০৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে বাগান থেকে বদলাবে খাবারের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত ফিরোজা বেগমের মৃত্যু পশ্চিমা আধিপত্য: বিশ্বকল্যাণের নেতৃত্ব, নাকি বৈষম্যের স্থায়ী কাঠামো? ভারতের প্রথম ভূ-সমলয় কক্ষপথের উপযোগী পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ উৎক্ষেপণ পেঙ্গুইনের সঙ্গে বিরোধের পর সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা প্রকাশ করবে হার্পারকলিন্স পাঞ্জাবে ভূগর্ভস্থ পানির ভয়াবহ সংকট, যতটা মজুত তার চেয়ে ৫২ শতাংশ বেশি উত্তোলন

দিল্লি ছেড়ে আহমেদাবাদে বুদ্ধিজীবীদের নতুন ঠিকানা, কেন বদলাচ্ছে ভারতের চিন্তার মানচিত্র?

দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বুদ্ধিবৃত্তিক, একাডেমিক ও নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল দিল্লি। স্বাধীনতার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আর্কাইভ ও প্রকাশনা সংস্থাগুলোর বড় অংশ গড়ে ওঠে রাজধানীকেন্দ্রিক। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই চিত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। অনেক গবেষক, শিক্ষাবিদ ও নীতি বিশ্লেষক দিল্লি ছেড়ে নতুন কর্মপরিবেশের খোঁজে চলে যাচ্ছেন গুজরাটের আহমেদাবাদে।

মতপ্রকাশের সংকুচিত পরিসর

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিসর সংকুচিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক পরিবর্তন, গবেষণা তহবিলের সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত চাপের কারণে অনেক গবেষক নিজেদের কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বহু গবেষক নতুন সুযোগের সন্ধানে অন্য শহর বা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার নতুন ও নিরপেক্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

In India, Peaceful Expression is Silenced by Law

কেন আকর্ষণের কেন্দ্র আহমেদাবাদ

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে আলোচিত গন্তব্যগুলোর একটি হয়ে উঠেছে আহমেদাবাদ। ভারতের রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজ্যের প্রধান শহর হওয়া সত্ত্বেও, সেখানে কর্মরত অনেক শিক্ষাবিদ মনে করছেন যে গবেষণা ও একাডেমিক কাজ পরিচালনার জন্য তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পরিবেশ পাওয়া যাচ্ছে।

শহরটিতে ব্যবস্থাপনা, নকশা, নগর পরিকল্পনা এবং উচ্চশিক্ষার বেশ কয়েকটি খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে তুলনামূলক স্বাধীনতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অনেকের অভিমত। ফলে দিল্লি থেকে যাওয়া শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের একটি অংশ সেখানে নিজেদের কাজ নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেল

আহমেদাবাদের পরিচয় শুধু শিল্প ও বাণিজ্যনির্ভর নয়। শহরটির ইতিহাসে সামাজিক সংস্কার, শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের পৃষ্ঠপোষকতায় বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

Heritage City' Ahmedabad Was Built Through Violence and Exclusion - The Wire

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ও শহরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বিভিন্ন সময়ে সমাজ সংস্কার ও শিক্ষার প্রসারে স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এখনও উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে শহরটির প্রভাব বজায় রয়েছে।

সব সমস্যার সমাধান নয়

তবে বিশ্লেষকদের মতে, আহমেদাবাদকে সম্পূর্ণ স্বাধীন চিন্তার দুর্গ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গণমাধ্যম ও জনপরিসরে মতপ্রকাশের নানা সীমাবদ্ধতা এখনও বিদ্যমান। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের জন্যও পরিস্থিতি সবসময় সহজ নয়।

তারপরও অনেক গবেষক মনে করেন, তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করার জন্য শহরটি একটি কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে থেকে গবেষণা ও একাডেমিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

ভারতের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে এই পরিবর্তন দেশটির উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। দিল্লির দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র প্রভাবের পাশাপাশি এখন আহমেদাবাদও ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ এক জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প

দিল্লি ছেড়ে আহমেদাবাদে বুদ্ধিজীবীদের নতুন ঠিকানা, কেন বদলাচ্ছে ভারতের চিন্তার মানচিত্র?

১২:৫৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বুদ্ধিবৃত্তিক, একাডেমিক ও নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল দিল্লি। স্বাধীনতার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আর্কাইভ ও প্রকাশনা সংস্থাগুলোর বড় অংশ গড়ে ওঠে রাজধানীকেন্দ্রিক। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই চিত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। অনেক গবেষক, শিক্ষাবিদ ও নীতি বিশ্লেষক দিল্লি ছেড়ে নতুন কর্মপরিবেশের খোঁজে চলে যাচ্ছেন গুজরাটের আহমেদাবাদে।

মতপ্রকাশের সংকুচিত পরিসর

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিসর সংকুচিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক পরিবর্তন, গবেষণা তহবিলের সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত চাপের কারণে অনেক গবেষক নিজেদের কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বহু গবেষক নতুন সুযোগের সন্ধানে অন্য শহর বা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার নতুন ও নিরপেক্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

In India, Peaceful Expression is Silenced by Law

কেন আকর্ষণের কেন্দ্র আহমেদাবাদ

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে আলোচিত গন্তব্যগুলোর একটি হয়ে উঠেছে আহমেদাবাদ। ভারতের রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজ্যের প্রধান শহর হওয়া সত্ত্বেও, সেখানে কর্মরত অনেক শিক্ষাবিদ মনে করছেন যে গবেষণা ও একাডেমিক কাজ পরিচালনার জন্য তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পরিবেশ পাওয়া যাচ্ছে।

শহরটিতে ব্যবস্থাপনা, নকশা, নগর পরিকল্পনা এবং উচ্চশিক্ষার বেশ কয়েকটি খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে তুলনামূলক স্বাধীনতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অনেকের অভিমত। ফলে দিল্লি থেকে যাওয়া শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের একটি অংশ সেখানে নিজেদের কাজ নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেল

আহমেদাবাদের পরিচয় শুধু শিল্প ও বাণিজ্যনির্ভর নয়। শহরটির ইতিহাসে সামাজিক সংস্কার, শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের পৃষ্ঠপোষকতায় বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

Heritage City' Ahmedabad Was Built Through Violence and Exclusion - The Wire

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ও শহরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বিভিন্ন সময়ে সমাজ সংস্কার ও শিক্ষার প্রসারে স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এখনও উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে শহরটির প্রভাব বজায় রয়েছে।

সব সমস্যার সমাধান নয়

তবে বিশ্লেষকদের মতে, আহমেদাবাদকে সম্পূর্ণ স্বাধীন চিন্তার দুর্গ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গণমাধ্যম ও জনপরিসরে মতপ্রকাশের নানা সীমাবদ্ধতা এখনও বিদ্যমান। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের জন্যও পরিস্থিতি সবসময় সহজ নয়।

তারপরও অনেক গবেষক মনে করেন, তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করার জন্য শহরটি একটি কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে থেকে গবেষণা ও একাডেমিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

ভারতের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে এই পরিবর্তন দেশটির উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। দিল্লির দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র প্রভাবের পাশাপাশি এখন আহমেদাবাদও ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ এক জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করছে।