদ্ধ অপরাধের তদন্তে ১২ জন গ্রেপ্তার ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব, অন্টারিও হ্রদের নাম হতে পারে ‘আমেরিকা হ্রদ’ ডেভনে বন্ধ টাংস্টেন খনি ফের চালু করতে ৭১ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ ব্রিটিশ সরকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি গণিতের ভবিষ্যৎ শেষ করে দেবে? এখনই নয় ২৩ বছর পর ফিরছে ‘হাউ টু লুজ আ গাই ইন ১০ ডেজ’, প্রযোজনায় কেট হাডসন মাওয়ের ব্যঙ্গাত্মক ভাস্কর্য নির্মাণের দায়ে চীনা শিল্পীর তিন বছরের কারাদণ্ড সংস্কারের ভূত: অতীতের ভুল থেকে বেরিয়ে আসার কঠিন পরীক্ষা রাজনৈতিক প্রভাব কেনার বিল এবার বড় ব্যবসাকেই দিতে হবে প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার

শিশুখাদ্য ফর্মুলা কতটা উপকারী? বিজ্ঞাপনের দাবির সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক

শিশুখাদ্য ফর্মুলা আজ আর আগের মতো সাধারণ কোনো বিকল্প খাদ্য নয়। আধুনিক ফর্মুলা দুধে লৌহ, আয়োডিন, ভিটামিন ডিসহ নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান যোগ করা হয়, যা শিশুর সুস্থ বিকাশে সহায়ক। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব অতিরিক্ত উপকারিতার দাবি করে, তার সবকিছুর পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো মেলেনি।

বিভিন্ন ফর্মুলা পণ্যে প্রিবায়োটিক, প্রোবায়োটিক এবং দীর্ঘ শৃঙ্খলযুক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো উপাদান যোগ করা হচ্ছে। এসব উপাদান শিশুর মস্তিষ্ক, চোখ, স্নায়ুতন্ত্র ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার উন্নতি ঘটায় বলে প্রচার করা হয়। বিশেষ করে মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তার দাবি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

তবে গবেষকদের মতে, এসব দাবির পেছনে থাকা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সব সময় সমান শক্তিশালী নয়। অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে কোনো বৈজ্ঞানিক সূত্রই উল্লেখ করা হয় না। যেসব সূত্র দেওয়া হয়, তার মধ্যেও উল্লেখযোগ্য অংশে গবেষণার মান ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হয়।

Brain-Building Nutrition for Early Cognitive Development | Mead Johnson HCP

গবেষণায় কী বলছে

শিশুদের ওপর পরিচালিত একাধিক গবেষণার ফল একেবারে একমুখী নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত ফর্মুলা গ্রহণকারী শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ বা দৃষ্টিশক্তিতে উল্লেখযোগ্য বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়নি। এমনকি পরবর্তী জীবনে শিক্ষাগত সাফল্যের ক্ষেত্রেও বিশেষ পার্থক্য দেখা যায়নি।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় অল্প হলেও ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষ করে ডিএইচএ ও এআরএ সমৃদ্ধ ফর্মুলা গ্রহণকারী শিশুদের জ্ঞানীয় বিকাশে সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা হয়েছে। অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের উপাদান তুলনামূলক বেশি উপকার করতে পারে বলেও ধারণা করা হয়।

বুকের দুধের গুরুত্ব অটুট

বিশেষজ্ঞদের প্রধান উদ্বেগ হলো, আকর্ষণীয় ও আবেগনির্ভর বিপণন প্রচারণা অনেক সময় বুকের দুধের গুরুত্বকে আড়াল করে দেয়। অথচ বুকের দুধের উপকারিতা নিয়ে দীর্ঘদিনের গবেষণা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

Why breastfeeding is critical for babies | UNICEF

বুকের দুধ পান করা শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে। সাম্প্রতিক গবেষণায় হাঁপানি ও অ্যালার্জির হার কম হওয়ার সঙ্গেও এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে এটি পরিবারগুলোর জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

যেসব মা বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন না বা পর্যাপ্ত দুধ না পাওয়ায় ফর্মুলার সহায়তা নিতে হয়, তাদের জন্যও আশ্বস্ত করার মতো খবর রয়েছে। বর্তমান সময়ের অনুমোদিত ফর্মুলা দুধ নিরাপদ ও পুষ্টিকর। তবে এর কিছু বিপণন দাবি বিজ্ঞানের চেয়ে দ্রুত এগিয়ে গেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে শিশুখাদ্য ফর্মুলা শিশুদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প হতে পারে, কিন্তু এর অতিরঞ্জিত প্রচারণার বদলে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ডলি পার্টনের মৃত্যু, ৮০ বছরেই থামল কিংবদন্তি সংগীতজীবন

শিশুখাদ্য ফর্মুলা কতটা উপকারী? বিজ্ঞাপনের দাবির সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক

০২:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

শিশুখাদ্য ফর্মুলা আজ আর আগের মতো সাধারণ কোনো বিকল্প খাদ্য নয়। আধুনিক ফর্মুলা দুধে লৌহ, আয়োডিন, ভিটামিন ডিসহ নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান যোগ করা হয়, যা শিশুর সুস্থ বিকাশে সহায়ক। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব অতিরিক্ত উপকারিতার দাবি করে, তার সবকিছুর পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো মেলেনি।

বিভিন্ন ফর্মুলা পণ্যে প্রিবায়োটিক, প্রোবায়োটিক এবং দীর্ঘ শৃঙ্খলযুক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো উপাদান যোগ করা হচ্ছে। এসব উপাদান শিশুর মস্তিষ্ক, চোখ, স্নায়ুতন্ত্র ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার উন্নতি ঘটায় বলে প্রচার করা হয়। বিশেষ করে মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তার দাবি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

তবে গবেষকদের মতে, এসব দাবির পেছনে থাকা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সব সময় সমান শক্তিশালী নয়। অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে কোনো বৈজ্ঞানিক সূত্রই উল্লেখ করা হয় না। যেসব সূত্র দেওয়া হয়, তার মধ্যেও উল্লেখযোগ্য অংশে গবেষণার মান ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হয়।

Brain-Building Nutrition for Early Cognitive Development | Mead Johnson HCP

গবেষণায় কী বলছে

শিশুদের ওপর পরিচালিত একাধিক গবেষণার ফল একেবারে একমুখী নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত ফর্মুলা গ্রহণকারী শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ বা দৃষ্টিশক্তিতে উল্লেখযোগ্য বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়নি। এমনকি পরবর্তী জীবনে শিক্ষাগত সাফল্যের ক্ষেত্রেও বিশেষ পার্থক্য দেখা যায়নি।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় অল্প হলেও ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষ করে ডিএইচএ ও এআরএ সমৃদ্ধ ফর্মুলা গ্রহণকারী শিশুদের জ্ঞানীয় বিকাশে সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা হয়েছে। অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের উপাদান তুলনামূলক বেশি উপকার করতে পারে বলেও ধারণা করা হয়।

বুকের দুধের গুরুত্ব অটুট

বিশেষজ্ঞদের প্রধান উদ্বেগ হলো, আকর্ষণীয় ও আবেগনির্ভর বিপণন প্রচারণা অনেক সময় বুকের দুধের গুরুত্বকে আড়াল করে দেয়। অথচ বুকের দুধের উপকারিতা নিয়ে দীর্ঘদিনের গবেষণা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

Why breastfeeding is critical for babies | UNICEF

বুকের দুধ পান করা শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে। সাম্প্রতিক গবেষণায় হাঁপানি ও অ্যালার্জির হার কম হওয়ার সঙ্গেও এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে এটি পরিবারগুলোর জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

যেসব মা বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন না বা পর্যাপ্ত দুধ না পাওয়ায় ফর্মুলার সহায়তা নিতে হয়, তাদের জন্যও আশ্বস্ত করার মতো খবর রয়েছে। বর্তমান সময়ের অনুমোদিত ফর্মুলা দুধ নিরাপদ ও পুষ্টিকর। তবে এর কিছু বিপণন দাবি বিজ্ঞানের চেয়ে দ্রুত এগিয়ে গেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে শিশুখাদ্য ফর্মুলা শিশুদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প হতে পারে, কিন্তু এর অতিরঞ্জিত প্রচারণার বদলে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।