টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা শতাধিক ঐতিহাসিক নিদর্শন নিলামে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক। মার্কিন সরকার ও সংরক্ষণবিদদের আপত্তির পর সোমবার এই নির্দেশ দেন নরফোকের মার্কিন জেলা বিচারক রেবেকা বিচ স্মিথ।
নিলামে উঠতে যাওয়া নিদর্শনের মধ্যে ছিল রত্নখচিত গয়না, টেবিলের বাসনপত্র এবং টাইটানিকের জাঁকজমকপূর্ণ সিঁড়িতে একসময় থাকা একটি ব্রোঞ্জের দেবদূত মূর্তি। কয়েক দশক আগে গভীর সমুদ্র অভিযানে এসব সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল।
আদালতের অনুমোদন ছাড়া বিক্রি নয়
টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের একচেটিয়া অধিকার থাকা RMS Titanic চলতি বছরের শুরুতে এসব নিদর্শনের মধ্যে ১০০টির বেশি নিলামে তোলার প্রস্তাব দেয়। কোম্পানিটির দাবি ছিল, বিক্রির জন্য নির্ধারিত সামগ্রী আদালতের এখতিয়ারের আওতাভুক্ত নয়।
তবে বিচারক স্মিথ এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব নিদর্শন বিক্রি করতে হলে আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। একই সঙ্গে RMS Titanic-এর সংগ্রহে থাকা নিদর্শনগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
নিদর্শনের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ
আদালতের আদেশে কোম্পানিকে উদ্ধার করা নিদর্শনগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং প্রতিটির বর্তমান অবস্থা আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। বিচারক কোম্পানিটির আর্থিক সমস্যার কথাও উল্লেখ করেছেন এবং এর কারণে সংগ্রহে থাকা ঐতিহাসিক সামগ্রীর যথাযথ সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
টাইটানিকের এসব নিদর্শন শুধু বাণিজ্যিক মূল্য নয়, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বও বহন করে। ফলে এগুলো ব্যক্তিগত মালিকানায় চলে গেলে সংরক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন উদ্বেগ থেকেই নিলাম পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আপত্তি ওঠে।
সরকার ও ইতিহাসবিদদের আপত্তি
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) নিলামের বিরোধিতা করেছে। ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের পাশাপাশি ফ্রান্স সরকারও এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। উদ্ধার অভিযানে ফ্রান্সও অংশ নিয়েছিল।
আদালতের রায়ের পর RMS Titanic-এর একজন আইনজীবী ই-মেইলে জানিয়েছেন, কোম্পানি সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনা করবে এবং এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে। অন্যদিকে, রায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি NOAA।
১৯১২ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া টাইটানিক বিশ্বের অন্যতম আলোচিত জাহাজডুবির ঘটনা। সেই দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত উদ্ধার করা সামগ্রী নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মালিকানা, সংরক্ষণ এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের প্রশ্নে বিতর্ক রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















