পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী বুধবার যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদায় সারা দেশে পালিত হবে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত স্মরণে আয়োজিত এ উপলক্ষে সরকার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
দিনটি উপলক্ষে সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থানও জাতীয় ও বর্ণিল পতাকা এবং কালেমা তাইয়্যিবাসংবলিত ব্যানার দিয়ে সাজানো হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নানা কর্মসূচি
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কিরাত, নাত পরিবেশন, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং আরবি খুতবা লেখার প্রতিযোগিতা।
এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ প্লাজায় মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলার আয়োজন করা হবে। ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। সংবাদপত্রগুলোও এ উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে।
বিদেশেও পালিত হবে দিবসটি
বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোও যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করবে।
এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিমদের ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির বাণীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানবিক মর্যাদার প্রতি তাঁর আদর্শের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অনাথ, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নারী, শিশু, প্রতিবেশী ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে মহানবীর নির্দেশনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, যুদ্ধ, সংঘাত, সহিংসতা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতায় বিপর্যস্ত বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবতার শিক্ষা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রাসঙ্গিক। তিনি মহানবীর আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সহিংসতা, ঘৃণা, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সমতা ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানান।
মহানবীর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষার অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মহানবীর জীবনকে পবিত্র কোরআনের শিক্ষার জীবন্ত প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে সততা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও দানের অনন্য দৃষ্টান্তের কথা বলেন।
জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভাজন অতিক্রম করে মহানবী মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বের চলমান যুদ্ধ, সংঘাত, সহিংসতা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে মহানবীর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবতার শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি এসব আদর্শ ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ধারণ করার আহ্বান জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















