ব্রিটেনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। তবে এবারও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোর বাড়ি পুরোপুরি ছেড়ে যাচ্ছেন না তারা। সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটের নতুন শিক্ষাজীবনকে সামনে রেখে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ব্রিটেনে থাকার পরিকল্পনা করছেন এই দম্পতি বলে জানা গেছে।
স্থায়ীভাবে নয়, সাময়িকভাবে ব্রিটেনে
রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ২০২১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে নিজেদের বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস শুরু করেন হ্যারি ও মেগান। এবার ব্রিটেনে ফিরলেও সেখানে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সময় তারা কটসওল্ডসের একটি ব্যক্তিগত আবাসনে থাকতে পারেন। তবে তাদের ক্যালিফোর্নিয়ার বাড়িটি আগের মতোই নিজেদের কাছে রাখবেন তারা।
আর্চির প্রিয় জায়গাটি পড়ে থাকবে ক্যালিফোর্নিয়ায়
ব্রিটেনে যাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পোষা কুকুর মিয়া ও পুলাকেও সঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মন্টেসিটোর বাড়িতে থাকা মুরগিগুলোকে সঙ্গে নেওয়া হবে না।
সেখানেই থেকে যাবে মেগানের তৈরি বিশেষ মুরগির ঘর, যার আদুরে নাম ‘আর্চির চিক ইন’। হ্যারি ও মেগানের তথ্যচিত্রেও এই জায়গাটি দেখা গিয়েছিল। পরিবারের ব্যক্তিগত জীবনের নানা স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই ছোট্ট মুরগির ঘরটি তাই তাদের ক্যালিফোর্নিয়ার জীবনের একটি পরিচিত অংশ হয়ে উঠেছে।
তাদের অনুপস্থিতিতে বাড়ির কর্মীরা মুরগিগুলোর দেখভাল করবেন এবং পুরো সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ চালিয়ে যাবেন বলে জানা গেছে।

মায়ের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রেই
হ্যারি ও মেগান ব্রিটেনে অবস্থান করলেও মেগানের মা ডোরিয়া র্যাগল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রেই থাকার কথা রয়েছে। ফলে পরিবারের সবাই একসঙ্গে ব্রিটেনে থাকবেন না।
অন্যদিকে, দম্পতির যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির পাশাপাশি পর্তুগালে থাকা ছুটির বাড়িটিও তারা নিজেদের কাছে রাখবেন। নিয়মিত দুই জায়গাতেই যাতায়াতের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
ব্রিটেনে ফেরার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত
হ্যারি-মেগানের ব্রিটেনযাত্রা নিয়ে নানা আলোচনা হলেও তাদের অবস্থানের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো নিশ্চিত নয়। ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত তারা যুক্তরাজ্যে থাকতে পারেন—এমন খবর থাকলেও স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাস করবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
সব মিলিয়ে তাদের পরিকল্পনা আপাতত স্থায়ী প্রত্যাবর্তনের চেয়ে সাময়িক পারিবারিক অবস্থানের দিকেই ইঙ্গিত করছে। তবে সন্তানদের শিক্ষাজীবন, রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে তাদের সম্পত্তি—সবকিছু মিলিয়ে এই প্রত্যাবর্তন ভবিষ্যতে নতুন কোনো সিদ্ধান্তের পথ খুলে দেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















