১০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার টাইটানিকের শতাধিক নিদর্শন নিলাম বন্ধ করলেন মার্কিন বিচারক আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই সীমাহীন মূল্যের চুক্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ মহেশখালীর সাগরে নিউজিল্যান্ডের পরিবারের নৌকাডুবি, নিখোঁজ কিশোর চীনের জে-১০ সিই কিনছে বাংলাদেশ ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৯০৭; মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৮ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, দেশজুড়ে নানা আয়োজন ঢাকা-যশোর রুটে আবার ইউএস-বাংলার ফ্লাইট, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন দুই ট্রিপ মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন, মূলধন শক্তিশালী হবে প্রিন্স হ্যারি–মেগানের নতুন ব্রিটেনযাত্রা, পেছনে পড়ে থাকবে আর্চির প্রিয় ‘মুরগির বাড়ি’

আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই সীমাহীন মূল্যের চুক্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ

দেশের আমদানি ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করতে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯’ জারি করেছে সরকার। নতুন নীতিতে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য, ব্যবসায়ীদের জন্য নীতিগত স্বচ্ছতা এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে। ‘ইমপোর্টস অ্যান্ড এক্সপোর্টস (কন্ট্রোল) অ্যাক্ট, ১৯৫০’-এর ৩(১) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা নীতিটি ২০২৬ সাল থেকে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

আমদানি প্রক্রিয়ায় বড় ছাড়

নতুন নীতির অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো পণ্যের মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ। এখন ঋণপত্র বা এলসি খোলার পাশাপাশি কোনো মূল্যসীমা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা।

আগের ২০২১–২০২৪ সালের নীতিতেও এলসি ছাড়া চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ ছিল। তবে পণ্য ও খাতভেদে বিভিন্ন সীমা ও শর্ত প্রযোজ্য ছিল। নতুন নীতিতে সেই সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।

মোটরসাইকেল আমদানিতেও পরিবর্তন

নতুন নীতিতে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় সর্বোচ্চ ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগের নীতিতে ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতার সম্পূর্ণ তৈরি মোটরসাইকেল আমদানিতে বিধিনিষেধ ছিল। ফলে নতুন ব্যবস্থায় তুলনামূলক উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ বাড়ল।

ফ্রি ট্রেড জোন ও বন্ডেড ওয়্যারহাউজ

আমদানি নীতিতে ফ্রি ট্রেড জোন এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে রফতানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে এফটিএ, সেপা ও ইপিএসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির আওতায় সুবিধা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে শুল্ক সুবিধা গ্রহণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পণ্যের উৎস ও আন্তর্জাতিক মানে গুরুত্ব

নতুন নীতিতে পণ্যের উৎপত্তি দেশ বা ‘কান্ট্রি অব অরিজিন’ নির্ধারণের বিষয়টি আরও সুসংগঠিত করা হয়েছে। এতে পণ্যের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির আওতায় প্রাপ্য সুবিধা গ্রহণ সহজ হবে।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান ও কারিগরি বিধিমালা অনুসরণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। টেকনিক্যাল ব্যারিয়ার্স টু ট্রেড, কোডেক্স অ্যালিমেন্টেরিয়াস এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের মানদণ্ড অনুসরণের বিষয় নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিনিয়োগ ও রফতানিমুখী শিল্পে সুবিধা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্পে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রফতানি বহুমুখীকরণ ও উচ্চমূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে রফতানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণ আমদানির সুযোগও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও এসব সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নতুন নীতিতে তাই শুধু আমদানি নিয়ন্ত্রণ নয়, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, রফতানি সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসাবান্ধব কাঠামো গড়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন হলে শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আমদানি সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রফতানি সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার

আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই সীমাহীন মূল্যের চুক্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ

০৯:২৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

দেশের আমদানি ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করতে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯’ জারি করেছে সরকার। নতুন নীতিতে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য, ব্যবসায়ীদের জন্য নীতিগত স্বচ্ছতা এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে। ‘ইমপোর্টস অ্যান্ড এক্সপোর্টস (কন্ট্রোল) অ্যাক্ট, ১৯৫০’-এর ৩(১) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা নীতিটি ২০২৬ সাল থেকে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

আমদানি প্রক্রিয়ায় বড় ছাড়

নতুন নীতির অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো পণ্যের মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ। এখন ঋণপত্র বা এলসি খোলার পাশাপাশি কোনো মূল্যসীমা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা।

আগের ২০২১–২০২৪ সালের নীতিতেও এলসি ছাড়া চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ ছিল। তবে পণ্য ও খাতভেদে বিভিন্ন সীমা ও শর্ত প্রযোজ্য ছিল। নতুন নীতিতে সেই সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।

মোটরসাইকেল আমদানিতেও পরিবর্তন

নতুন নীতিতে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় সর্বোচ্চ ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগের নীতিতে ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতার সম্পূর্ণ তৈরি মোটরসাইকেল আমদানিতে বিধিনিষেধ ছিল। ফলে নতুন ব্যবস্থায় তুলনামূলক উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ বাড়ল।

ফ্রি ট্রেড জোন ও বন্ডেড ওয়্যারহাউজ

আমদানি নীতিতে ফ্রি ট্রেড জোন এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে রফতানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে এফটিএ, সেপা ও ইপিএসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির আওতায় সুবিধা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে শুল্ক সুবিধা গ্রহণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পণ্যের উৎস ও আন্তর্জাতিক মানে গুরুত্ব

নতুন নীতিতে পণ্যের উৎপত্তি দেশ বা ‘কান্ট্রি অব অরিজিন’ নির্ধারণের বিষয়টি আরও সুসংগঠিত করা হয়েছে। এতে পণ্যের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির আওতায় প্রাপ্য সুবিধা গ্রহণ সহজ হবে।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান ও কারিগরি বিধিমালা অনুসরণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। টেকনিক্যাল ব্যারিয়ার্স টু ট্রেড, কোডেক্স অ্যালিমেন্টেরিয়াস এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের মানদণ্ড অনুসরণের বিষয় নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিনিয়োগ ও রফতানিমুখী শিল্পে সুবিধা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্পে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রফতানি বহুমুখীকরণ ও উচ্চমূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে রফতানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণ আমদানির সুযোগও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও এসব সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নতুন নীতিতে তাই শুধু আমদানি নিয়ন্ত্রণ নয়, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, রফতানি সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসাবান্ধব কাঠামো গড়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন হলে শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আমদানি সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রফতানি সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।