শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি বিষয় বারবার ফিরে এসেছে—সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সবাই স্বীকার করেছে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুহূর্তে সেই সংস্কারই পিছিয়ে গেছে। অর্থনীতিকে আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করার উদ্যোগ কখনো শুরু হয়েছে, আবার কখনো নির্বাচন, রাজনৈতিক সংঘাত, জনঅসন্তোষ কিংবা ক্ষমতাসীনদের স্বল্পমেয়াদি স্বার্থের কাছে থেমে গেছে। ২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট তাই কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা ছিল না; এটি দীর্ঘদিনের নীতিগত ব্যর্থতার পরিণতি।
আজ প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের নেতৃত্বাধীন সরকার সেই উত্তরাধিকার নিয়েই এগোচ্ছে। দেউলিয়াত্বের ধাক্কা কাটিয়ে দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মসূচির আওতায় অর্থনীতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। কিন্তু এই পথ শুধু অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার পরীক্ষা নয়। এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও পরীক্ষা—সরকার কি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তার ওপর অগ্রাধিকার দিতে পারবে?
সংস্কারের ধারাবাহিকতা কেন ভেঙেছে
১৯৭৭ সালে শ্রীলঙ্কা দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে আমদানি-নির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বাজার উন্মুক্তকরণ ও রপ্তানিমুখী নীতির দিকে অগ্রসর হয়েছিল। তখন দেশটির সামনে আঞ্চলিক অর্থনীতির অন্যতম সফল উদাহরণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং ধারাবাহিক নীতির।
তার বদলে দেশটি দীর্ঘ সময় ধরে গৃহযুদ্ধ, বিদ্রোহ ও রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে আটকে ছিল। সংঘাতের কারণে রাষ্ট্রীয় সম্পদের বড় অংশ নিরাপত্তা ব্যয়ে চলে যায়। যুদ্ধের বছরগুলোতে সামরিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। ফলে অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ সংকুচিত হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দেয় এবং বৈশ্বিক উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় শ্রীলঙ্কার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল করে।
শান্তির সময়েও আরেক ধরনের অস্থিরতা অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, করনীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচির দিক বদলেছে। নির্বাচনী সুবিধার জন্য কখনো এমন ব্যয় ও করছাড় দেওয়া হয়েছে, যার বিপরীতে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান ছিল না।
২০১৯ সালের শেষ দিকে গোটাবায়া রাজাপাকসের সরকারের বড় ধরনের করছাড় তার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। মূল্য সংযোজন কর ১৫ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশে নামানো এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর বাতিলের ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব দ্রুত কমে যায়। জিডিপির অনুপাতে কর আদায় ৮ শতাংশের নিচে নেমে যায়। এর ফলে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হয়, আন্তর্জাতিক রেটিং কমতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণবাজারে প্রবেশের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
ভুল নীতির আরেকটি উদাহরণ ছিল কৃষি খাতে হঠাৎ রাসায়নিক সার নিষিদ্ধ করা। ২০২১ সালের এই সিদ্ধান্তকে জৈব কৃষিতে দ্রুত রূপান্তরের উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এর অভিঘাত ছিল ব্যাপক। কৃষি উৎপাদন ও চা রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, খাদ্য আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ বাড়ে এবং গ্রামীণ কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংকটও একই সমস্যার অংশ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও বিমান পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বহু বছর ধরে দক্ষ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনার বদলে রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। লোকসানি প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কিংবা ব্যয় অনুযায়ী জ্বালানি মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ বারবার রাজনৈতিক চাপ, ধর্মঘট ও প্রতিবাদের মুখে আটকে গেছে।
এর ফল ছিল ক্রমবর্ধমান ঋণ, অর্থ ছাপিয়ে ব্যয় মেটানোর প্রবণতা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ। ২০২২ সালে যখন জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট তীব্র আকার ধারণ করে, তখন রাস্তায় মানুষের ক্ষোভ শুধু তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে জমে থাকা অসন্তোষের বিস্ফোরণ।
স্থিতিশীলতার মূল্য
রানিল বিক্রমসিংহের অন্তর্বর্তী প্রশাসন পরবর্তী সময়ে কর বৃদ্ধি, ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস, ব্যয়-সমন্বিত মূল্য নির্ধারণ এবং ঋণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে কিছুটা স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়। আইএমএফের ৩ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচিও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কিন্তু অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল্য সমাজকে কম দিতে হয়নি। দারিদ্র্য বেড়েছে, মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত আয় কমেছে এবং বিপুলসংখ্যক দক্ষ মানুষ বিদেশে চলে যাওয়ায় মানবসম্পদের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। এই সামাজিক ক্লান্তি ও রাজনৈতিক ক্ষোভের পরিবেশেই দিসানায়েকের উত্থান।
এখানেই বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বৈপরীত্য। যে রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেছে, তাকে এখন এমন একটি অর্থনীতি পরিচালনা করতে হচ্ছে, যেখানে আইএমএফ কর্মসূচির নির্ধারিত আর্থিক শৃঙ্খলা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত।
সরকারের বাস্তব পরীক্ষা
এখন পর্যন্ত দিসানায়েক সরকার আগের অবস্থানের তুলনায় বাস্তববাদী পথ বেছে নিয়েছে। আইএমএফ কর্মসূচি বাতিল না করে সরকার আর্থিক সংহতি বজায় রাখছে, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার আইনি কাঠামো মেনে চলছে এবং বহুপাক্ষিক পর্যালোচনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।
একই সঙ্গে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, সম্পদ ঘোষণার ব্যবস্থা, অপরাধলব্ধ অর্থ উদ্ধারের আইন প্রয়োগ এবং সরকারি ক্রয়ে রাজনৈতিক সুবিধাভোগের সুযোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ শুধু প্রশাসনিক সংস্কার নয়; এগুলো রাষ্ট্রের রাজস্ব ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অপচয় ও অনিয়ম কমানোরও চেষ্টা।
তবে সরকারের রাজনৈতিক ভিত্তির মধ্যেই চাপ রয়েছে। সরকারি কর্মচারী, শ্রমিক সংগঠন, শিক্ষার্থী এবং কৃষকসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী দ্রুত আয় বৃদ্ধি, মজুরি সমন্বয় ও করের বোঝা কমানোর প্রত্যাশা করছে। কিন্তু আইএমএফ কর্মসূচির অধীনে নির্ধারিত প্রাথমিক উদ্বৃত্তের লক্ষ্য এবং সামগ্রিক আর্থিক সীমাবদ্ধতা পূরণ করতে হলে বড় আকারের অপ্রতিশ্রুত ব্যয় করার সুযোগ সরকারের নেই।
এই বাস্তবতার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রত্যাশার সংঘাতই দিসানায়েক সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। কোনো একটি গোষ্ঠীর দাবিতে অতিরিক্ত ব্যয় করলে তা শুধু বাজেটের ওপর চাপ তৈরি করবে না; আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ধারাবাহিকতা ও বাজারের আস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো সংস্কার-অবসাদ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পুনর্গঠন, অপ্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সম্পদের পুনর্বিন্যাস এবং শ্রমবাজার আধুনিকীকরণের মতো পদক্ষেপ রাজনৈতিক প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারে। এই জায়গায় সরকার যদি বারবার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়, তাহলে শ্রীলঙ্কা আবার সেই পুরোনো পথেই ফিরবে—তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক স্বস্তির বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দুর্বলতা মেনে নেওয়া।
চাই স্থায়ী প্রতিষ্ঠান, শুধু নতুন সরকার নয়
এই চক্র ভাঙতে হলে দিসানায়েক সরকারকে শুধু বর্তমান সংকট সামলালেই হবে না; এমন প্রতিষ্ঠান ও আইন তৈরি করতে হবে, যা পরবর্তী সরকারগুলোর জন্যও নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
প্রথমত, আর্থিক ব্যবস্থাপনার আইনকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে কার্যকর রাখতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা এবং দায়িত্বশীল রাজস্ব ব্যবস্থাপনার নীতিকে সুরক্ষিত করা জরুরি। বিনিয়োগকারীরা শুধু আজকের সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চান না; তারা জানতে চান আগামী সরকারও একই অর্থনৈতিক কাঠামো অনুসরণ করবে কি না।
দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সংস্কারকে শুধু বেসরকারিকরণের বিতর্ক হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। লোকসানি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শেষ পর্যন্ত জনগণের অর্থই ব্যবহার করে। সরকারি সম্পদ যদি রাজনৈতিক নিয়োগ, অদক্ষতা ও পৃষ্ঠপোষকতার কেন্দ্র হয়ে ওঠে, তাহলে সেই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় করার সুযোগ কমে যায়।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যালঘু মালিকানা ছাড়ার মতো পদ্ধতি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ত্যাগ না করেও দক্ষতা ও বেসরকারি পুঁজি আনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তৃতীয়ত, করের হার বাড়িয়ে একই মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বারবার চাপ দেওয়ার বদলে করের আওতা বাড়াতে হবে। রাজস্ব বিভাগ, কাস্টমস এবং মোটরযান নিবন্ধনের মতো সরকারি তথ্যভাণ্ডার সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা গেলে অনানুষ্ঠানিক আয়ের বড় অংশকে কর কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হতে পারে। এতে করের ভিত্তি বাড়বে এবং ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সবশেষে প্রয়োজন জনসাধারণের সঙ্গে সৎ যোগাযোগ। শ্রীলঙ্কায় অতীতের সংস্কার ব্যর্থ হওয়ার একটি কারণ ছিল জনগণের কাছে কঠিন সিদ্ধান্তের অর্থ পরিষ্কারভাবে তুলে না ধরা। কৃচ্ছ্রসাধনকে কখনো গোপন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, কখনো এমন রাজনৈতিক ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে যা সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরি করতে পারেনি।
বর্তমান সরকারের জন্য এখানেই বড় সুযোগ। দিসানায়েককে জনগণকে বোঝাতে হবে যে আজকের কঠিন সিদ্ধান্ত কোনো বাইরের প্রতিষ্ঠানের চাপমাত্র নয়; দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের চেয়ে বেশি ব্যয় করার যে অভ্যাস তৈরি হয়েছে, তারই আর্থিক পরিণতি এখন বহন করতে হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোও জরুরি। সংস্কারের বোঝা যদি দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পড়ে, তাহলে অর্থনৈতিক কর্মসূচির সামাজিক ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যাবে।
শ্রীলঙ্কার সামনে আর আগের মতো সুযোগ নেই
শ্রীলঙ্কার ইতিহাস দেখিয়েছে, সংস্কার শুরু করা যতটা কঠিন, তা রাজনৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখা তার চেয়েও কঠিন। বারবার সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে নীতি বদলেছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেমেছে এবং ঋণনির্ভর ভোগব্যয়কে কাঠামোগত সংস্কারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেই পথই ২০২২ সালের সংকটকে অনিবার্য করে তুলেছিল।
দিসানায়েকের সামনে তাই দায়িত্ব শুধু একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সাময়িকভাবে স্থিতিশীল করা নয়। তাকে এমন একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি বদলাতে হবে, যেখানে জনপ্রিয়তার জন্য অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা আর সম্ভব হবে না।
বর্তমান সরকার যদি রাজনৈতিক দ্বিধায় পড়ে সংস্কার পিছিয়ে দেয়, তাহলে অতীতের ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি হবে। আর যদি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে এবং সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে কঠিন সংস্কারের ভারসাম্য তৈরি করতে পারে, তাহলে ২০২২ সালের বিপর্যয় একটি নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়ে উঠতে পারে।
শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যে বহুবার অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি শুনেছে। এখন প্রয়োজন আরেকটি প্রতিশ্রুতি নয়, এমন একটি সংস্কার প্রক্রিয়া যা পরবর্তী সরকারও সহজে উল্টে দিতে পারবে না। দিসানায়েক সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখানেই—সংকট সামলানো নয়, বরং সেই রাজনৈতিক অভ্যাস বদলানো, যা বারবার সংস্কারকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়েছে।
দামিথ 


















