ব্রিটেনের ডেভনে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হেমারডন টাংস্টেন ও টিনের খনি আবার চালু করতে সরকারি অর্থায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খনিটির উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে সর্বোচ্চ ৭১ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করবে ব্রিটিশ সরকারের জাতীয় সম্পদ তহবিল।
প্লাইমাউথের কাছে অবস্থিত হেমারডন খনিটিকে বিশ্বের অন্যতম বড় টাংস্টেনের মজুত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইস্পাত, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, মহাকাশ প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে টাংস্টেনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, খনিতে উৎপাদিত টাংস্টেনের অন্তত অর্ধেক দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সংরক্ষিত থাকবে।
বিনিয়োগের বড় অংশ যাবে খনি পুনরায় চালু করতে
ঘোষিত অর্থের মধ্যে ৩৬ মিলিয়ন পাউন্ড সরাসরি মালিকানা বিনিয়োগ হিসেবে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড ঋণ দেওয়া হবে। এই অর্থ ব্যবহার করে খনিটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু এবং উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের অর্থমন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে দেশের নিজস্ব শিল্প ও গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা আগের চেয়ে বেশি জরুরি। তাঁর মতে, এই বিনিয়োগ ব্রিটেনকে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দেবে।

জাতীয় সম্পদ তহবিলের প্রধান নির্বাহী অলিভার হলবর্ন বলেন, হেমারডনে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টাংস্টেনের মজুত রয়েছে। প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, উন্নত জ্বালানি প্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিক শিল্পে টাংস্টেনের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।
২০২৭ সালে পূর্ণ উৎপাদনের লক্ষ্য
খনিটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, আগে থেকেই সেখানে থাকা অবকাঠামো এবং অতীতে চালু থাকা খনির সুবিধার কারণে নতুন করে বড় অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজন তুলনামূলক কম। ফলে কম খরচে দ্রুত উৎপাদনে ফেরার সুযোগ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জেফ কোর্ট জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে খনিটিকে পূর্ণমাত্রার উৎপাদনে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে এই খনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং সরাসরি ও পরোক্ষভাবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ এই ধাতুর সরবরাহ ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থকে দীর্ঘমেয়াদে সমর্থন করতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ খনিজে ব্রিটেনের নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ
ব্রিটিশ সরকারের ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস এই অর্থায়নকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতের প্রতি সরকারের আস্থার বড় প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে ডেভনে দক্ষ কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি ব্রিটেনের শিল্পভিত্তি পুনর্গঠনের পরিকল্পনাও এগিয়ে যাবে।
জাতীয় সম্পদ তহবিল এর আগে দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে টিনের খনি পুনরায় চালুর জন্য অর্থায়ন করেছিল। এবার ডেভনের হেমারডন খনিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্রিটেন দেশীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উৎপাদন বাড়ানোর আরও একটি পদক্ষেপ নিল।
বিশ্বজুড়ে সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং প্রতিরক্ষা ও উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বাড়তি চাহিদার মধ্যে হেমারডন খনি পুনরায় চালু হলে ব্রিটেনের কৌশলগত খনিজ সরবরাহে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















